চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মিডিয়াতে আমার কোনো বাজে রিউমার নেই: ফারিয়া শাহরিন

গেল ঈদে প্রচারিত কয়েক শতাধিক নাটকের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে বেশকিছু নাটক। এরমধ্যে আছে ফারিয়া শাহরিন অভিনীত ‘সাদা মানুষ’। সুমন আনোয়ারের পরিচালনায় নাটকে তার সহশিল্পী ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম। ‘সাদা মানুষ’ প্রচারের পর ফারিয়া শাহরিন অনুভব করছেন, অভিনেত্রী হিসেবে দর্শকদের কাছ থেকে অন্যরকম সাড়া পাচ্ছেন। যা তার মন ছুঁয়ে যাচ্ছে। এই নাটকটি সহ সাম্প্রতিক পরিকল্পনা নিয়ে এই অভিনেত্রী কথা বলেছেন চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে:

গত ঈদে আপনার কতগুলো নাটক প্রচার হয়েছে?
লেকু দ্য বস, মানবিক প্রেম, তোমায় আমায় মিলে, জামাই ভার্সেস শ্বশুর এবং সাদা মানুষ। মোট পাঁচটি নাটক প্রচার হয়েছে। কাজ করেছি অনেকগুলো কিন্তু প্রচার হয়েছে সংখ্যায় কম। করোনার কারণে শুরুর দিকে ঈদের জন্য কাজ করিনি। বাসায় থাকতে বোরিং লাগছিল। তাই ধীরে ধীরে কয়েকটি কাজ করেছি তাও শেষ দিকে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

‘সাদা মানুষ’ নাটকে সহ-শিল্পী মোশাররফ করিমের সঙ্গে ফারিয়া

‘সাদা মানুষ’ নাটকের মাধ্যমে অনেকদিন পর আপনি আলোচনায়। কেমন লাগছে?
দেশ ও দেশের বাইরে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ দিয়ে তুমুল আলোচনা দেখেছি। সবাই আমাকে নাটকের চরিত্র ‘অন্তরা’ নামে ডেকেছে। ব্যাচেলর পয়েন্টের জনপ্রিয়তাটা ভিন্ন। পুরোপুরি ভাইরাল। ওই নাটকে মানুষের কাছে ভালো লেগেছে আমার বিউটি, ওয়ে অব টকিং। কিন্তু ‘সাদা মানুষ’ নাটকে অন্য এক ফারিয়াকে দেখে মানুষ প্রশংসা করছে। এর আগে সবাই আমার গ্ল্যামারাস কাজ দেখেছেন। ভাঙতে দেখেনি। আমি নিজেও মাঝেমধ্যে বিরক্ত হই, সবসময় বড় লোকের মেয়ের চরিত্র পাই। কিন্তু ‘সাদা মানুষ’ নাটকে যে চরিত্রটি করেছি এর মাধ্যমে নিজেকে ভেঙেছি। মানুষ ভীষণভাবে পছন্দ করেছেন। প্রত্যেকের মন্তব্য আমার মন ছুঁয়ে গেছে। আমার নতুন একটি পরিবার হয়েছে। তারাও খুব প্রশংসা করেছেন। তারা বলেছেন, এমন ভালো কাজে আমাকে দেখতে চান।

ভিউয়ের হিসেব করলে দুই সপ্তাহে ২৫ লাখের বেশি দর্শক দেখেছেন। তবে ভিউয়ের চেয়ে আমি কমেন্ট পড়ি বেশি। অনেকেই লিখেছেন, ফারিয়া শাহরিন মোশাররফ করিমের সঙ্গে টেক্কা দিয়ে অভিনয় করেছেন! এটা অনেক বড় কমপ্লিমেন্ট। ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ আমাকে আলোচনায় এনেছে এবং সাদা মানুষ দেখে মানুষ আমার অভিনয়ের ফ্যান হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ নাটকের শুটিংয়ের গল্প জানতে চাই?
দুই বছর আগে এ নাটকের শুটিং করেছিলাম। প্রমো দেখানোর পরেও তখন টিভিতে প্রচার হয়নি। তখন মালয়েশিয়া থেকে লেখাপড়া শেষ করে এসেছি। যখন শুটিং করেছিলাম জ্বর ছিল। পতিতার চরিত্র জানতে পেরে ভড়কে গিয়েছিলাম। কিন্তু সুমন আনোয়ার ভাই বলেছিলেন, পতিতাদের কর্মের বাইরেও জীবন থাকে। তাই দেখাবো। শুটিংয়ের সময়ই মনে হচ্ছিল এই কাজ দিয়ে কিছু একটা হবে। যতবার কান্নার দৃশ্যে অভিনয় করেছি কোনো গ্লিসারিন ব্যবহার করিনি। পরিচালক সুমন আনোয়ার ভাই এমনভাবে চরিত্রটি আমার মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছেন, আমি বিশ্বাসই করে ফেলেছি ওটাই আমি। এজন্য হয়তো ভালো অভিনয় করতে পেরেছি। প্রচারের পর অভিনয় দিয়ে এতো প্রশংসা পেয়েছি যে বলার বাইরে। বেশিরভাগ মানুষ শেষ দৃশ্যের বেশি প্রশংসা করছেন। ওখানে কোনো চিত্রনাট্য ছিল না। পরিচালক আমার উপর ছেড়ে দিয়েছিলেন। আমার মধ্যে যে কথাগুলো ছিল তাই বলেছি। সামনের দৃশ্যগুলো একেবারে আনকাট ছিল। পরিণত অভিনয় করেছি মানুষ এই মন্তব্যটা বেশি করেছেন।

সহশিল্পী হিসেবে মোশাররফ করিমকে কেমন দেখলেন?
মোশাররফ করিম ভাই একেবারে ম্যাচিউরড অভিনেতা। তার মতো অভিনেতার সঙ্গে কাজ করতে পারলে বিপরীতে যে থাকেন তার অভিনয়ও চলে আসে। তিনি না থাকলে এতো ভালো অভিনয় হয়তো করতে পারতাম না। আমি বারবার তাকে জিজ্ঞেস করতাম, কী করলে ভালো অভিনয় বেরিয়ে আসবে। উনি সুন্দর সুন্দর উপদেশ দিয়েছেন। তার থেকে অভিনয়ের প্রতিটি স্টেপে সবসময় শেখার আছে।

আপনার সমসাময়িক অনেকেই আপনার চেয়ে বেশি ব্যস্ত। তুলনামূলক আপনাকে কম কাজে দেখা যায় কেন?
ভালো গল্প পাই না। ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ এর পর অনেক কাজের প্রস্তাব পেয়েছি। কিন্তু মন মতো ভালো গল্প কম পেয়েছি। হতে পারে, পরিচালকদের বিশ্বাস কম ছিল যে আমি পারবো কিনা! আমার ধারণা, সাদা মানুষের পর থেকে এখন সবাই বিশ্বাস করবে, ফারিয়া ভালো অভিনয় করতে জানে। ঈদের পর বেশকিছু চিত্রনাট্য পেয়েছি। এরমধ্যে একটা খুব ভালো লেগেছে। সহশিল্পী আছেন ফজলুর রহমান ভাই। আমি সিরিয়াসলি খুব ভালো গল্প ও চরিত্র খুঁজি। এখন অভিনয়ের সুযোগ না থাকলে সেইসব কাজ ছেড়ে দিচ্ছি। কিন্তু একটা জিনিস খেয়াল করলাম, দশটি নাটকের চিত্রনাট্য যদি পাই এরমধ্যে নয়টি গল্পই প্রেম ভালোবাসা কেন্দ্রিক। এতোই যদি বেছে কাজ করি তাহলে দেখা যাবে আমি কাজই করতে পারবো না। তবে একটু অভিনয়ের সুযোগ থাকলে সেগুলো করছি।

স্পষ্টবাদী হিসেবে খ্যাতি আছে আপনার। মুখের উপর সব বলে দেন, কাজ কম পাওয়ার এটাও কি একটা কারণ?
সত্যি জানি না। তবে কিছু ইস্যু ছিল সেগুলোর কারণে মানুষের ধারণা এমন হতে পারে। হয়তো মানুষ আমাকে একটু ভয়ও পায়। প্রথমে এসবের জন্য কিছু সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তবে আমি আলহামদুলিল্লাহ্‌ ভালো কাজ করছি। মিডিয়াতে আমার কোনো বাজে রিউমার নেই। তাই আমি আশা করছি, আগামীতে আরও ভালো এবং মনের মতো চিত্রনাট্য ও চরিত্র পাবো। যেখানে নিজেকে ভাঙতে পারবো।

নতুন সিনেমাতে কাজ করতে ইচ্ছে হয়?
যখন সিনেমাটি করেছিলাম ওই সময়টা আমার ক্যারিয়ারে শুরুর দিকে ছিল। অনেকটা অভিনয়ে অপরিণত ছিলাম। অভিনয়ের ‘অ’ বুঝতাম না। আগে ওতোটা মনোযোগীও ছিলাম না। লেখাপড়ার প্রেসার ছিল। এখন সিনেমার চেয়ে আমি অভিনয় করতে চাই। সিনেমাতে যদি অভিনয়ের সুযোগ থাকে অবশ্যই করবো। আর এখন অনেক গল্প কেন্দ্রিক স্মার্ট সিনেমা হচ্ছে। নাচানাচি নির্ভর সিনেমা কম হচ্ছে। কারণ আমি নাচতে পারি না। ছোটবেলা থেকেই অভ্যাস নেই। স্টেজ ফোবিয়া আছে। কখনও উঠিনি। তবে যারা নাচ জানেন তাদের হ্যাটস অফ। তাই এসবের বাইরে অভিনয়ের সুযোগ আছে এমন সিনেমা পেলে অবশ্যই কাজ করবো।