চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বেড়ে ওঠা সন্ত্রাসী চক্র কি নিয়ন্ত্রণের বাইরে?

গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির মধ্যে বেড়ে ওঠা সন্ত্রাসী চক্রের তৎপরতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি কক্সবাজারের উখিয়ার সোনারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪ শিশু শিক্ষার্থীকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণের কথা বলে অপহরণ করে তাদের স্বজনদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে। ঘটনার জন্য রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী চক্রকে অভিযুক্ত করেছে শিশুদের স্বজনরা।

রাখাইন থেকে ১৯৯১ সালে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ে এবং টেকনাফের হ্নীলায় দুটি করে মোট চারটি শিবির ছিল। এরপর ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা ঢলের পর টেকনাফে আরও ৬টি এবং উখিয়ায় ২৪টি আশ্রয়শিবিরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা সাড়ে ১১ লাখ।

সময় যত গড়াচ্ছে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতাও তত বাড়ছে। এসব ক্যাম্পে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের কর্মকাণ্ড দিন দিন বেড়েই চলেছে। সামান্য ঘটনা থেকে ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা। আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, পূর্ব-শত্রুতার জের, মাদক, অস্ত্র ও মানবপাচারের জন্য অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো।

বিজ্ঞাপন

কিছুদিন আগে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করা এক রোহিঙ্গা নেতা নিহত হয় ক্যাম্পে। সেই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন ও আটককৃত সবাই বিভিন্ন ক্যাম্পের রোহিঙ্গা। এছাড়া ক্যাম্প এলাকায় গড়ে উঠছে অস্ত্র তৈরি ও মেরামতের কারখানা, যা বাংলাদেশের জন্য যথেষ্ঠ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও অভিযানেও ঠেকানো যাচ্ছে না অরাজকতা। রোহিঙ্গাদের এমন কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় আছেন ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দারা। রোহিঙ্গাদের সহিংস আচরণের বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে প্রশাসনকেও।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বানে পুরোপুরি মানবিক কারণে দেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ধারণা করা হচ্ছিল পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে ফিরে যাবে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা। কিন্তু বর্তমান অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ঠিক কবে এই রোহিঙ্গারা ফিরে যাবে, বা আদৌও তারা ফিরতে পারবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা জোরদার হচ্ছে।

আমাদের আশাবাদ, যত দিন রোহিঙ্গারা ফিরে না যাচ্ছে, ততদিন ওইসব ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর দেবে প্রশাসন। এছাড়া প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে বাস্তবে রুপান্তরিত করতে সরকারসহ সব মহল যথাযথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন