চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রোবট বিপ্লব: সৃষ্টির সঙ্গে থাকবে বিনাশ

সময় আসছে গ্রীন ইকোনমির

২০২৫ সাল নাগাদ সারাবিশ্বে মোট কর্মসংস্থানের অর্ধেক কিংবা তারও বেশি দখলে নেবে মেশিনারি। যা প্রত্যক্ষ বিচারে উৎপাদন ব্যবস্থার জন্য সম্ভবনা। ঠিক তেমনই কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে অনেক পেশাজীবী শ্রেণী। উৎপাদন ব্যবস্থায় প্রযুক্তির এমন ব্যবহার আমাদের মুখোমুখি করবে,‘সৃষ্টির বিপরীতে বিনাশ পরিস্থিতির’।  উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক মুনাফার স্বার্থে সেটির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সব থেকে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে কর্মজীবী শ্রেণীর।

সম্প্রতি ওয়ার্ড ইকোনোমিক ফোরাম তাদের এক পূর্বাভাস মূলক গবেষণায় এ তথ্য তুলে এনেছে। 

বিজ্ঞাপন

থিংক ট্যাংক প্রতিষ্ঠানটি বলছে: এ সময়ের মধ্যে ‘রোবট বিপ্লব’ তার পূর্ণতা পাবে। যার ফলে কর্মক্ষেত্রে সংস্থানে আসবে এক বিশাল পরিবর্তন।  ৯ কোটি ৭০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা যেমন ওঠে এসেছে তাদের এ গবেষণায়, ঠিক তার বিপরীতে পুরাতন অনেক কর্মজীবী শ্রেণী হারিয়ে যাবার সম্ভবনার কথাও বলা হয়েছে।

যান্ত্রিকীকরণের ফলে শিফট ভিত্তিক, ম্যানুয়াল, প্রশাসনিক এবং ডাটা এন্ট্রি’র মতো সেক্টরগুলোতে কর্মরতরা সব থেকে বেশি কাজ হারানোর শঙ্কায় পড়বে।

বিজ্ঞাপন

এত শঙ্কার মাঝেও আশার আলো ওঠে এসছে ডাব্লিউ ই এফ’র গবেষণায়। তারা বলছে: নতুন নতুন কর্ম সম্ভবনা তৈরি হবে এ সময়ে। পাশাপাশি ওয়েব, সেন্সর, পরিবেশগত এবং সৃষ্ট ডাটা সমন্বিত বিশাল তথ্য ভাণ্ডারের ‘বিগ ডাটা’ এসময়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। যেখানেও তৈরি হবে বিশাল কর্মসংস্থান। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি এ সময়কে ‘গ্রীন ইকোনমি’র সময়কাল হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ডাব্লিউ ই এফ তাদের এ গবেষণায় বিশ্বের ৩০০টি বৃহৎ ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের ওপর সার্ভে পরিচালনা করেছে। এ প্রতিষ্ঠান গুলোতে ৮০ লাখ কর্মী সার্ভেকালীন সময়ে কর্মরত ছিলেন।

সার্ভেতে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ৫০ শতাংশ কর্মচারী মনে করছেন উৎপাদন ব্যবস্থায় মেশিনারি’র রোবটিক এমন ব্যবহারে উৎপাদন বর্তমান সময়ের তুলনায় অনেক অংশে বেড়ে যাবে। আবার ৪৩ শতাংশ এমন অনিবার্য ভবিষ্যতকে দেখছেন বাঁকা দৃষ্টিতে। তারা মনে করছে মেশিনারির ব্যবহার এমন বহুল আকারে শুরু হলে, তাদের অনেকে চাকুরি হারাতে পারেন।

বৈশ্বিক করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারির কারণে উৎপাদন ব্যবস্থায় যান্ত্রিকীকরণ আরও বেশি ত্বরান্বিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে ডাব্লিউ ই এফ। তারা বলেছে: কোভিডে’র উদ্ভুত পরিস্থিতি’ত উৎপাদন ব্যবস্থায় মেশিনারির ব্যবহার বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। সঙ্কট সামাল দিতে উৎপাদন প্রতিষ্ঠান গুলো ব্যয় সংকোচ নীতি গ্রহণ করেছে, কাজে নতুন পদ্ধতির সঙ্গে রপ্ত হচ্ছে।

এটা অটোমেশনে’র জন্য যেমন সুসংবাদ হয়ে এসেছে, ঠিক বিপরীতে অবস্থা কর্মজীবী শ্রেণীর।  স্বাভাবিক পরিস্থিতি মধ্যদিয়ে উৎপাদন ব্যবস্থায় মেশিনারির ব্যবহার বাড়তে থাকলে শ্রমিকরা যে ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতো, কোভিড পরিস্থিতিতে হুট করে এমন পরিবর্তনে তারা দ্বিগুণ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে।  সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি।