চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রমজান মাসে যেসব কাজ নিষিদ্ধ

সিয়াম তথা রোজা মুমিনকে ইমানের সত্যতার প্রমাণ দিতে প্রশিক্ষণ দেয় অর্থাৎ তাকে বিশ্বাস করতে হবে যে, আমার প্রতিটি মুহুর্তের কাজ আরশের মালিক মহান আল্লাহ পর্যবেক্ষণ করছেন। সুতরাং কোন কাজে তাঁর অবাধ্য হওয়া চলবে না। তিনি যে কাজে সন্তুষ্ট হন, শুধু সে কাজই আমাকে করতে হবে। আর রমজান মাসে কতিপয় নিষিদ্ধ এমন কাজ রয়েছে যেগুলো থেকে আমাদের বিরত থকতে হবে।

বিলম্বে ইফতার করা অনুচিত। আযান হওয়ার সাথে সাথেই ইফতার করা কর্তব্য। ইফতারির আগ মুহূর্তে দোয়া করা যেতে পারে। আর ইফতারের সময়টি আল্লাহর কাছে খুবই পছন্দের। এসময় মুমিন তার ইফতার সামগ্রী নিজের সামনে রেখে যখন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে, তখন আল্লাহ ওই ব্যক্তির তাকওয়া (আল্লাহর প্রতি ভয়) ও আনুগত্য দেখে ব্যাপক খুশি হন।

রমজান-রোজা-অমুসলিমদোজাহানের বাদশাহ নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আল্লাহ ইফতারের সময় বহু লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে  থাকেন আর এ বিষয়টি রমজানের প্রতি রাতেই সংঘটিত হয় এবং রোজা পালনকারীর দোয়া কবুল হয়। [বায়হাকি, হাদিস নং ৩৬০৫]

রোজা রেখে জামাতের সাথে ফরজ সালাত আদায়ে কখনো অলসতা করা যাবে না। আমরা জানি, একা একা নামাজ পড়ার চেয়ে জামাতে নামাজ পড়লে তাতে সাতাশ গুণ বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। অতএব স্বাস্থ্যবিধি মেনে যথাসম্ভব জামাতে সালাত আদায়ের চেষ্টা করা জরুরী।

বিজ্ঞাপন

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রমজানে অনেক বিক্রেতা সমিতি সংকট তৈরি করার জন্য জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি করে থাকে। এর প্রতিদিনের প্রত্যক্ষদর্শী আমরা। এগুলো রমজানে করা একদম নিষিদ্ধ। মনে রাখবেন, আল্লাহ সবকিছু দেখেন, তিনি সর্বশ্রেতা। সুতরাং রমজানে যাতে দ্রব্যমূল্যের দাম আকাশছোঁয়া বেড়ে না যায় সেদিকে বাংলাদেশ সরকারকে কড়া নজর দিতে হবে, নাহয় নাগরিকগণ জীবনে চলার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলবে।

রমজানে বেশি বেশি ঘুমানো নিষিদ্ধ কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি। এসময় পর্যাপ্ত ঘুমানোর সময় বাকি সময়টাকে আল্লহর জন্য ব্যয় করা অর্থাৎ ‍জিকির, দোয়া, তাসবিহ, তাহাজ্জুদ, তারাবিহ ইত্যাদি কাজে সর্বোচ্চ সময় নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

রোজা রেখে মিথ্যা মামলা, সাক্ষ্য, কথা বলা যাবে না।  বেহুদা কাজে এবং দুনিয়াবী ব্যস্ততায় মগ্ন থেকে সময় অপচয় করা যাবে না। রাত জাগা মোটেও উচিত নয় আবার অপচয় ও অপব্যয়ের প্রতি যথেষ্ট সজাগ থাকেতে হবে।

রমজানে অনেকের কুরআন খতম করার উদ্দেশ্য থাকে। তবে তিলাওয়াতের হক আদায় না করে আদায় করা যাবে না। অক্ষরের উচ্চারণ স্থান প্রত্যেকের জানা জরুরী। কেননা নফল ইবাদতের মধ্যে কুরআন তিলাওয়াত সর্বোত্তম। আবার নবী করিম (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই উত্তম, যে কুরআন নিজে শিখে এবং অন্যকে শেখায়।

এসময় বেশি বেশি কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকা অনুচিত। কেননা দোজাহানের বাদশাহ নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজান মাস পেল অথচ তার গুনাহ মাফ করাতে পারলো না সে ধ্বংস হোক। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা আমাদেরকে রমজানে নিষিদ্ধ কাজগুলো থেকে বিরত থাকার তাওফিক দিন। আমীন।

বিজ্ঞাপন