চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শীর্ষ তালেবান নেতাদের বিরোধ, খোঁজ নেই বারাদারের

সম্প্রতি আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে তালেবানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রী মোল্লাহ আবদুল গনি বারাদারের সঙ্গে হাক্কানী নেটওয়ার্কের অন্যতম নেতা ও মন্ত্রী খলিল-উর রহমান হাক্কানীর বাকবিতণ্ডার পর থেকে খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বারাদারের।

এরই মধ্যে শীর্ষ এ তালেবান নেতার মৃত্যুর গুজবও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে মঙ্গলবার তালেবানের পক্ষ থেকে একটি অডিও প্রকাশ করে বারাদারের মৃত্যুর খবর নাকচ করে দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে বলছে, নতুন সরকার গঠন নিয়ে তালেবানের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বড় ধরনের বিরোধ তৈরি হয়েছে।

সংগঠনটির একজন জ্যেষ্ঠ নেতার বরাতে বিবিসি আরও বলছে, তালেবান নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধ চলছে- এমন খবর বেশ কিছুদিন ধরেই খবর পাওয়া যাচ্ছিল। বিশেষ করে সরকার গঠনের পর বারাদারকে জনসমক্ষে না দেখা যাওয়ায় সেই ধারণা আরও পোক্ত হয়।

গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে তালেবানরা আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দেশটিকে ‘ইসলামিক আমিরাত’ বলে ঘোষণা করে। তার কয়েক সপ্তাহ পর নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষণা করা হয়।

ওই সরকারের সবাই পুরুষ এবং জ্যেষ্ঠ তালেবান নেতা। তাদের কারও কারও বিরুদ্ধে গত দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ সব হামলার অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তালেবানের একটি সূত্র বিবিসি পশতুকে জানিয়েছে, মোল্লাহ বারাদার এবং শরণার্থী বিষয়কমন্ত্রী খলিল উর-রহমান হাক্কানির মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ বাক্য বিনিময় হয়েছে। তখন সেখানে থাকা তাদের অনুসারীরাও পরস্পরের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে।

তাদের সাথে সম্পৃক্ত কাতার-ভিত্তিক একজন জ্যেষ্ঠ তালেবান নেতা নিশ্চিত করে বলেন, সর্বশেষ গত সপ্তাহেও তাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়।

সূত্রগুলো জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে তালেবানের বিজয়ে কৃতিত্ব কার হবে, সেই নিয়েই বিরোধের শুরু। বারাদার মনে করেন, তার মতো যারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়েছেন, কৃতিত্ব তাদের।

তবে তালেবানের অন্যতম সহযোগী হাক্কানী নেটওয়ার্ক মনে করে, যুদ্ধের মাধ্যমে তারা এই বিজয় পেয়েছেন।

২০২০ সালে তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথম কোনো তালেবান নেতা হিসেবে সরাসরি যোগাযোগ হয়ে বারাদারের। যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার নিয়ে কাতার চুক্তিতে তালেবানের পক্ষে স্বাক্ষরও করেন তিনি।

সেই সময় আফগান বাহিনী ও তাদের পশ্চিমা মিত্রদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী হাক্কানী নেটওয়ার্ক ভয়াবহ সব হামলার সঙ্গে জড়িত। তাদেরকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র।

তালেবানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন এই দলের নেতা সিরাজুদ্দিন হাক্কানী। খলিল-উর রহমান সহ আরও কয়েক নেতা রয়েছে এই মন্ত্রিসভায়।