চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

লালচান

রওনক আফরোজা

গল্পের শুরুটা হতে পারত মানিক বন্দোপাধ্যায়ের ধ্রুপদী উপন্যাসের প্রথম লাইন দিয়ে কিন্তু কোন পুণ্যবলে কে জানে ‘আকাশের দেবতা তাহার দিকে চাহিয়া ভ্রুকুটি হানিলেন’ না । অল্পের জন্য লালচান বেঁচে গেল। তার সামনে শিমুল গাছ টার উপর বিকট শব্দে বাজ পড়ল।  একটু আগেই লালচান দাঁড়িয়ে ছিল শিমুল গাছটার নীচে, এখনো তার ব্যাঙ ভর্তি ব্যাগটা রয়ে গেছে শিমুল গাছটার নীচেই। আতঙ্ক আর বিস্ময়ের প্রাথমিক ধাক্কাটা সামলে নিয়ে লালচান আবার তাকাল গাছটার দিকে। গাছটা খুব বিশ্রী রকম ভাবে পুড়ে গেছে। এই ঝুম বৃষ্টির মধ্যেও ধোঁয়া বের হচ্ছে গাছের মাথা থেকে।

বিজ্ঞাপন

গত বছর গাছটা ফুলে ফুলে ভরে গিয়েছিল, খালের একেবারে পাশে বলে জলে ছায়া পড়ত ফুল ভরা গাছের। আর ঠিক এক বছর পরেই কিনা গাছটার এমন দশা হল। অবশ্য সবই তার ইচ্ছা, নয়তো এমন দশা আর একটু হলে লালচানের নিজেরই হতে পারত। লালচান গুটি গুটি পায়ে বাজ পড়া গাছটার দিকে আগায়। গাছের নীচে তার ছালার ব্যাগটি আশ্চর্যজনক ভাবে প্রায় অক্ষত অবস্থাতেই আছে। শুধু গাছের পাতা, ডাল আর পোড়া ছাইয়ের অবশিষ্টাংশ দিয়ে মাখামাখি। ভেতরে নড়াচড়া জানান দিচ্ছে জীবনের, সত্যিই কি অদ্ভুত! লালচান অবাক হয়ে বলে উঠে, বড়ই আশ্চর্য ব্যাপার।  এক সুতার পার্থক্য।

লালচান ব্যাঙ ধরে। আরও ভাল করে বলতে গেলে ব্যাঙ ধরা তার পেশা। প্রথমে গ্রামের লোক তাকে নিয়ে হাসাহাসি করত, কিন্তু ক্রমে গ্রামের লোকের ও সয়ে গেছে দেখে দেখে। লালচান অবশ্য এতে হাসির কিছু খুঁজে পায় না। তার মতে ব্যাঙ ধরা একটি লাভজনক পেশা। এত ব্যাঙ চারদিকে, ধরে ধরে শুধু ব্যাগের মধ্যে ভরলেই হল। বিশেষ করে বর্ষাকালে তো এদের ডাকে ঠিক মত ঘুমানো যায় না। তাই কয়েক টাকে ধরে বাজারে বিক্রি করার মধ্যে দোষের কিছু দেখে না লালচান।

অবশ্য লালচান নিজেও একটু সন্দেহের মধ্যে ছিল যে ক্রেতা পাবে কিনা। প্রথমে শুধু গ্রামের স্কুলের সাইন্স গ্রুপের কয়েক জন ছাত্রই ছিল তার বাঁধা কাস্টমার। পরে শহর থেকে পাইকার এসে ব্যাঙ কিনে নিয়ে যায় এটা দেখে সে একটু অবাক হলেও খুব একটা আশ্চর্য হয়নি। হাটের দিন দুয়েক আগে থেকেই লালচান কাজে নেমে পড়ত। কাজ বলতে তার বিরাট ছালার ব্যাগ নিয়ে গ্রামের পথে প্রান্তরে, মাঠে ঘাটে আর জলার পাশে ঘুরে বেড়ানো। গুন গুন করে গান করতে করতে ধানক্ষেতের আইল থেকে, কখনো বা রাস্তার পাশের খাল থেকে এমনকি কখনো বা কারও বাড়ির গোয়াল ঘরের পেছন থেকেও ব্যাঙ ধরতে দেখা যায় তাকে। ব্যাঙ ধরার সময় রোদে পুড়তে এমনকি বৃষ্টিতে ভিজতেও কোন আপত্তি নেই তার। বরং তাকে সব সময়েই হাসিমুখে দেখা যায়।

