চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রমজানের রোজার আদব তথা শিষ্টাচার

আদব আরবি শব্দ। এর বাংলা প্রতিশব্দ শিষ্টাচার। মানুষের বাস্তব জীবনের প্রতিটি কাজে শিষ্টাচার অত্যাবশ্যক। একজন মুমিনের জীবনে সংক্ষিপ্ত ভ্রমণে ইসলাম ধর্মের শিষ্টাচার হলো আল্লাহ যা কিছু নির্দেশ দিয়েছেন তা পালন করা এবং যা কিছু নিষেধ করেছেন তা পরিহার করা।

রমজানের রোজার সাথে বিশেষ করে সাহরি, ইফতার, কুরআন তিলাওয়াত এসব বিষয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিষ্টাচার রয়েছে।আমরা জানি, মহিমান্বিত এ মাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি বিষয় ‘সাহরি’। সাহরির শিষ্টাচার অত্যন্ত চমৎকার। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ (সা.) এই সাহরির বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, ‘তোমরা সাহরি খাও কেননা সাহরিতে বরকত রয়েছে।’ [সহীহ বুখারি ও মুসলিম: ১৯২৩ ও ২৬০৩]

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এবার আরেকটি বিষয় স্পষ্ট না করলেই নয়, সেটি হলো উত্তম সাহরি কী দিয়ে করবেন? জবাবে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর একটি হাদিস এখানে প্রমাণস্বরূপ উপস্থাপন করলাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: মুমিনের উত্তম সাহরি হলো খেজুর। [সুনানে আবু দাউদ, ২৩৪৭]

অথচ আমরা শুধু ইফতারিতেই খেজুর খাওয়া উত্তম মনে করি।  ।বিষয়টি বা হাদিসটি না জানার কারনেই তা আমাদের মানা হয় না। তাই তো আল্লাহ পবিত্র কুরআন শুরুই করেছেন ‘ইক্বরা’ বা ‘পড়’ শব্দ দিয়ে। কেননা জানা থাকলে যে কোনো বিধান পালন করা সহজ হয়।

রমজানের রোজা পালনে সাহরি খাওয়ার বিধান সুন্নাত। সাহরি খেলে রোযা পালনে কষ্ট কম হয়। একটি বিষয় এখানে তুলে ধরা আবশ্যক মনে করছি, সেটি হলো সাহরির উত্তম সময় কখন? এ বিষয়ে কুরআন ও হাদিসের স্পষ্ট সমাধান রয়েছে। সমস্ত সৃষ্টি জগতের প্রতিপালক, রাজাধিরাজ মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন, তারা শেষরাতে অর্থাৎ সাহরির সময় ক্ষমা প্রার্থনা করে। [সূরা যারিয়াত, আয়াত:১৮]

এছাড়াও হাদিস থেকে জানা যায়, রাসূলুল্লাহ (সা.) সবসময় শেষ সময়ে সাহরি খেতেন। এতে যেমন সাহরির আগে তাহাজ্জুদ পড়ার সুযোগ থাকতো তেমনি শেষ সময়ে সাহরি করাতে ফজরের নামাজের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো না। যেকারনে ফজরের নামাজও জামাতে আদায় করা নিশ্চিত হতো। তাই সেহরিতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল (সা.) এর মহা মূল্যবান শিষ্টাচার আমাদের অনুসরণ করা আবশ্যক।

বিজ্ঞাপন

রমজানের এই সময়টাতে উপর্যুক্ত বিষয়ের সাথে আরও কিছু সাধারণ শিষ্টাচার মেনে চললে হয়তো পরকালে অনেক বড় নাজাতের ফয়সালা হয়ে যেতে পারে। যেমন- পরিবারের সব সদস্যদের সাথে সুসম্পর্ক ও সদাচরণের অভ্যাস গড়ে তোলা, আত্নীয়তার সম্পর্ক ঠিক রাখা, প্রতিবেশীর খোঁজ নেয়া, সুদি লেনদেন, মিথ্যা বলে ধোঁকাবাজি, ঘুষসহ সব ধরনের দুর্নীতি, মাদক সেবন, ব্যভিচারের মত গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকা।

হাদিসে এসেছে, এমন অনেক রোজাদার ব্যক্তি আছে যারা উপোস থাকা ছাড়া আর কিছু পায় না। আবার অনেক রাতজাগা নামাজ আদায়কারী আছে যারা রাত্রি জাগরণ ছাড়া আর কিছুই লাভ করে না।[সুনানে দারেমী: ২৭২০]

আসলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। ইসলামে বলা আছে, মানুষের ইমান ভয় ও আশার মাঝে নিহিত। অর্থাৎ কেউ যদি প্রচণ্ড রকমের ভালো কাজ করে তখন সে আশা প্রকাশ করে আমি জান্নাতে যাবো আবার মুহুর্তের মধ্যে আল্লাহর কোন বিধান পালনে ব্যর্থ হলে মনে করে আমার থেকে পাপী এই পৃথিবীতে কেউ নেই; জান্নাতে যাওয়া তো দূরের কথা। এটিই বাস্তবধর্মী ইসলামের অপরুপ উপমা।

সুতরাং রমজানে দুনিয়াবি ব্যস্ততা কমিয়ে দিয়ে প্রত্যেকটি কাজে ভারসাম্য বজায় রাখা আবশ্যক। তাই যার যার কর্মক্ষেত্রে অনর্থক কথাবার্তা পরিহার করে এই সময়ে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার জন্য সর্বাত্নক চেষ্টা বিদ্যমান রেখে প্রতিটি কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যেতে পারে। আল্লাহ আমাদের সবগুলো রোজা সঠিক হক আদায় করে রাখার তাওফিক দান করুন। আমীন।