চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রাজু ভাস্কর্য ও রাজুর স্মৃতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কয়টি ভাস্কর্য মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে তার মধ্যে অন্যতম প্রধান হচ্ছে রাজু ভাস্কর্য। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি চত্বরে অবস্থিত। পথচারী তো বটেই, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পর্যন্ত এ ভাস্কর্যের ইতিহাস জানে না। অনেকে মনে করে, এটি মুক্তিযুদ্ধের আন্দোলনের একটি স্মারক। কিন্তু এই ভাস্কর্যর আসল ইতিহাসটি প্রজন্মের অধিকাংশ মানুষই জানে না। জানতে চায়ও না। ইতিহাস-বিস্মৃত এই জাতির কাছে অবশ্য এর বেশি কিছু আশা করাটাও ভুল! এ বছর একুশে ফেব্রুয়ারিতেই আমরা দেখেছি, মুক্তিযুদ্ধের সাত বীরশ্রেষ্ঠকে ‘ভাষাশহীদ’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের ছবি ব্যবহার করে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে! যে দেশের মানুষ ভাষা আন্দোলনের শহীদ আর মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের গুলিয়ে ফেলে, সে দেশের মানুষের কাছে আর কিই-বা আশা করা যায়?

আজও যখন টিএসসির সড়ক দ্বীপের পাশ দিয়ে আসা-যাওয়া করি, তখন এই ভাস্কর্যটি দেখে মনটা বিষণ্ণ হয়ে ওঠে! কেবলই মনে হয়, কী লাভ হয়েছে এই ভাস্কর্য নির্মাণ করে? কী লাভ হয়েছে রাজুর আত্মদানে? অথচ কত প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে, কত কাঠ-খড় পুড়িয়েই না এই ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়েছিল! বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সিটি করপোরেশনের অনুমোদন পেতে, ভাস্কর্য নির্মাণের টাকা যোগাড় করতে কী অসম্ভব প্রতিবন্ধকতাই মোকাবিলা করতে হয়েছিল! গভীর সংকীর্ণতা, দলবাজি, কারও কারও এই ভাস্কর্যের টাকা মেরে দেওয়ার ধান্দাসহ বহুবিধ প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে শেষ পর্যন্ত যে এই ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছিল, তা কেবল শহীদ মঈন হোসেন রাজুর কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ বন্ধু-সতীর্থর কারণেই হয়েছিল!

কয়েক বছর রশি টানাটানির পর এই ভাস্কর্য ১৯৯৭ এর শেষের দিকে তৈরি হয়। উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালের ১৩ মার্চ তদান্তিন প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনসমূহের জোট গণতান্ত্রিক ছাত্র ঐক্যের সন্ত্রাস বিরোধী মিছিল চলাকালে সন্ত্রাসীরা গুলি করলে মিছিলের নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা মঈন হোসেন রাজু নিহত হন। রাজুসহ সন্ত্রাস বিরোধী আন্দোলনের সকল শহীদের স্মরণে নির্মিত হয় এই ভাস্কর্যটি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মইন হোসেন রাজু ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের নেতা। একই সংগঠনের কর্মী হওয়ার কারণে রাজু ছিল আমারও ঘনিষ্ঠ। সে সময় আমরা বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে তখন আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছিলাম। সুন্দর জীবনের স্বপ্ন, সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার, সমাজটাকে বদলে দেবার স্বপ্ন! কিছুটা একরোখা, জেদি অথচ আশ্চর্যরকম সরল রাজু ছিল আমাদের সেই স্বপ্নবানদের একজন, বলা যায় মধ্যমণি। সকলের প্রিয়। আমরা সেই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা ছাত্র ইউনিয়ন করতাম তারা মোটামুটি একই রকম হলেও রাজু ছিল একটু আলাদা। সে ছিল অন্য সবার চেয়ে শান্ত কিন্তু দৃঢ়।

রাজুর নিয়মানুবর্তিতা ছিল চোখে পড়ার মতো। ক্লাস-পড়া-সংগঠনের কাজ সব কিছুতেই সে ছিল কর্তব্যনিষ্ঠ। সব কিছু ম্যানেজ করে চলত। তবে কিছুটা ব্যত্যয় ঘটত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার ব্যাপারে। তখন রাজুর বাসা ছিল রাজধানীর শ্যামলীতে, যেখানে তার মা, বড়ভাই ও বোন থাকতেন। এই পরিবারের স্নেহধন্য জেদি ছেলে রাজুকে তাই পরিবারের টানে ও মায়ের অনুরোধে নিয়মিত বাসায় যেতে হতো। রাজু বাসায় যেত ঠিক, কিন্তু আবার ফিরেও আসত। ওর মন জুড়ে ছিল ক্যাম্পাস, বন্ধু-বান্ধব, সংগঠন, ছাত্রদের দাবি-দাওয়া-আন্দোলন। তাই তো বাসার চেয়ে ক্যাম্পাসে (শহীদুল্লাহ হলের ১২২ নম্বর রুমে, যেখানে তার সিট বরাদ্দ) তাকে বেশি দেখা যেত।

