শুক্রবার রাতে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক’ পরিচয়ে পঞ্চাশোর্ধ একজন ব্যক্তির সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং তাকে পা ধরে মাফ চাওয়ানোর একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। কিন্তু চ্যানেল আই অনলাইনের অনুসন্ধানে জানা যায়, সেই ব্যক্তি আদৌ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নন।
ভিডিওর সূত্র ধরে দেখা যায়, নিজেকে ‘ঢাবির শিক্ষক’ দাবি করা রিয়াদ তানসেন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক বিভাগের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর। তার সঙ্গে উক্ত ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে নিজেকে ভিডিওর ব্যক্তি নন বলে দাবি করেন।
চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি হয়তো আমার মতো দেখতে, কিন্তু আমি নই। বিষয়টি নিয়ে আমি খুবই বিব্রতকর অবস্থায় আছি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আমজাদ হোসেন এ বিষয়ে বলেন, ভিডিওটি আমি এখনও দেখিনি। তবে কেউ যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে এভাবে বিশ্ববিদ্যালয়কে কলঙ্কিত করতে চায় তাহলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
‘আর তদন্তে যদি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রমাণিত হন তবে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
শুক্রবার রাতে নিউমার্কেট এলাকায় ওই যুবকের গাড়িতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্টিকার লাগানো ছিল। এই স্টিকার শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনের ভিত্তিতে রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে ইস্যু করা হয়।

এ বিষয়ে প্রক্টর আমজাদ হোসেন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারের ফটোকপি এবং ফটোশপের মাধ্যমে তৈরি করা ভুয়া স্টিকার অনেক অপরাধীরা ব্যবহার করে থাকে। এ বিষয়ে আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে।
ভিডিওতে একটি কালো রঙের গাড়িতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো দেয়া স্টিকার দেখা যায়। স্টিকারটি আসল নাকি ফটোকপি তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।
ধারণা করা হচ্ছে, রিয়াদ তার সদ্য কেনা গাড়িটি নিয়ে রাস্তায় বের হওয়ার পর ওই বাকবিতণ্ডায় জড়ান।
এমন সন্দেহজনক স্টিকারযুক্ত কোন গাড়ি দেখলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করা এবং এসব বিষয়ে সঠিক তথ্য না জেনে তাদেরকে ঢাবির শিক্ষক পরিচয় দিয়ে সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে আরো বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার অনুরোধ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর।
প্রচারিত ভিডিওটিতে দেখা যায়, পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তির শার্টের কলার ধরে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করছেন কালো পাঞ্জাবি পরিহিত এক ব্যক্তি।
এসময় নিজেকে মাস্তান বলেও হুমকি ওই ব্যক্তি। একপর্যায়ে পঞ্চাশোর্ধ বয়সী ব্যক্তিকে পায়ে ধরে মাফ চাওয়ায় ওই পাঞ্জাবি পরা ওই ব্যক্তি।
এরপর ভিডিওটি মুহুর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে তীব্র নিন্দার ঝড় তোলে। অনেকে বিষয়টি নিয়ে আইনের আশ্রয় নেয়ারও দাবি তোলেন।







