চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মহামারীর সময় বাড়িতে নামাজ শরিয়ত সম্মত: আহমদ শফী

মহামারীর সময় বাড়িতে বসে নামাজ আদায় ও ইবাদত-বন্দেগি শরিয়ত সম্মত বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

সোমবার তিনি বলেছেন, ‘করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা থেকে আত্মরক্ষার্থে নিজ নিজ বাড়িতে নামাজ আদায় এবং ইবাদত-বন্দেগিতে কোনো সমস্যা নেই। এসময় ভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্বের জন্য গণজমায়েত বন্ধে সরকার যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে; তা মানব কল্যাণে পালন করা আবশ্যক৷’

বিজ্ঞাপন

আল্লামা শফী পবিত্র কুরআন থেকে উদ্বৃতি করে বলেন, ‘’তোমরা নিজেরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চিত জেনো, আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু-নিসা ২৯’ ‘তোমরা নিজ হাতে নিজেদেরকে ধ্বংসে নিক্ষেপ করো না-সুরা-বাকারা-১৯৫’ ‘হে মুমিনগণ তোমরা (শত্রুর সাথে লড়াই কালে) আত্মরক্ষার উপকরণ নিজেদের সাথে রাখো-সুরা নিসা-৭১’।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘ইসলাম নিজের বা অন্যের ক্ষতির কারণ হওয়াকে সমর্থন করে না বরং নিষেধ করে। সতর্কতা ও সচেতনতা ইসলামের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। যে কোনো আসু ক্ষতি থেকে সতর্ক থাকা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান।

বিশ্ব আজ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। আমাদের দেশও ঝুকিপূর্ণ। বর্তমান চিত্র ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই এ ভাইরাস আমাদের দেশে মহামারী আকার ধারণ করেছে। দ্রুতগতিতে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে৷ আক্রান্তদের অনেকেই মৃত্যুবরণ করছেন। এ মুহূর্তে আল্লাহর কাছে দোয়া এবং শরিয়তের আলোকে সতর্কতা অবলম্বন ছাড়া বিকল্প নেই।’’

বিজ্ঞাপন

হেফাজতে ইসলামের আমির বলেন, ‘সতর্কতার জন্য সরকার উলামায়ে কেরামতের সাথে পরামর্শ করে যে কোনো ধরনের বড় জমায়াতেকে নিষেধ করেছে৷ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আদেশ দিয়েছে৷ জামাত ও জুমার উপস্থিতিকে সীমিত রাখার আদেশ জারি করেছে। শরিয়তের দৃষ্টিতে এ সকল সতর্কতামূলক নির্দেশনা সঠিক ও যথার্থ।’

‘‘সরকার কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনাকে মূল্যায়ন এবং তা উত্তমরূপে গ্রহণ ও পালন করা মানবতার কল্যাণে আমাদের অপরিহার্য কর্তব্য। তবে সতর্কতা ও ব্যবস্থা গ্রহণ আমাদের একমাত্র কাজ নয়। বরং আমাদের কৃতপাপ ও সমূহ অন্যায় থেকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। ভবিষ্যতে সকল অপরাধ থেকে দূরে থাকার প্রতিজ্ঞা করে খালিছ দিলে তওবা করতে হবে।’’

ঘরে বসে দুয়া, ইসতেগফার ও নফল ইবাদতে মাশগুল থাকতে হবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘যেন আল্লাহ তাআলা অনতিবিলম্বে আমাদের থেকে এ মহামারী তুলে দেন। নিরাপদ জীবন যাপন করার তওফীক দান করেন।।আমাদেরকে ও সারা বিশ্বকে এ মহামারী থেকে পরিত্রাণ দেন।’

সোমবার এক নির্দেশনায় মসজিদে নিয়মিত নামাজ ও জুমা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেয় সরকার। নামাজের সময় সর্বোচ্চ ৫ জন ও জুমার নামাজে সর্বোচ্চ ১০ জনের বেশি মানুষ মসজিদে একত্রে নামাজ আদায় করতে পারবেন না বলেও এক বিজ্ঝপ্তিতে জানায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এর আগে গত ১৯ মার্চ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে জাতিকে সেবা ও সাহস দিয়ে সচেতন করতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন আল্লামা আহমদ শফী।