চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ষোল কোটি মানুষকে খুশি করার দায়িত্ব আমার না: সোহানা সাবা  

‘‘আমার কাছে মানবিকতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। আমি যেটা বিশ্বাস করি, যেটা আমার মনে হয়- সেটা আমি স্পষ্টভাবে বলি’’

দেশের মেধাবী অভিনেত্রীদের একজন সোহানা সাবা। আয়না, চন্দ্রগ্রহণ, খেলাঘর কিংবা প্রিয়তমেষুর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে যেমন দেশীয় দর্শকদের মনে শক্ত ভিত গড়েছেন, তেমনি ‘ষড়রিপু’র মতো সিনেমা দিয়ে কলকাতার দর্শকদের মনেও জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। কাজ করেছেন ক্যামেরার পিছনেও। একাধিক সিনেমায়। কস্টিউম ডিজাইনার থেকে শুরু করে প্রডিউসিং কিংবা চিত্রনাট্য তৈরী! অভিনেত্রী পরিচয়টিই ছাপিয়ে গেছে সবকিছুকে!

তবে এবার তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি নিয়মিত কাজ করতে চান ক্যামেরার পেছনেও। রাখতে চান সিগনেচার! এরইমধ্যে নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা ‘খামার বাড়ি’ থেকে তার লেখা গল্প ও চিত্রনাট্যে নির্মিত হয়েছে ওয়েব সিরিজ ‘টুইন রিটার্নস’। হাতে আছে বিস্তর পরিকল্পনা। গেল সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এই অভিনেত্রী কাজ নিয়ে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার পাশাপাশি চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে কথা বলেছেন ব্যক্তিগত জীবনের কিছু অংশ নিয়েও:

কাজকর্মে নিয়মিত হচ্ছেন, এটা একটা ভালো বিষয়…
কাজ করে অনেকদিন আরাম পাচ্ছিলাম না, এখন কিছু কাজ করার চেষ্টা করছি। একটু বুঝে শুনে এবং আমার জন্য কমফর্টেবল হয়, সে কাজগুলো করতে চাইছি এবং করছি।

বিজ্ঞাপন

ক্যামেরার পেছনে আপনি নতুন নয়, আগেও কাজ করেছেন। এবারের কী পরিকল্পনা? 
হ্যাঁ, এটা সত্য। ক্যামেরার পেছনের অভিজ্ঞতা আমার জন্য নতুন নয়। তবে অভিনেত্রী পরিচয়ের বাইরে সেই পরিচয়গুলো কিছুটা চাপা পড়ে যেত। সেগুলো নিয়ে বলতেও চাইছি না এখন। শুধু আমার কাছে মনে হয় এত বছর ধরে আমরা কাজ করছি, আমাদের এক্সপেরিয়েন্সের লেভেল নতুন অন্য আর দশজনের থেকে অবশ্যই একটু বেশি। নির্মাণ সংক্রান্ত অনেক ইন্টার্নাল বিষয় আমরা এখন অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পারি। তাছাড়া এই মাধ্যমে যারা কাজ করেন তারা কোনো না কোনোভাবে ক্রিয়েটিভ। প্র্যাকটিসের মধ্যে থাকতে থাকতে ক্রিয়েটিভিটি কাজ করে। সেই জায়গা থেকে আমার মনে হচ্ছে এখন নিজের মতো কিছু প্রোডাকশন করা উচিত। এমন ভাবনা থেকে কাজ শুরু করেছি। আমার ‘খামার বাড়ি’ প্রোডাকশন থেকে প্রথম ওয়েব সিরিজ  ‘টুইন রিটার্নস’ রিলিজ হয়েছে, সেটা মানুষজন পছন্দ করেছেন। তারচেয়ে বড় কথা আমি যেটা করতে চেয়েছি, সেটার কাছাকাছি আউটপুট পেয়েছি। সামনে আমার সিনেমা ‘জয়িতা’ সেটার কাজ খুব তাড়াতাড়ি শুরু করব।

ছবি: আরিফ আহমেদ

জয়িতার গল্প কি আপনার?
মূল গল্পটা নির্মাতা শামীম আহমেদ রনীর। আমরা দুজন মিলে এটাকে দাঁড় করিয়েছি, ও এটার সুপারভাইজিং করছে। রনীর আন্ডারে সবকিছু হচ্ছে। এছাড়া এ বছরেই আমি নিজে একটা সিনেমার ডিরেকশন দেয়ার কথা আছে। সেটা নিয়েই আমি প্রচুর পড়াশোনা করছি, প্রচুর মানুষের সাথে কথা বলছি। ছবির গল্পটা আমার ইন্টারেস্টিং এরিয়ার। সাবজেক্ট যদিও আমি এখন বলবো না। আমি খুব মনোযোগ দিয়ে কাজটা করতে চাইছি।

এটা কি আপনার নিজের গল্প?
গল্পটা আমি দাঁড় করানোর চেষ্টা করছি। সেটা নিয়েই সবার সাথে কথা বলছি। আমি জানি না যে, সেটা কবে শেষ কবে হবে। কারণ আমি খুব আলসে, যদিও সবাই আমার খুব প্রশংসা করেন (হা হা হা)! অন্য আরেকজনকে কনভিন্স করা যায়, কিন্তু নিজেকে কনভিন্স করা খুব টাফ! এই সিদ্ধান্ত পর্যন্ত আসাটাই গুরুত্বপূর্ণ (হাসি…)। যেরকম আমার ওয়েব সিরিজ ‘টুইন রিটার্নস’ এর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। এটির গল্প দাঁড় করানোর সময় বাবা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, সেসময় টাইম পাস হতো না বলে হাসপাতালে বসে বসেই লিখে ফেলেছিলাম। কিন্তু পরে যখন সেই গল্পটি ঢেলে সাজাতে গেলাম, তখন বুঝেছি আমার মতো আলসে লেখক আর নাই! তবে এটা ইন্টারেস্টিং লাগে, যখন লিখি- কী যে রিলিফ লাগে! রাইটারের একটা দারুণ জার্নি আছে, যেটা আমি লেখার সময় এনজয় করি। যখন আমি লিখতে শুরু করি, তখন অটো আমার মধ্যে ইন্টারেস্টিং গল্প বা সংলাপ আসতেই থাকে! এমন না যে আমি তখন সেটা ভেবেচিন্তে লিখছি। এটা আমার ক্ষেত্রে দারুণ একটা বিষয়! আরেকটা বিষয়, লেখা শেষ হলে আমার মধ্যে ভীষণ এক্সাইটমেন্ট কাজ করে। দেখা গেলো রাত দুটোয় আমার লেখা শেষ হয়েছে, আমি ফোন করে বন্ধুকে বলছি ‘দেখো আপু, এটা লিখেছি, কেমন হলো!’! আর সে কারণে আলসেমি সত্ত্বেও আমি চাচ্ছি নিজের স্ক্রিপ্টটা নিজেই লিখতে।

ছবি: আরিফ আহমেদ

করোনার সময়টাতেও বেশকিছু ছোট ছোট, কিন্তু ভীষণ ইফেকটিভ কিছু কাজ অনলাইনে দেখা গেছে আপনাদের। সেগুলোর প্ল্যান কীভাবে এলো?
আমি কাজ করতে অভ্যস্ত। আমার ছেলের বয়স এখন ছয়। ওর জন্মের দুই সপ্তাহ পরেও আমি কাজ করেছি। ছেলের তিন মাসের মাথায় আমি কলকাতায় ‘ষড়রিপু’ সিনেমার শুটিং করতে গিয়েছি, দুই তিন সপ্তাহের জন্য। কোভিডকে ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে কিছুটা আশীর্বাদই মনে হয়েছে। করোনার কারণে চুক্তিবদ্ধ হয়েও বড় প্রজেক্টগুলোতে কাজ করতে পারলাম না, এটা কোনো বিষয় না- আমি ছাড়া অন্যান্যরাও তো কাজ করতে পারেনি। সবাই চুপচাপ বাসাতেই বসে ছিলো। কিন্তু করোনাকে আশীর্বাদ এজন্য বলছি, এসময় ঘরবন্দি অবস্থায় আমরা ‘নয়নতারা হাউজিং লিমিটেড’ এর অ্যাপিস্যুডগুলো করার প্ল্যান করেছিলাম। এই এপিসোডগুলোতে যারা ছিলেন, কেউ তো ঘরে বসে থাকার মানুষ নয়। এর গল্পগুলো আমি, শাওন আপু (মেহের আফরোজ শাওন) ও চুমকি আপু লিখতাম। এই এপিসোডগুলো প্রচারের পর বেশ সাড়া পেয়েছি। এখনও অনেকেই মনে করেন, আমরা সবাই বুঝি একই বিল্ডিংয়ে থাকি (হাসি…)! এই যে মানুষের কাছে কাজগুলো প্রশংসা পেল, এগুলো খুব দারুণ ব্যাপার। সেই সময়ে আমি একটা শো করলাম ‘আড্ডা উইথ সোহানা সাবা’ নামে, সেটিও আমার পেজ থেকে খুব হিট করলো।

২০১৫ সালের শুরুতে কলকাতার সিনেমায় অভিনয় করলেন। এরপর আর আপনাকে সেখানে পাওয়া যায়নি, দেশের সিনেমাতেও না। কেন সেটা?
হয়তো কলকাতার ইন্ডাস্ট্রিতে লাক ফেভার করেনি। আরো দুটি সিনেমায় কাজ করেছি, কোনো কারণে আর রিলিজ হয়নি। আর সে সময়টায় কাজের সাথে আমার একটু ডিসকানেকশন তো ছিলোই। তার কারণ, আমি আমার পারসোনাল রিজনেও আটকে পড়েছিলাম। আমার বাবাও অসুস্থ ছিলেন। কোনো কাজে কোনোভাবেই কনসেন্ট্রেশন দিতে পারতাম না তখন। আমার মনে হতো, বাবার ট্রিটমেন্টটা আগে হয়ে যাক। কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট হয়ে যাক, তারপর অন্য কাজগুলো করবো। আসলে ফ্যামিলির কোনো সদস্য অসুস্থ হলে তার প্রভাবতো সবার উপর পরেই। তো সবকিছুর কারণেই কাজের সাথে আমার একটা ডিসকানেকশান হয়েছিলো। আর এটাতো খুব স্বাভাবিক যে, কোনো কাজ করতে হলে কন্টিনিয়াসলি সেই ক্ষেত্রটার সাথে যোগাযোগ রাখতে হয়। সেই জিনিষটা আমার মধ্যে কমে গিয়েছিলো। এমনকি এখনও যে খুব গ্রো করেছে, তা না। তবে আমি গত বছরেও একটি ভালো সিনেমার সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলাম, গত মার্চে শুটিং হওয়ার কথা ছিলো। পরবর্তী এটা আগস্টে হওয়ার পরিকল্পনা হলেও কোভিড পরিস্থিতির কারণে দুর্ভাগ্যবশত প্রজেক্টটি আটকে আছে। তবে সব ছুড়ে ফেলে আমি এখন আবার নতুন করে সবকিছু শুরু করছি। আমার প্রযোজনা সংস্থা ‘খামার বাড়ি’ নিয়ে সিরিয়াস হচ্ছি।

