প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি প্রয়াত মাহবুবুল আলম শাকিলের মৃত্যু থেকে তার দাফন পর্যন্ত সবকিছুই নিজের চোখে দেখেছেন।
দীর্ঘ ১৯ বছরের কাছের মানুষটিকে হারিয়ে ভাঙ্গা হৃদয় নিয়ে আশরাফুল আলম খোকন তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করেছেন। যেখানে প্রাণ প্রিয় শাকিলের ভাইয়ের মৃত্যু এবং উপলব্ধি নিয়ে লিখেছেন।
তিনি লিখেছেন: আমার সাথে ওনার সম্পর্ক ১৯ বছরের। অনেকটা পরিবারের সদস্যের মতো ছিলাম এর বেশিরভাগ সময় । মধ্যখানে এক/দেড় বছর সম্পর্কের ভাঙা-গড়া মিলিয়ে অনেক কিছুই দেখেছি। ওনার খারাপ সময়ের মানুষগুলোকেও চিনি আবার ক্ষমতার সময়ের বন্ধুদের (!) অনেককেই চিনি। তার মৃত্যুর পর আমি অনেকেই ঢাকা এবং ময়মনসিংহে দেখেছি, যারা ওনার অনেক অনেক দুঃসময়ে খুব কাছের ছিলেন।
ক্ষমতার ৮ বছরে হয়তো একবারের জন্যও কোনো কাজে ওনার কাছে আসেননি কিংবা নিত্য নতুন মুখের ভীড়ে আসার সুযোগ পাননি। ব্যস্ততার কারণে অনেকের সাথে হায় হ্যালো বলার মত যোগাযোগও ছিলো না। এরমধ্যে সিনিয়র কিংবা সমকক্ষ রাজনৈতিক বন্ধুরা যেমন রয়েছেন, জুনিয়র কর্মীরাও আছেন ।
নিষ্প্রাণ দেহ দেখে কেউ নীরবে চোখের জল ফেলেছেন কেউবা লুকাতে না পেরে হাউমাউ করে কেঁদেছেন। বন্ধুত্বের আবেগ সামলাতে না পেরে লাশের সঙ্গে ময়মনসিংহ পর্যন্ত ছুটে গিয়েছেন।
ক্ষমতার ৮ বছরের সঙ্গী সাথীদের অনেকেই কোথাও দেখেনি, যাদের অনেকেই প্রকাশ্যে শাকিল ভাইকে মাঝে মধ্যে পীর, মহামানব বানিয়ে ফেলতেন। যে কয়জনই এসেছেন এর অধিকাংশই কেমন যেন চোরের মতো নিজেকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন। কি যেন অজানা একটা আশংকা ওদের মধ্যে কাজ করেছে।
শাকিল ভাই এমন এক জগতে চলে গেছেন , যেখানে বসে এই উপলব্ধি আসার সুযোগ নেই। তবে এই উপলব্ধি ওনার জীবদ্দশায় একবার এসেছিলো ২০১০ সালে। যখন উপ প্রেস সচিব পদ থেকে ওনার চাকুরি চলে গিয়েছিলো। চাকুরি চলে যাবার আগেরদিনও নিউইয়র্কের হোটেলের লবি দিয়ে উনি এক মিনিটের পথ এক ঘন্টায়ও যেতে পারতেন না। দেশি প্রবাসী হিতাকাংখীদের (!) ভালোবাসার অত্যাচারে বার বার থেমে যেতে হয়েছে।
কিন্তু চাকরি হারিয়ে যেদিন ওনার হোটেল ছাড়তে হয়েছিল, সেদিন আমরা দু’জন মিলেই লাগেজ গুছিয়ে ছিলাম, নিজেরা গাড়ি ড্রাইভ করে কাঁদতে কাঁদতে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত এসেছিলাম। এমন না যে সেদিন হোটেল লবি কিংবা আসে পাশে লোকজন ছিলো না। সবাই ছিল, তবে কেমন জানি নিজেদের মুখগুলোকে আড়াল করে দেখেও না দেখার আপ্রাণ চেষ্টা ছিল।
যাই হোক , আমরা যারা আশে পাশের তাদের শোক, কষ্ট হয়তো কিছুদিনের মধ্যেই মিলিয়ে যাবে। নিষ্ঠুর বাস্তবতা হলো, একমাত্র মেয়ে মৌপি হারিয়েছে তার প্রাণ প্রিয় বাবাকে, আঙ্কেল-আন্টি হারিয়েছেন তাদের সন্তানকে, বাবু ভাই হারিয়েছে তার একমাত্র ভাইকে আর ভাবি হারিয়েছেন তার স্বামীকে।
মহান আল্লাহতায়ালা যেন তাদের সেই শোক বহন করার শক্তি দেন।








