চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শিশু অধিকার সংরক্ষণে ইসলাম

শিশু স্বচ্ছ পুষ্পতুল্য। সাধারণ দৃষ্টিতে তাকালে, শিশু মাত্রই তাকে কোলে নিতে ইচ্ছে করবে। মন চাইবে গাল ছুঁয়ে দেই। হাসিটা কত নির্মল-শুচি! যদি পারতাম রাখতাম ধরে নয়ন-মণিতে। আর ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, শিশুকে সর্বাধিক স্নেহমাখা পরশ আর সর্বোত্তম কোমল কোলে লালন করেছে ‘ইসলাম’।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম তিনটি প্রিয় বস্তুর কথা বলেছেন। তন্মধ্যে একটি, শিশু। প্রিয়নবী মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করছেন। মদিনায় প্রবেশমাত্রই শিশুরা তার কাছে ছুটে আসল। তিনি সানন্দে কোলে তুলে নিলেন। শিশুদের স্পর্শে তিনি আনন্দ লাভ করতেন।

বিজ্ঞাপন

এক বেদুঈন এসে মহানবীকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি শিশুদের চুমু দেন? আমি তো কখনো শিশুদের চুমু খাই না! উত্তরে রাহমাতুল্লিল আলামীন নবি বললেন, আল্লাহ তায়ালা যদি তোমার অন্তর থেকে দয়া উঠিয়ে নেন, আমার কী করার আছে?” (বুখারী ও মুসলিম শরীফ)।

শিশুর বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার আছে। কিন্তু ধর্মীয় অধিকার? ইসলাম ধর্মীয়ভাবে শিশুকে নিরাপত্তা দিয়েছে। কুরআন সুস্পষ্টভাবে ‘শিশু হত্যা’ হারাম করেছে (বনি ইসরাইল, ১৭ : ৩১)। একটি যুদ্ধে প্রিয় নবী সাহাবায়ে কেরামকে শিশুদের আক্রমণ করতে নিষেধ করেছেন (বুখারী ও মুসলিম)। কুরআন পিতা-মাতাকে শিশুর যথাযথ ভরণ-পোষণের নির্দেশ দিয়েছে (সূরা বাকারা, ২ : ২৩৩)। শিশু যেন জুলুমের শিকার না হয়; সুবিচার পায় তারও প্রকট নির্দেশ এসেছে হাদিস শরীফে। (মুসনাদে আহমদ)।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যেক পিতা-মাতার উচিত শিশু সন্তানকে উত্তম শিক্ষা দেওয়া। রাসূলে আরাবী এরশাদ ফরমান, “পিতা-মাতার পক্ষ থেকে সন্তানকে উত্তম চরিত্র শিক্ষা দেওয়ার চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কিছু হতে পারে না” (তিরমিযি শরীফ)। আর অবশ্যই কুরআন শিক্ষা দিতে হবে। কেননা, কুরআনের মাধ্যমেই সে ভবিষ্যত জীবনে ধর্মীয় রীতিনীতি পালনে আকৃষ্ট হবে। হাদিস শরীফে এসেছে, “পিতা-মাতার প্রতি শিশুর তিনটি হক আছে। তন্মধ্যে একটি কুরআন শিক্ষা দেওয়া” (তাম্বিহুল গাফিলীন)।

শিশুর প্রতি ইসলাম অত্যন্ত কোমল। যে ব্যক্তি শিশুকে স্নেহ করে না তাকে ‘উম্মত নয়’ বলে হাদিস শরীফে তিরস্কার করা হয়েছে (তিরমিযি শরীফ)। রাহমাতুল্লিল আলামীন নবী তার উম্মতদেরকে “শিশুকে ভালোবাসতে, দয়া করতে এবং তাদের সাথে কৃত অঙ্গীকার পালন করতে” নির্দেশ দিয়েছেন (বুখারী ও মুসলিম)।

একজন মহিলা তার একটি খেজুর দুই শিশুকে ভাগ করে খাওয়ালেন। এর বিনিময়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম তাকে জান্নাতের নিশ্চয়তা দিলেন (মুসলিম শরীফ)। শিশুকে পাশে রেখে মা নামাজ পড়তে দাঁড়ায়। অবুঝ শিশু কান্না করে। করুণার নবী মায়ের নামাজ সংক্ষেপ করার সুযোগ দিয়েছেন। এবং স্নেহঝরা কণ্ঠে বললেন, “আমি চাই না, তার মায়ের কষ্ট হোক” (বুখারী ও মুসলিম)।

এভাবে ইসলাম বহুভাবে শিশুদের যথার্থ অধিকার নিশ্চিত করেছে। শিশুদের নিরাপদ জীবনের ব্যবস্থা করেছে। আমাদেরও উচিত শিশুদের প্রতি ইসলামি নির্দেশ অনুসারে ব্যবহার করা। তাদেরকে প্রাপ্য অধিকার প্রদান করা। ইসলাম যেভাবে বলেছে সেভাবেই একজন শিশুকে লালন-পালন করা। তাদেরকে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত এবং শিষ্টাচারে সামাজিক হিসেবে গড়ে তোলা। ইসলামে একটি শিশুর জীবন নির্মল-নিষ্কলুষ। ‘শিশু অধিকার’ সম্বন্ধে ইসলামই সবচেয়ে সচেতন এবং সজীব। তাই তো ইসলাম বলে, “ফরজ নামাজের সেজদারত অবস্থায় তোমার পিঠে কোনো শিশু উঠেছে? কষ্ট সত্ত্বেও সেজদা লম্বা করো, যতক্ষণ তারা না নামে।”

Bellow Post-Green View