ছবি: আরিফ আহমেদ

নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের নাম ‘খামার বাড়ি’, এই নামটি কেন?
আমি একটা দেশি নাম রাখতে চাইছিলাম। বাংলা শব্দ আমাকে খুব টানে। আপনি খেয়াল করবেন, আমার ছেলের নাম কিন্তু শুদ্ধ স্বরবর্ণ। ‘খামার বাড়ি’ নামটা খুব প্রচলিত নাম, আরেকটা মজার ব্যাপার হচ্ছে আমার দাদারবাড়ির নাম ‘খামার বাড়ি’। এটা রাজবাড়ী জেলার একটা গ্রামে। আমার জন্ম ও বেড়ে উঠা ঢাকায় হলেও দাদাবাড়ি নিয়ে আমার অনেক স্মৃতি আছে। তো আমি যখন প্রোডাকশন হাউজের বাংলা নাম খুঁজছিলাম, তখন আমার মনে হলো- খামার বাড়ি আমার এতো প্রিয় জায়গা, তাহলে এই নামটা কেন নিচ্ছি না! এবং নামটি মিনিংফুলও। কারণ খামার বাড়িতেতো কিছু না কিছু উৎপাদন হয়- সেটা শাক সবজি হোক কিংবা হোক গরু! আমার প্রোডাকশন হাউজেও কিছু না কিছু গ্রো করা হবে। সে ভাবনা থেকেই খামার বাড়ি নামটা দেয়া। এখান থেকেই একটা একটা করে নতুন প্রজেক্ট নিয়ে কাজ শুরুর পরিকল্পনা করছি। ইতোমধ্যে আমার প্রথম প্রোডাকশন ‘টুইন রিটার্নস’ দিয়ে কিছু একটা প্রমাণ করতে পেরেছি, ফলে মানুষজনও উৎসাহ পাচ্ছে। নিজে থেকেই অনেকে ইনভেস্ট করতে চাইছে। এটা আমার জন্য খুব আনন্দের খবর, এবং নিঃসন্দেহে আরো অনুপ্রেরণা দিবে সামনে। আমিও সেভাবেই সবকিছু গোছাচ্ছি। বাকিটা সময়ই বলে দিবে।

‘প্রিয়তমেষু’র পুষ্প চরিত্রটি থেকে বাস্তবে আপনি বেশি বোল্ড। সেকথা মাথায় রেখেই বলছি, সোশাল মিডিয়ায় ইস্যুভিত্তিক অ্যাক্টিভিজম এ জড়ানোর বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখেন?  যেখানে জনপ্রিয়তা হারানোর ভয় থাকে…
আমাকে দর্শক চিনে আমার অভিনয় দিয়ে। একেক ছবিতে একেকটা ক্যারেক্টার প্লে করি আমি। যে ক্যারেক্টারটা প্লে করি, সেটা তো বাস্তবের সাবা না। বাস্তবের সাবা ওই ক্যারেক্টারের মতো বড় হয়নি। ও অন্যভাবে বড় হয়েছে, ওর চোখ অন্যভাবে খোলেছে, সাবা তার জীবনকে অন্যভাবে শিখেছে। তো আমি সোহানা সাবা কিন্তু অন্য সোহানা সাবা। যাকে স্বাধীনতা কেউ দেয়নি। মানুষ বলে না যে, ‘স্বাধীনতা অর্জন করে নিতে হয়’। আমি অর্জন করে নিতে রাজি নই, আমার স্বাধীনতা আমার। স্বাধীনভাবে আমার জন্ম হয়েছে, এই জীবনের অধিকার কারো নেই। আমার সন্তানের জীবনের অধিকার, তার নিজের। আমি বড়জোর তাকে একটা গাইডলাইন দিতে পারি। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর ওর জীবন ওর। তেমনি আমার বাবা মা আমাকে খুব চমৎকার একটা গাইডলাইন দিয়ে দিয়েছেন, ওই গাইড লাইনের বাইরে গিয়ে আমার জীবনের অধিকার শুধু আমার। সে জায়গা থেকে আমাকে অনেকে ইমেজের কথা বলে, ইমেজ নামক ভুয়া যে ব্যাপারটা আছে- সেটাকে আমি খোলস বলি। সেটাতে আমি বিশ্বাস করি না। তাহলে যে কেউ বলতেই পারেন যে, তাহলে আনইথিক্যাল লাইফ কি হওয়া উচিত আমাদের, অসামাজিক জীবন? সেক্ষেত্রে আমার কাছে মানবিকতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। আমি যেটা বিশ্বাস করি, যেটা আমার মনে হয়- সেটা আমি স্পষ্টভাবে বলি। আর আমি যথেষ্ট মানবিক এবং সামাজিক- আর আমি মানবিক হওয়ার ফলে যদি কারো মনে আঘাত লাগে, তার জন্য আমি দায়ী নই। কারণ, এটা যার মনে আঘাত লাগবে- সেটা একান্তই তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমার মনে হয়, ষোল কোটি মানুষকে খুশি করার দায়িত্ব আমার না, আর আমি সেটা পারবো ও না। আর এসব জায়গায় আমি ভীষণ স্পষ্টবাদী। মুখের উপর কথা বলে দেই। সেটা মানুষকে আঘাত দেয়ার জন্য বলি না, আমি মানুষকে খুব পছন্দ করি। কিন্তু আমি যেটা বিশ্বাস করি, সেটা মুখের উপর বলে দেই।