আজ ব্যাঙ ধরতে এসে আরেকটু হলে বাজই পড়ত তার মাথায়। লালচান সাবধানে বাজ পড়া গাছের গোঁড়া থেকে তার ছালার ব্যাগটা পিঠে তুলে নেয়। সারাদিনে যা ধরা পড়েছে তাতে আগামীকাল হাটের দিন ভালই দাম পাওয়া যাবে। তাছাড়া বাজ পড়ার ঘটনার পর থেকে ব্যাঙ ধরার উৎসাহ টাই তার চলে গেছে। লালচান তাই তার ছালার ব্যাগ নিয়ে হাঁটা ধরে।

খোলা জায়গাটা পার হয়ে গ্রামের কাছাকাছি আস তেই লালচান দেখে গ্রামের মেঠো পথ ধরে তাদের চেয়ারম্যান সাহেব আসতেছেন। তার সাথের লোকজন তার মাথায় ছাতা ধরার জন্য তার সাথে পাল্লা দিয়ে হাঁটছে।

বিজ্ঞাপন

স্কুল ঘরে বাজ পড়ছে, শুনছ?
জিনা শুনি নাই
হ তুমি শুনবা কেম নে / তুমি ত বেং ধরায় বেস্ত। পুরা গ্রামের উপর দিয়া তুফান বইয়া গেল আর তুমার কুন খবর নাই। কত জনের ঘর বাড়ি যে ভাংছে
একটা ঘর পুইরা ছাই, তাই দেখতে যাইতাছি। তাছাড়া আমি হইলাম গিয়া ম্যানেজিং কমিটির চেয়ারম্যান সবার আগে তো আমারই যাওন দারকার।
উস্তাদ, খবর পাইছি আলমগির সাব লক জন নিয়া আসতাছে।
আসতাছে। আসুক।গত বছর বিদুতসাহি পদে ইলেক্সন কইরা হাইরা গেছে। এই বার নাকি মেনেগিং কমিতির চেয়ারমেন পদে খারাইব। খারাক। এক্তা ভুট অ পাইব না। আর তুমারে ন আকইছি যখন তখন আমারে উস্তাদ দাকবানা
কি দাকুম তাইলে
চেয়ারমেন সাব দাকবা। আমি কি এই গ্রামের চেয়ারমেন না। নাকি এখন আমারে চেয়ারমেন মনে হয় না?

স্কুল ঘরের উপর ই বাজ পড়ছে, পোলা মাইয়া একসাথে পড়লে স্কুল ঘরের উপর বাজ পরব না কি আমার মাথায় পড়ব?
পোলা মাইয়া একসাথে পড়ার সাথে বাজ পড়ার কি সম্পর্ক বুঝলাম না
তুমি বুঝ বা কেম নে? তোমার কাজ ব্যাঙ ধরা যাও গিয়া ব্যাঙ ধরগা
তা শুন ছি তুমি নাকি ব্যাঙ খালি ধরই না ভাজা কইরা খাও
খাই মাঝে মধ্যে
খাইতে কেমন
স্বাদ খারাপ না। কেন আপ নে খাইবেন
তও বা তউবা কি কও এসব, নাউজুবিল্লাহ। আমি গেল বছর হজ কইরা আসছি আর তুমি আমারে এসব কি কও
ঠিকই কই চেয়ারমেন সাব। আপনি যে লাল পানি খান সেতাও আমি জানি। একবার ব্যাঙ ভাজা দিয়া খান, বরই মজা।
যাও দূর হউ সামনে থেকে। আমার সামনে আর আসবা না। তমারে লেখাপরা জানা লক জান তাম, ব্যাং ধইরা ধইরা তমার মাথা দা পুরাই গেছে ।

ততখনে পুরা গ্রাম রটে যায় স্কুল ঘরে বাজ পরেছে। পঞ্চম শ্রেণীর কক্ষটা পুরাই পুরে গেছে। দু দিন বাদেই ব্রিত্তি পরিক্ষা। গ্রামের ছাত্ররা ক্লাস করবে কথায় এখন। খুলা মাথে
লালচান এর বউ মানুসের বারিতে বারিতে কাজ করে। লালচান নিশেধ করে তাও করে। এ নিয়ে ঝগ্রা করে বউ চলে যায় দুই ছেলে নিয়া। কালাচান আর হিরাচান।
আপ্নে আমার কন সখ আহ্লাদ তা মিতাইছেন শুনি
এইজন্য শখ আহ্লাদ মিতানর জন্য তুমি মাইন্সের বারিতে কাজ করবা
হ করমু। আপ্নে কি করবেন শুনি / ব্যাঙ ভাইজা খাওয়াইবেন না একতারা বাজাইয়া গান শুনাইবেন কন
কন কন জবাব দেন না কেন
তুমি আমার সামনে থিকা যাও
হ হ জাইতাছি। আপনার সামনে থিকা শুধু না আপ্না এর বারিত থিকা পরজন্ত জাইতাছি,
হ হ যাও
জাইতাছি কইলাম
হ জাওনআ, তমারে মানা করছে কে
সব জিনিশ উথানে ছুরে মেরে সে দুই ছেলে নিয়ে চলে গেল।
উস্তাদ ভাবিসাব ত চইলা গেল
হ গেছে গা যাক গা। তার ভাই এরা যখন জায়গা দিব না দুই দিন পরে থিকই আইব। শন এইতা হল গিয়া তার ভিতা। ভিতা ছাইরা জাইব কই
সব জিনিস পত্তর ত উথানে ছিউরা দিয়া গেল
দেউক
বনশি জিনিসগুলো তুলে ঘরের মধ্যে রাখে ।
গ্রামের মসজিদে মাইক দিয়ে সাহাজ্য চাওয়া হয়েছে। তুফানে অনেক বারিঘর ভাংছে। স্কুল ঘরটা জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করন দরকার। হেড মাস্তার সাহেব মন খারাপ করে ভাঙ্গা স্কুল ঘরের সামনে দারিয়ে আছেন। তার ছখে অস্র বেশির ভাগ ঘরের চালা উড়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বর ক্লাস রুমের।

পর দিন লালচান খয় ক্ষতি দেখতে বের হল।
মন খারাপ কইরেন না হেদ মাস্তার সাব
ইউ এন অ সাহেব বলেছেন দ্রুত ব্যবস্থা করবেন
ইউ এন অ সাব যখন কইছেন তখন থিকই ঘর তুইলা দিবেন
কিছু মনে কইরেন না হেদ মাস্তার সাব।
স্কুলে সাহাজ্য দেওনের লাইগা কন বিকাশ নং আছে
আছে। তা তুমি এই নও দিয়া কি করবা
থাকলে দেন না। নাকি আমারে দিতে কন নিসেধ আছে
না কুন নিসেধ নাই।
নেও এই নেও ন
জারুল তলার টং দকান আছে। সেখানে যায়। আখাউরা জাওয়ার মেইন রড। তং দকানে পান বিরি সিগারেত সবই বিক্রি হয়, এক কনে লেখা এখানে বিকাশ করা হয়
এই এক্তা বিকাস কর ত
কত তেকা
দস হাজার।
এত তাকা তুমি বিকাশ করবা
হ আমি করমু, তুমারে বিকাস করতে কইছি তুমি করবা। এত কথা কু কেন। নেও এই নেও ন, এহ্অন বেসি কতা না বইলা তেকাতা তারাতারি বিকাশ কর
কুল ঘরের মেরামতের কাজ পুরন্দমে চলছে। ঝরে গ্রামের অনেকের ই বারি ঘর ভেঙ্গে গেছে, তাও অনেকেই এসেছে সাহাজ্য করতে। কেউ বাস দিয়ে কেউ শ্রম দিয়ে
এত তারাতারি স্কুল ঘর উথব সপ্নেও ভাবি নাই
গ্রামের লক স্কুল এত পসন্দ করে
তারা স্কুল এর চেয়েও বেসি পসন্দ করে আপ্নেরে। আপ্নে বলছেন তাই
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেক্তি গন অ স্কুল রে সাহাজ্য করতাছে। একজন ত পুরা দশ হাযার তাকা বিকাস করছে। আমার কাছে পুরাই সপ্ন মন এহইতাছে
ইউ এন ও সাব আসবেন বলেছেন
আসুক। আইসা দেখব কাজ সেশ
হেদ মাস্তার অ হাস লেন। তার চখে আন্দের আস্রু। বললেন কি সমস্যা দেখ ত দেখি লালচান, হইলদা পকা এখন বের হয় নাই কিন্তু আমার চখে খালি তখন থেইকা হইলদা পকা আইসা পরতাছএ
আমার চখেই অ এক্তা হলুদ পকা পরছে
খবর শু ন ছ, লালচান। আমাগো চেয়ারমেন সাহেব দিল দরিয়া মানুশ। তিনি দুই বান্দিল তিন দিয়েছেন স্কুল ঘরকে তাতখনিক সাহাজ্য হিসেবে । আর গপন এগপনে যে কত সাহাজ্য করতাছেন শুন লা বিসসাস জাইবা না । তার নিশেধ আছে বলায়। নগদ দস হাযার তাকা বিকাস করছেন গপনে । কাউরে বলা নিশেদ
কাউরে বলা নিসেধ হইলে বলতাছ কেন
স্কুলের অঙ্ক সিক্ষক কামাল সাহেব মাইক হাতে নিয়ে বলতে লাগলেন
বিসিস্ত জন দরদি অত্র এলাকার চেয়ারমেন এই স্কুলের মেনেজিং কমিতির সভাপতি খতিগ্রস্ত স্কুলের সাহাজ্যারথে নগদ পাচ হাযার তাকা আর দুই বান্দিল তিন সয়া ইয়তা করেছেন, জরে হাত তালি। এমনকি এই স্কুলের উন্নয়নে তিনি এতই আত্ত নিবেদিত যে বিসসস্ত সুত্রে জানা গেছে যে তিনি গপনে স্কুল কে নগদ পঞ্ছাশ হাজার তাকা বিকাশের মাধ্যমে প্রদান করেছেন । এই তালি হবে, এই পলাপাইন হাত তালি দিস্না কেন। এই ফাজিল
আমি গপনে পঞ্চাশ হাজআর দিছি তুমি জানলা কেম নে
এইসব খবর জানা যায়। এইসব খবর বাতাসে ভাসে। আর এই স্কুলের জন্য এমন মায়া অত্র অঞ্ছলে আপনার ছাড়া আর কার আছে
চেয়ারমেন প্রসন্ন হাসি হাস্লেন। কামাল ছেলেতাকে তিনি দেখতে পারতেন না। না বুদ্ধি আছে এর মাথায়। আগামি এলেক্সনে এমন লকই তার দারকার। না আসছে বছর একে শ্রেষ্ঠ সিক্ষক পদক দেয়া যায় কিনা এতা তিনি বেক্তিগত ভাবে দিসি সাহেবের কাছে বলবেন।