১৯৯২ সালের ১৩ মার্চ। সেদিন ছিল শুক্রবার। রাজুসহ আমরা কয়েকজন ছাত্র ইউনিয়নের উদ্যেগে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কোচিং নিয়ে কথা বলছিলাম টিএসসির সবুজ চত্বরে। তখন আমরা প্রতি বছর ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির নিয়মনীতিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করতে ‘প্রজ্ঞা কোচিং সেন্টার’ নামে একটি একটি স্বল্পকালীন ভর্তি-কোচিং চালু করেছিলাম। এর পুরোভাগে ছিল রাজু। কোচিং সেন্টারটির নামও ছিল রাজুর দেওয়া।

এর উদ্দেশ্য ছিল: যেসব শিক্ষার্থী টাকার অভাবে কোচিংয়ের সুযোগ পায় না, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির নিয়ম-নীতি, প্রশ্নপত্রের ধরন ইত্যাদি বিষয়েও তেমন ধারণা থাকে না, সেসব বিষয়ে তাদের ধারণা দেওয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে সহজভাবে প্রত্যেকটি বিষয় স্পষ্টভাবে তুলে ধরা। আমরা সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের যুক্ত করেছিলাম এই প্রজ্ঞা কোচিং সেন্টারের কার্যক্রমে।

আমরা ভর্তিপরীক্ষার ঠিক আগে এই কোচিংয়ের আয়োজন করতাম। এতে করে ঢাকার বাইরে থেকে আসা বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী যাদের পক্ষে দীর্ঘদিন ঢাকায় থেকে কোচিং করা সম্ভব হতো না, তারা বেশ উপকৃত হতো। রাজুর আকাঙ্ক্ষা ছিল ছাত্রদের উপকার করা, শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ভূমিকা পালন করা। তাই তো গতানুগতিক মিছিল-মিটিংয়ের বাইরে শিক্ষার্থীদের সরাসরি কল্যাণ হয় এমন সব উদ্যোগের দিকেই রাজুর ঝোঁক ছিল বেশি।

যাহোক, সেদিন পড়ন্ত বিকেলে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের অস্ত্রধারীরা টিএসসিতে বন্দুকযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। আমরা শত শত সাধারণ ছাত্রছাত্রী অস্ত্রধারী গুণ্ডাদের সন্ত্রাসের কাছে টিএসসিতে জিম্মি হয়ে পড়ি। সেদিন ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাদের ভূমিকা ছিল স্রেফ দর্শকের!
পুলিশের এই ভূমিকার প্রতিবাদে আমাদের মধ্যে প্রথম সোচ্চার হয় রাজু। সে কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারকে অস্ত্রবাজদের গ্রেপ্তার করার আহবান জানায়। ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে পুলিশ ভূমিকা পালন করে বটে, কিন্তু সেটা ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক ছাত্রদলের গুণ্ডাদের প্রটেকশন দেওয়ার কাজে। তারা বিপরীত দিকে থাকা ছাত্রলীগের ক্যাডারদের দিকে টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। তা ক্রমেই বিস্তৃত হয় পুরো টিএসসিতে, যেখানে অসংখ্য ছাত্রছাত্রী আটকা পড়ে।

বিজ্ঞাপন

এর প্রতিবাদে রাজুর নেতৃত্বে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে মিছিল বের করি। মিছিলে শরিক হন ‘গণতান্ত্রিক ছাত্রঐক্যভুক্ত’ বাম ছাত্রসংগঠনের কর্মীরাও। টিএসসির সড়কদ্বীপ প্রদক্ষিণ করার সময় ডাসের সামনে ‘অস্ত্র শিক্ষা একসাথে চলবে না’, ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ এক হও’ এ স্লোগান যখন উচ্চারণ করছিলাম, তখন হাকিম চত্বরের সামনে থেকে একঝাঁক বুলেট মিছিল লক্ষ্য করে ছুটে আসে। ছাত্রদলের চিহ্নিত গুণ্ডারা সরাসরি মিছিল লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। এর একটি গুলি কপালে লাগে মিছিলের সামনে থাকা রাজুর।

স্লোগান মুখে নিয়েই সে লুটিয়ে পড়ে টিএসসির স্বোপার্জিত স্বাধীনতা ভাস্কর্যের সামনে সড়ক দ্বীপের পাশের রাস্তায়। আমরা হতবিহ্বল হয়ে থমকে যাই। মিছির ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রাণভয়ে দ্বিগ্বিদিক ছুটতে থাকে। তখন সময় সন্ধ্যা সোয়া ছয়টা। রাজুর রক্তমাখা দেহ নিয়ে আমরা রওনা হই ঢাকা মেডিকেল কলেজে, ৩২ নং ওয়ার্ডে। রাজুর দেহ থেকে অবিরাম টপ টপ করে রক্ত ঝরতে থাকে। তার শার্ট রক্তে ভিজে যায়। রক্তাক্ত রাজুকে এক ঝলক দেখেই কর্তব্যরত ডাক্তার বললেন, রক্ত চাই, অনেক রক্ত। মুহূর্তে রাজুর সহযোদ্ধারা দল বেঁধে রক্ত দেওয়ার প্রক্রিয়ার শামিল হন।

সব প্রক্রিয়া দ্রুত এগোতে থাকে। সেই সঙ্গে এগোয় সময়। সবার মধ্যে উৎকণ্ঠা, শঙ্কা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীতে ভরে যায়। শত শত বন্ধু, সহযোদ্ধা, রাজুর গুলিবিদ্ধ হওয়ার সংবাদ শুনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছুটে আসে। সবারই অধীর প্রতীক্ষা। রাজুর জীবনের জন্য যারা সব কিছু করতে প্রস্তুত!

