চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মা আমি কি জানি একুশ কী!

অধরাকে মা বাবা শখ করে ভর্তি করে দিয়েছে একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে। এ বছর ১ জানুয়ারি থেকেই শুরু হয় ওর স্কুল যাত্রা। প্রতিদিন সাদা মোজা, কালো জুতো পড়ে স্কুলে আসে সে। সে হিসেবে আজ তার স্কুলে যাবার বাহান্নতম দিন। বাহান্না শব্দটি মনে হলেই আমাদের শিহরণ জাগে কেমন জানি এক! বাঙালির জাতীয় জীবনে এই বাহান্ন যে শুধু কেবল একটি সংখ্যা নয়!

আজ ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দিনটি পালনের জন্য সাদাকালো কাপড় পরে ভাষা সংগ্রামীদের স্মৃতির প্রতি  শ্রদ্ধা জানাতে অন্যদিনের মত অধরাও এসেছে স্কুলে। তার হাতে ফুলের তোড়া। অধরাকে জিজ্ঞেস করা হল, তোমার হাতে এটা কী লেখা? সে তাকিয়ে থাকে। বলতে পারছে না সংখ্যাটি কী! শহীদ মিনারের পাশেই আঁকা হয়েছিল ২১ সংখ্যাটি।

বিজ্ঞাপন

অধরা জানে না একুশ কী? কিংবা আজ সে কী পালন করতে এসেছে। অধরার মত ঢাকার ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের জানানো হয়নি একুশ কী? তাই সবার একই প্রশ্ন্ম—মা, আমি কি জানি একুশ কী?

শুধু তাই নয়, এসব ইংরেজি মাধ্যমে পড়ুয়া শিশুদের অনেককেই বাংলা ভাষার বর্ণমালাগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়নি। তাই নিজের মায়ের ভাষায় ‘মা’ শব্দটি লিখতে পারছে না তারা।

ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শহীদ মিনার

ধানমন্ডির একটি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে শহীদ মিনার আছে। ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের পাজামা, পাঞ্জাবি পড়ে ফুল দিতেও দেখা যায় শহীদ বেদিতে। কিন্তু তাদের সাথে কথা বলে দেখা যায়, এদের অনেকেই একুশ কী, এ বিষয়ে কিছুই জানে না। কিছু শিক্ষার্থীকে তারা জিজ্ঞস করা হয়, তারা কী দিবস পালন করতে এসেছে। আসার কারণ। কিন্তু তারা এ ব্যাপারে কিছু জানে না। সালাম, বরকত কিংবা রফিকের মত ভাষা শহীদদের নামের সঙ্গে এখনো পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়নি তাদের।

তাই তাদেরই উল্টো প্রশ্ন, মা একুশ কী? আমি কি জানি একুশ কী?

প্রতীকী ছবি

এ বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে চাওয়া হয়। কিন্তু স্কুলের এ ধরনের অনুষ্ঠানে ‘গণমাধ্যম অ্যালাউ’ নয়, এটি জানিয়ে এই  প্রতিবেদককে স্কুল থেকে বের করে দেয় তারা।

তবে খানিকটা ব্যাতিক্রম লক্ষ করা গেছে। রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের লিখন, ভাষা আন্দলনের ইতিহাস জিজ্ঞেস করলে এর সাথে সম্পৃক্ত বছরগুলো বলতে পেরেছে ভালো ভাবে।

বাংলাভাষার রয়েছে হাজার বছরের পুরোনো ইতিহাস। সেই লুইপা, হরপ্পাদের মতো চর্যাপদের রচিয়তাদের হাত ধরে আজকের এই আধুনিক বাংলাভাষা। এ ভাষা দিগন্তের চেয়েও বিশাল, এ ভাষা সমুদ্রের চেয়েও গভীর। শিশুদের শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে মাতৃভাষার বিকল্প নেই বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা।

রাজধানীর এসব স্বচ্ছল পরিবারের শিশুদের জাতীয় জীবনের এমন গুরুত্বপুর্ণ অধ্যায়গুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়র দায়ভার অনেকটা বাবা-মা কিংবা পরিবারের ওপর বর্তায়। সে দায়িত্ব ঠিক কতটা পালন করা হচ্ছে, সেটাও প্রশ্ন থেকে যায়।

বিজ্ঞাপন