ভিরের মধ্যে লালচান অ দারাইয়েছিল মজা দেজখতেছিল । অ বংসি চল বারিত যাই । তুমার ভাবি সাব ফিরা আসছে কিনা চল দেহি
আর যদি ফিরা না আসে
না আসলে আর কি করা। তার ভায়েরা খেদায়া না দেয়া পরজন্ত অপেক্ষা করা লাগ ব
তা কন চিন্তা নাই। ঘরে ঝুপ্রিতে ব্যাঙ আছে। বেং ভাজা খাইছনি কন দিন
না উস্তাদ
চল আইজ তমারে বেং ভাজা খাওয়ামু।
ঘরের সামনে ঝাতা হাতে দারিয়ে লালচানের বউ, দুই ছেলে মায়ের পেছনে।
ল্লাচানের বউ এর রন্রঙ্গিনি মুরতি দেখেই বন্সি পালাল।
ত্রাঙ্কে র মধ্যে পঞ্ছাস হাযার তেকা ছিল। ভিতা বিক্রির তেকা, তেকা কই
তেকা কই আমি কি জানি
তমার পলার চিকিতসা করতে অরধেক তেকা গেছে
বাকি অরদেকে তেকার কতা কইতাছি। সেইতা কই সেইতা কই আমি কি জানি
আসার পথে শুনলাম কেদা বুলে স্কুল ঘর উথানর লাইগা পঞ্ছাস হাযার তেকা দান করছে
জার তেকা আছে সে দান করছে
আপ্নের তেকা আছে
আমার তেকা তাক লে ত আমি নতুন স্কুল বিলদিং ই কইরা দিতাম । আজাইরা খুইজনা বউ । হয়ত তেহা গায়েব হইয়া গেছে।

মেয়েছেলে বারিতে না থাকলে এমন অনেক কিছুই গায়েব হয়ে জায়
আফনের এ যদি একদিন আমি গায়েব না করছি ত আমার নাম ই কুলসুম বেগম না ।
জান বারিত তেইকা বাইর হন
আমার বারিত থেইকা তুমি আমারে বাইর কইরা দিবা
হ দিমু। জান কইছি, বারিত থেইকা বাইর হন কইলাম, আমার চক্ষের সামনে থেইকা দূর হন
থিক আছে জাই। জাওয়ায় আগে আমার একতারা তা নিয়া জাই
আপ্নের একতারা দতারা সব নিয়া বাইর হন, এক্ষুনি বাইর হন
একতারা হাতে নিয়ে বারি থকে বেরিয়ে জায় লালচান। কিছু দূর এগতেই তার সাথে জগ দেয় বংসি। উস্তাদ দুইতা বর বেং ধরছি। চলেন ভাজি
চল
উস্তাদ আইজ ছইর শিখাইবেন
শিখামু নে চল এখন।
রাত নামে। চাদ উথে। লতা পাতা দাল জগার করে বংসি আগুন ধরায়। আগুনের মধ্যে কাথি গেথে বংসি বেং পুরাতে থাকে। বাতাসে মাংস ভাজার চমৎকার ঘ্রান ছরিয়ে পরে। লালচান একতারা হাতে নেয়। বাতাসে আরও অন্য রকম এক সুর ছরিয়ে পরে। সেই সুর এই প্রিথিবির নয়।

নোট: লেখকের বানান হুবহু রাখা হয়েছে।