চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

যেভাবে সিএনজি চালক থেকে মাদক সম্রাট দেলোয়ার আওয়ামী লীগ নেতা

সিএনজি চালক থেকে আওয়ামী লীগ নেতা তারপরই মাদক বিক্রেতা, ধীরে ধীরে বনে গেলেন বাহিনীর প্রধান। দলের নাম বিক্রি করে গড়ে তুলেছে অস্ত্র ও মাদকের রমরমা ব্যবসা। বলছি নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুরে গৃহবধু নির্যাতনের অন্যতম হোতা দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান মো. দেলোয়ারের কথা। গ্রেপ্তার হলেও এখনো ভয়ে মুখ খুলতে রাজি নয় এলাকাবাসী। তার নিয়ন্ত্রণে নারী-পুরুষের সমন্বয়ে গঠিত মাদকের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে বলেও জানা গেছে।

দুর্গম মেঠোপথ, পাশে নোয়াখালী খাল, বেগমগঞ্জের সীমান্তবর্তী পূর্ব একলাশপুর গ্রামে গড়ে উঠেছে কয়েকটি কিশোর গ্যাং।  খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা এই বাহিনীগুলোর মূল পেশা।

বিজ্ঞাপন

এর মধ্যে একটি গ্রুপের প্রধান হচ্ছে মো. দেলোয়ার। একসময় সিএনজি চালালেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অল্প সময়ের ব্যবধানে দেলোয়ার এখন এলাকার শীর্ষ মাদক সম্রাট ও এলাকার ত্রাস। গত মাসের ২ সেপ্টেম্বর রাত ৯ টার দিকে উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের খালপাড় এলাকার নূর ইসলাম মিয়ার বাড়িতে গৃহবধূর ঘরে ঢুকে তার স্বামীকে পাশের কক্ষে বেঁধে রেখে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে শ্লীলতাহানি করে দেলোয়ারের সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দল।

ঐ সময় গৃহবধূ বাধা দিলে তারা তাকে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করে মোবাইলে ভিডিও চিত্র ধারণ করে। গত ৪ অক্টোবর দুপুরের দিকে ঘটনার ৩২ দিন পর গৃহবধূকে নির্যাতনের ঐ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেলে পুলিশ নারায়ণগঞ্জ থেকে দেলোয়ারকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পরও এখনও ভয়ে মুখ খুলতে রাজি নয় এলাকাবাসী।

গৃহবধূকে নির্যাতনের ঘটনায় নোয়াখালীতে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। দাবি করেছেন সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পুরো এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কায়েম করছে দেলোয়ার বাহিনী। জিম্মি করে রেখেছে এলাকাবাসীকে। কেউ কোনো প্রতিবাদ করলে তার উপর গুলি চালানো হয়, তার বাড়ি-ঘরে হামলা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

২০১৫ সালের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে এই দেলোয়ার অস্ত্র ও মাদকসহ তিনবার গ্রেপ্তার হয়, অপরাধ করার পর গ্রেপ্তার হলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জামিন পেয়ে যায়। বিচার না হওয়ার প্রবণতার কারণেই সন্ত্রাসীরা আরো বড় অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে বলে মনে করে এলাকাবাসী।

এই বাহিনীর সদস্যদের চাঁদা না দিয়ে কেউ কোনো ভবনও তৈরি করতে পারে না, দাবি অনুযায়ী চাঁদা না পেলে বন্ধ করে দেয়া হয় নির্মাণাধীন ভবনের কাজ। বাধ্য হয়েই তাদের চাঁদা দিয়ে কাজ শুরু করাতে হয়।

একলাশপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম জানান, পাশের ইউনিয়নের সন্ত্রাসীদের ক্ষমতা দেখিয়ে দেলোয়ার একলাশপুরে সন্ত্রাসী রাজত্ব কায়েম করছে। সে আমাদের দলের কেউ না, সে দলের কোনো পদ-পদবিতে নেই।

নিরক্ষতার কারণে মানুষ তেমন সচেতন না যার কারণে পূর্ব একলাশপুরে সচেতন মানুষের হার কম। এই ধরনের সন্ত্রাসী গ্রুপের কারণে ভালো পরিবারের সদস্যরাও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে।

মেঠোপথ ও খালপাড়ের কারণে এই এলাকায় পুলিশ তেমন আসে না, আর পুলিশ না আসার কারণেই সন্ত্রাসীরা তাদের অপকর্ম করে খুব সহজেই পার পেয়ে যায়।

নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন জানান, পুলিশ এখন অনেক বেশি তৎপর। কোনো বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেলে তদন্ত করে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেই। ইতিমধ্যে আমরা দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ারকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছি।

খুব শীঘ্রই দেলোয়ারসহ অন্য আসামীরা সর্বোচ্চ শাস্তি পাবে এমনটাই আশা এলাকাবাসীর।