কিন্তু রাজুকে আর রক্ত দিতে হয়নি। সবার সব প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে, কাউকে কিছু করার সুযোগ না দিয়ে রাজু চিরতরে চলে যায়। একটা দুঃসহ বেদনা আমাদের আচ্ছন্ন করে। আমরা রাজুর পরিবারের সদস্য– শোকবিহ্বল বড়ভাই রানা, শোকাতুর বোন রুমা আর গভীর যন্ত্রণাহত মাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলি। সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির বুলেটে এভাবেই শেষ হয়ে যায় একটি অনন্ত সম্ভাবনাময় জীবন!

অথচ রাজুসহ আমরা একটা সুস্থ, স্বাভাবিক ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছিলাম। আমরা চেয়েছিলাম, সন্ত্রাসনির্ভর ছাত্ররাজনীতি বন্ধ হোক। শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে পাক। বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার প্রকৃত পরিবেশ ফিরে আসুক। এমন একটি পবিত্র আকাঙ্ক্ষার জন্য আমাদের বন্ধু মঈন হোসেন রাজু জীবন বিসর্জন দিয়েছে।

আমরাও আমাদের জীবন-যৌবনকে বাজি ধরে লড়াই-সংগ্রাম করেছি। কিন্তু ছাত্ররাজনীতির নামে দুর্বৃত্তায়নকে রুখতে পারিনি! এটা আমাদের যেমন ব্যর্থতা, গোটা জাতির জন্যই তা দুর্ভাগ্যজনক!
মঈন হোসেন রাজু সন্ত্রাসবিরোধী মিছিলে শরীক হয়ে আত্মদান করেছেন প্রায় তিন দশক হলো। কিন্তু আজও আমাদের ছাত্ররাজনীতি ও জাতীয় রাজনীতি অপরিবর্তিতই রয়ে গেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক কর্মী আর গুণ্ডা-অপরাধীর সঙ্গে কোনো পার্থক্য করা যায় না। সন্ত্রাসী মানুষ হত্যাকারী, চাঁদাবাজ-অপহরণকারী-গণদুশমন সমাজবিরোধীদের এক মহা মিলনকেন্দ্র বানানো হয়েছে রাজনীতির মঞ্চকে। এর থেকে উদ্ধারের কোনো আগ্রহ, চেষ্টা বা দায় লক্ষ করা যাচ্ছে না কারও মধ্যে। আমাদের ভরসার জায়গাগুলো খুব দ্রুতই হতাশার চোরাবালিতে হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ এই শিক্ষার পরিবেশ উন্নত ও সুন্দর করার জন্য এদেশ কতনা লড়াই-সংগ্রাম হয়েছে। রাজুরা জীবন উৎসর্গ করেছেন। তবে কি শহীদের আত্মদান বৃথা?

প্রতি বছর ১৩ মার্চ আসে, আমাদের হৃদয় বিষাদে ছেয়ে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে শহীদ রাজু স্মরণে নির্মিত সন্ত্রাসবিরোধী ভাস্কর্যটি হতাশার মর্মরমূর্তি হয়ে দেখা দেয়। বুকের রক্তে সলতে জ্বেলে সন্ত্রাসের অন্ধকারে আগুন জ্বেলেছিল রাজু। আমরা যারা রাজুর সহযোদ্ধা ছিলাম, তারা চেষ্টা করেছিলাম একটি সুস্থধারার সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে যুক্ত থাকার। কিন্তু আমাদের সেই চেষ্টা অনেকটাই বিফলে গেছে। আজ আমরা অনেকেই কেবল স্মৃতিতাড়িত, অবসন্ন। সেই কাঙ্ক্ষিত স্বদেশ থেকে আমরা যেন ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছি। সব কিছু নষ্টদের দখলে চলে যাচ্ছে। অক্ষম দীর্ঘশ্বাস নিয়ে আমাদের সব স্বপ্ন-প্রত্যাশা-সম্ভাবনার কবর রচনা করতে দেখছি!

রাজুর মৃত্যুদিবসে নিজেকে কেবলই অপরাধী মনে হয়, অসহায় মনে হয়! আমরা কি এমন একটি স্বদেশ চেয়েছিলাম? এ জন্যই কি রাজু সন্ত্রাসী জল্লাদের বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে আত্মাহুতি দিয়েছিল?

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

বিজ্ঞাপন