চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

শপথ না নেওয়া হবে ভোটারদের সাথে প্রতারণা

একাদশ জাতীয় নির্বাচন শেষে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের অধিকাংশই শপথ নিয়েছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ওই নির্বাচনে। অপরদিকে সরকারবিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পেয়েছে সর্বসাকুল্যে সাতটি আসন, তিনটি আসন পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের মহাবিজয়সূচক ২৮৮ আসনের বাইরে একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে, এবং অপর একটি আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে পরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পুন:র্নিধারিত ওই নির্বাচন ২৭ জানুয়ারি।

নির্বাচনের এই ফল মহাজোটের জন্যে একদিকে যেমন মহাবিজয় ঠিক অপরদিকে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জন্যে মহাবিপর্যয়। এমন ফল কেউ কি আশা করেছিল- নির্বাচনের ঠিক আগের দিনও এ প্রশ্ন কাউকে করলেও সে এমন কোন ইঙ্গিত দিতে পারত কিনা সন্দেহ। ধারণা করি খোদ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, সমর্থকদের কেউও এমন ফলের পূর্বাভাস দিতে পারেনি। একই কথা প্রযোজ্য বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ক্ষেত্রেও; তারাও ভাবেনি এমন কিছু হতে পারে। ফলে তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ একটা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর পর্যন্ত বিএনপিকেও অপেক্ষা করতে হয়েছে।

নির্বাচনের দিনও জামায়াত নেতা ও বিএনপির প্রার্থীদের কেউ কেউ বিচ্ছিন্নভাবে নিজেদের আসনের নির্বাচন বর্জন করলেও সেটা তাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পর্যন্ত পৌঁছায়নি। ফলে কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপি কিংবা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আগেভাগে নির্বাচন বর্জন করার সিদ্ধান্ত না নিয়ে তাদের ভাষায় ‘নীরর ভোটবিপ্লবের’ আশা করছিল। যদিও নির্বাচনের দিনের মধ্যভাগে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী নির্বাচনে বিশ শতাংশ আসনে কারচুপি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন।

রুহুল কবির রিজভীর এই বিশ শতাংশ আসনে কারচুপির যে অভিযোগ সেটা যেকোনো নির্বাচনের জন্যে খুব বড় ধরনের কোন অঙ্ক নয়। বিশ শতাংশ আসন অর্থাৎ ৩০০ আসনের সংসদে (২৯৯ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে) ৬০ আসনে কারচুপির অভিযোগ করলেও আদতে তারা বাকি ২৩৯ আসনে অনিয়মের অভিযোগ আনেননি। এই ধরনের অভিযোগগুলোকে সাধারণভাবে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে ধরে নেওয়া হয়ে থাকে।

তবে এই অভিযোগকে স্রেফ রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে না ধরলেও বিএনপিও প্রকৃত অর্থে ২৩৯ আসনে অনিয়মের অভিযোগ ভোটের দিনের সংবাদ সম্মেলনেও করেনি। পরে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তারা সবক’টি আসনে অনিয়ম কিংবা ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনেছে। যদিও এর জন্যে তারা নির্বাচনের ফল ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছে। এই অপেক্ষা শেষের ফল প্রত্যাখ্যানের পর বলা হচ্ছে হেরে গিয়ে ফল না মানার মানসিকতা, প্রকৃতই তাই। কারণ আমাদের ইতিহাস বলছে কোনো দলই নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর সে ফল মানেনি, এবং সেটা বিএনপি-আওয়ামী লীগসহ সকল দল নির্বিশেষে।

বিএনপি-মির্জা ফখরুল-জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট-প্রশাসন ও আওয়ামী লীগএই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক নিঃসন্দেহে। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নিবন্ধিত ৩৯ দলের সবক’টি দলই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এমনকি ইসিতে নিবন্ধন হারানো দল জামায়াতে ইসলামির নেতারাও বিএনপির কাঁধে সওয়ার হয়ে নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন। বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলোর মত তাদেরও প্রতীক ছিল ‘ধানের শীষ’। তবে নির্বাচনে সবকটি দলের প্রার্থী থাকলেও ভোটের প্রচারণায় বেশিরভাগ দলেরই অংশগ্রহণ ছিল না। আওয়ামী লীগবিরোধী প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রার্থীরা অন্তত দেড়শ’ আসনে প্রচার-প্রচারণার বাইরে ছিলেন। এই বাইরে থাকাটা যতটা না তাদের নিজস্ব কৌশল তারচেয়ে বেশি পূর্বেকার মামলা থেকে বাঁচার কৌশল। এরবাইরে আছে বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের ওপর সরকারি দল আওয়ামী লীগ সমর্থকদের নানা আক্রমণ। ফলে কাগজে থাকলেও মাঠে ছিলেন না বিএনপির প্রার্থীরা। স্রেফ ব্যালট পেপারে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক ভোটারদের আকৃষ্ট করেনি।

তবে যেসব এলাকায় বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় ছিলেন সেখানে তারা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পেয়েছেন। সিলেট জেলা ও বিভাগের বেশিরভাগ আসনে বিএনপির প্রার্থীদের ভোট সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মত। বিভাগের দুইটি আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত ও সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়া তার প্রমাণ বহন করে। এছাড়াও সিলেট-১ আসনে দেড় লক্ষাধিক ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী, সিলেট-৬ আসনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের বিপরীতে বিএনপির নতুন প্রার্থী ফয়সল আহমদ চৌধুরীও ভোট পেয়েছেন লক্ষাধিক। এই আসনে বিএনপির ইতিহাসে এর আগে এত ভোট কেউ পায়নি। এর পেছনে মূল কারণ প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণা। প্রচারে এগিয়ে থাকার কারণে তাদের এই ভোটপ্রাপ্তি বলছে নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বিএনপির প্রার্থীরা মাঠে থাকলে তারাও ভোট কাটতে সক্ষম।

বিএনপি প্রার্থীদের লক্ষ ভোট প্রাপ্তি কেবল সিলেটের দুই আসনেই নয় সারাদেশে সামান্য হলেও আরও কিছু আসনেও ঘটেছে। তবে বিস্ময়কর কিছু তথ্যও সামনে এসেছে এবারের নির্বাচনে। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অলি আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ আরও অনেক ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে এবারের নির্বাচনে। এটা ঠিক কী কারণে ঘটল? তারা নির্বাচনী প্রচারণার বাইরে ছিলেন বলে? ভোটাররা তাদের বর্জন করেছেন বলে? এটা বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছে না। হয়ত এর পেছনে কোনো অনিয়ম থাকতে পারে; হয়ত এখানে অনিয়মের যে ঢালাও অভিযোগ এসেছে সেসব কারণে- এনিয়ে নির্বাচন কমিশন সুস্পষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করতে পারে। ইতোমধ্যেই বিএনপির পক্ষ থেকে নানা অভিযোগ সম্বলিত কাগজপত্র ইসিতে জমা দেওয়া হয়েছে। এটাকে ইসি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে পারে।

Advertisement

নির্বাচনে বিএনপির এই ভরাডুবি নজিরবিহীন, এর আগে দলটি নির্বাচনে এত খারাপ করেনি। তবে আওয়ামী লীগের এই মহাবিজয় নজিরবিহীন নয়। এর আগে একাধিকবার আওয়ামী লীগ এমনভাবে বিজয়ী হয়েছিল। সত্তরের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন, তেয়াত্তরের নির্বাচন কিংবা আরও কিছু নির্বাচনের উদাহরণ আছে দলটির। অনেকেই সেই দিকে দৃষ্টি ফেরাতে চাইছেন ঠিক, তবে সেই সব উদাহরণ বর্তমান পরিস্থিতিতে কতখানি প্রাসঙ্গিক এনিয়েও আলোচনার দরকার আছে। এর বাইরে কেবল দেশের উদাহরণই নয় আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সবশেষ লোকসভা নির্বাচনেও কংগ্রেসের ভরাডুবি ঘটেছে, ওই সময়ে শতাধিক বছরের পুরনো দল কংগ্রেস পেয়েছিল মাত্র ৩৯ আসন। ফলে বড় দল হলেই যে নির্বাচনে ভালো করা সম্ভব এটাও সত্য না। এধরনের উদাহরণগুলো সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হতেও পারে।

নির্বাচনে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই ভরাডুবির পর দলটির নির্বাচিতরা সংসদ সদস্য পদে শপথ নেননি। তারা শপথ নেবেন না বলে দলীয়ভাবে জানানো হয়েছে। ফল প্রকাশে গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে শপথ নেয়ার প্রাথমিক বাধ্যবাধকতা ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। তবে এর পর যে তারা শপথ নিতে পারবেন না তা না। রীতি অনুযায়ী শপথের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, এরপর আরও ৯০ দিনের সময় রয়েছে শপথের। এই সময়েই মধ্যেও বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাতজন বিজয়ী প্রার্থী শপথ না নিলে কিংবা সময় প্রার্থনাপূর্বক স্পিকারকে চিঠি না দিলে তাদের আসন শূন্য হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে ইসি ওইসব আসনে উপ-নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা করবে। বর্তমানের পরিস্থিতিতে তাদের শপথ না নেওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তবে এই শঙ্কার বাইরে সম্ভাবনার জায়গাটা হলো নির্বাচনপূর্ব তাদের সাতদফা দাবি সরকার না মানলেও ‘আন্দোলনের অংশ হিসেবে’ তারা যেমন নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল, ঠিক একইভাবে শপথও নেবে।

বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন ও আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছেন তার ফল কী হতে পারে এ নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছার মত অবস্থা না আসলেও এ থেকে তাদের প্রাপ্তিযোগ শূন্য হতে পারে বলে প্রাথমিক অনুমান করছি। গত ১০ বছরে বিএনপি মাঠছাড়া, দলের সাংগঠনিক শক্তিও ক্ষয়িঞ্চু। এমন অবস্থায় মাঠে থেকে দাবি আদায়ের মত শক্তি ও সামর্থ্য তাদের আছে বলে মনে হয় না। নির্বাচনের সময়ে দলের নেতারা যেখানে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নামতে পারেননি সেখানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে মাঠে নামতে না পারার সম্ভাবনাই বেশি। ফলে মাঠ থেকে তাদের প্রাপ্তির খাতায় কিছু যোগ নাও হতে পারে। এরবাইরে আইনি লড়াইয়ের যে কথা বলছে তারা সেটাও তাদের আশানুরূপ নাও হতে পারে। ফলে শপথ না নিলে যে নতুন করে ৩০০ আসনে নির্বাচনের দিকে এগোবে দেশ- এটা মনে হয় না।

তবে তারা শপথ নিলে অন্তত সংসদে তাদের শক্তি অনুযায়ী কথা বলার চেষ্টা করতে পারে। এই কথাগুলো মানুষের মধ্যে আলোচিত হবে। কথা বলার সুযোগ না পেলে সেটাও আলোচিত হবে; মুখে মুখে ফিরবে মানুষের। সংসদে কথা বলতে পারলে সেটা মানুষ যতখানি গুরুত্ব দেবে প্রাত্যহিক সংবাদ সম্মেলন কিংবা বিবৃতিকে সেভাবে গুরুত্ব দেবে না। কারণ গত দশ বছরে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি মিডিয়ায় কিছু কাভারেজ পেলেও এসব বক্তব্য সাধারণ মানুষ কতখানি পড়েছেন, জেনেছেন কিংবা কতখানি মনে রেখেছেন সেটাও প্রশ্নসাপেক্ষ। উদাহরণ হিসেবে এক্ষেত্রে আসতে পারে রুহুল কবীর রিজভীর রুটিন সংবাদ সম্মেলন; অনলাইনের এই যুগে বেশিরভাগই সেই সব বিবৃতির শিরোনাম পড়েছেন, ক’জনই বা পড়েছেন বিস্তারিত। এখানে পার্থক্য সংসদ ও সংসদের বাইরের রাজনীতির।

মাত্র সাত আসন নিয়ে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সংসদের বিরোধীদল হতে পারবে না, ২২ আসন নিয়ে এই জায়গায় বসবে জাতীয় পার্টি। তবে ভাবমূর্তি সঙ্কটে থাকা জাতীয় পার্টিকে দেশের অধিকাংশ জনগণ যতটা না পৃথক দল হিসেবে ভাবে তারচেয়ে বেশি ভাবে সরকারি দল আওয়ামী লীগের অংশ হিসেবে। ফলে সংখ্যায় মাত্র সাতজন হলেও বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিজয়ীরা সংসদে আলোচনায় থাকতে পারে। তবে আলোচনায় আসার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে তাদেরকে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে হবে।

সাত বিজয়ী শপথ না নিয়ে তাদের দল ও জোট মধ্যবর্তী নির্বাচন আদায় করে ছাড়বে এমন না। নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে এমন অভিযোগকে তারা নিজেদের অবস্থান থেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইবেন ঠিক, তবে তারা নৈতিকভাবে শপথ নিতে বাধ্য। নৈতিকতা অমান্য করে তারা যদি শপথ না নেন তবে সেটা হবে তাদের নিজস্ব আসনের ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা। ওইসব এলাকার ভোটারেরা তাদেরকে ভোট দিয়ে প্রতিনিধি বানিয়েছেন সংসদে যাওয়ার জন্যে। বিজয়ী হয়ে যাওয়ার পর তারা যদি ভোটারদের অগ্রাহ্য করেন তবে সেটা হবে অনাকাঙ্ক্ষিত। ব্যালট পেপারে যখন প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকে তখন ভোটারেরা তাদের প্রতি এমন অন্যায়ের প্রতিকার চাইতেই পারেন। দল প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলেও ভোটারেরা যখন প্রার্থীকেই নির্বাচন করেন তখন ভোটারদের এই অনুভূতির প্রতি রাজনৈতিক দলের সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। সে হিসেবে বিজয়ীদের শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

ভোটারেরা সংসদে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেন ভোটে, সেই প্রতিনিধিকে যদি সংসদে পাঠাতে বাধা দেয় কোনো রাজনৈতিক দল তবে সেটা ভোট ও ভোটারের সাথে তাদের প্রতারণাই হবে। এমন না যে একবার শপথ নিয়ে নিলে পাঁচ বছরের জন্যে আটকা পড়বেন তিনি, শপথের পর যদি সংসদে ওই সাংসদ কথা বলতে না পারেন তখন পদত্যাগের সুযোগও থাকে। এবং তা যদি হয় যৌক্তিক তবে মানুষজন একে অভিনন্দন জানাবে। সামনে যখন এমন সুযোগ তখন আশা করি বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোটারদের প্রতি সম্মান জানিয়ে সাত বিজয়ীকে সংসদে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারে। এবং সেটাই হবে সময়ের যৌক্তিক এক সিদ্ধান্ত।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)