আপনার অভিনীত চরিত্রদের দিকে তাকালে মনে হয়, বাস্তবে যা বিশ্বাস করেন তার বাইরে স্ক্রিনেও উপস্থাপিত হতে চান না। আসলে কি এমন?
এরকম দিন যেন আমার জীবনে না আসে, যে কথাটা আমি বিশ্বাস করি না সেটা বলতে (সংলাপ) হচ্ছে! রাইটার কিংবা ডিরেক্টররা নিঃসন্দেহে নমস্য ব্যক্তি, কিন্তু আমি প্রথমে দেখে নেই, আমার বিশ্বাসের সাথে ওই গল্প বা স্ক্রিপ্টটা যাচ্ছে কিনা! তারপর আমি কাজ হাতে নেই। আর আমি কৃতজ্ঞ, আমাকেও এমন চরিত্রে ভেবেই কাস্টিং করা হয় এবং মানুষ জনও এভাবেই পছন্দ করেন।

ছবি: আরিফ আহমেদ

সিঙ্গেল মাদারকে সমাজে বহু সাফারিংয়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় সাধারণত। ক্যারিয়ারেও চাপ পড়তে দেখা যায় কখনো কখনো। এমন অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে আপনাকে?
যে কোনো ক্ষেত্রে প্রথম কয়েকদিন সমস্যা হয়। সেটাকে যদি শক্ত হাতে মোকাবেলা করা যায়, তাহলে পরে আর কোনো সমস্যা হয় না। আমার সাথে যারা সমস্যা করতে এসেছে, তাদের মুখের উপর আমি বলেছি ‘আমার জন্মদাতা একজন বাবা রয়েছেন বাসায়, সেই বাবার বাইরে আর কারো বাবাগিরি পছন্দ করি না’। সেটা কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে না বলে বুঝিয়ে দিয়েছি কাউকে, আবার কাউকে সরাসরি মুখের উপরও বলতে হয়েছে। আমি একটা হেলদি ফ্যামিলিতে আছি, এখন আমার বাবা নেই, কিন্তু মা আছেন, ভাই আছেন- আমার কোনো সমস্যা হয়নি। তারা সব সময় আমাকে সাপোর্ট করে আসছেন। আর সোসাইটির যে প্রেসারের ব্যাপার থাকে, সেটা আমার সাথে পেরে উঠে না। তার কারণ হচ্ছে, আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব স্ট্রং পারসোনালিটি। কাউকে কৈফিয়ত দিতেও রাজি না। আর যে আমার সম্পর্কে মন্দ ধারণা পুষে রাখবে, তাকে শত যুক্তি দিলেও সেটা সে বুঝতে চাইবে না। যার যা ইচ্ছে, সেটা নিয়েই থাকুক- আমার তাতে কিছু আসে যায় না। আমাকে আজ পর্যন্ত অনেকেই জিজ্ঞেস করেছেন, ‘কীভাবে কী ঘটেছিলো?’। কেউ কি আসলে কোনো কিছু জানে না? আসলে সবাই সব জানে। তবু আমাকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে জিজ্ঞেস করতে চেয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে আমি শুধু এটাই বলে এসেছি, তোমরা তোমাদের মতো করে গবেষণা করো, আমার জীবনটা আমি আমার মতো করে এনজয় করি। দ্যাটস ইট…!

তার মানে আপনার এই জীবন সুন্দর…!
অবশ্যই সুন্দর। ইনফেক্ট আমার সব লাইফ ই সুন্দর! আমি আমার প্রত্যেকটা মোমেন্ট এনজয় করে নিয়েছি, যেভাবে এনজয় করার। যা কিছু ভুল ছিলো, সেটাকেও ইগনোর করছি না। আমার মনে হয়, মানুষের জীবনে সবকিছু দরকার। না হলে আজকের পরিণত সাবা হয়তো আমি হয়ে উঠতে পারতাম না।