চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সংবাদ মাধ্যমের সামনে আমাকে সতর্ক থাকতে বলেছেন: অভিজিৎ

‘আমাকে মোদি বিরোধী প্রমাণ করতে কীভাবে সংবাদ মাধ্যম ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মজা করেছেন এবং মজা করে তিনি আমাকে সংবাদ মাধ্যমের সামনে সতর্ক থাকতে বলেছেন’

মঙ্গলবার নোবেলবিজয়ী ভারতীয় বাঙালি অভিজিৎ বন্দ্যেপাধ্যায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এ মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, তিনি কোনো বিতর্কে জড়াতে চান না। কারণ, এই বিষয়ে সাবধান থাকতে তাকে আগেই প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে দিয়েছেন।

অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ভালো ছিলো। বৈঠকে মোদি বিরোধী বলে আমাকে কীভাবে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করা হয় তা নিয়ে তিনি মজা করেন।

“তিনি টিভি দেখছেন। আপনাদেরকেও দেখছেন এবং তিনি জানেন যে আপনারা কী করার চেষ্টা করছেন” সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে মজা করে বলেন অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়।

ভারতের অর্থনৈতিক মন্দা বিষয়ে তার মন্তব্য এবং নোবেল পাওয়ার পর তাকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে এসব কথা বলেন অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ বলেন, ভারতের ব্যাংকিং ব্যবস্থা সত্যি সঙ্কটময় এবং ভীতিজনক। আমাদের এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। এর জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি পরিবর্তন প্রয়োজন।

এসময় অভিজিত কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশনের (সিভিসি)’র তীব্র সমালোচনা করেন।

মানব উন্নয়ন সূচকে ভারতের অধঃপতনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকার করে তিনি বলেন, এই ক্ষেত্রে আমার কোনো অবদান নেই। সুতরাং আমি এমন কিছু নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না যাতে আমি জড়িত নই।

“প্রধানমন্ত্রী যেভাবে দেশে শাসন পরিচালনা করছেন সে সম্পর্কেও কথা বলেছেন আমার সঙ্গে। তার জন্য ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রী। এটি একটি অনন্য অভিজ্ঞতা ছিলো”-যোগ করেন অভিজিৎ।

অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এর সঙ্গে সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইট করেছেন। তিনি লিখেছেন, নোবেল বিজয়ী অভিজিতের সঙ্গে দুর্দান্ত সাক্ষাত হয়েছে। মানব ক্ষমতায়নের প্রতি তার অনুরাগ স্পষ্টভাবে বোঝা গেছে। বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ভারত তার কৃতিত্বের জন্য গর্বিত। ভবিষ্যতের প্রচেষ্টার জন্য তাকে শুভেচ্ছা জানাই।

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির ভারতীয়-আমেরিকান অধ্যাপক অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, ফ্রান্সের নারী অর্থনীতিবিদ এসথার ডাফলো এবং আরেকজন তরুণ অর্থনীবিদি মাইকেল ক্রেমার যৌথভাবে ‘বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য বিমোচনে পরীক্ষামূলক পদ্ধতির জন্য’ ২০১৯ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। এর মধ্যে ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী অর্থনীতিবিদ হিসেবে নোবেল জিতলেন ডাফলো। তিনি আবার সম্পর্কে অভিজিৎ এর স্ত্রী। তারা একত্রে গবেষণাকর্ম পরিচালনা করেন।

Bellow Post-Green View