চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভ্যাকসিন কার্যক্রমে দরকার সবার অংশগ্রহণ

বিশ্বজুড়ে করোনার প্রকোপ কমে আসছে ইতিবাচক হারে। মৃত্যুর সংখ্যা এখনও উল্লেখ করার মতো হলেও সংক্রমণের তুলনায় কমেছে। এই অবস্থার জন্য কৃতিত্ব দেয়া যেতে পারে ভ্যাকসিন কার্যক্রমকে। যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিরাট সংখ্যক মানুষ ভ্যাকসিন কার্যক্রমের আওতায় আসার ফলে পাল্টে যাচ্ছে করোনা পরিস্থিতি।

চীনের উহান থেকে যে করোনার ভ্যারিয়েন্ট বিশ্বজুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছে, পরে তা ডেল্টা-ওমিক্রণসহ বেশ কয়েকটি ভ্যারিয়েন্ট তাণ্ডবের পরে কিছুটা দূর্বল হয়েছে। অফিশিয়ালি মহামারী শেষ হয়েছে বলা না গেলেও অলিখিতভাবে করোনা মহামারীর বিদায় ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে।

Reneta June

করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কার ও প্রয়োগের প্রথম ধাপেই বাংলাদেশ ছিল এগিয়ে। সরকারের ভ্যাকসিন কূটনীতির সফল প্রয়োগে প্রথম থেকেই অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করা গেছে করোনার তাণ্ডব। অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন থেকে শুরু করে বিশ্বের প্রায় সব ভ্যাকসিনই দেশে এসেছে ও সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি সারাদেশে বিশেষ দিনে দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত সময়ে বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় প্রায় ৩ কোটি ৪৯ লাখ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রথম ডোজের ২ কোটি ৩২ লাখ, দ্বিতীয় ডোজের ১ কোটি ৭ লাখ জনকে এবং বুস্টার ডোজের ১০ লাখ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। যা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।

দেশে ২০২০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১ মার্চ পর্যন্ত ২৯ কোটি ৬৪ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে প্রথম ডোজের ১২ কোটি ৪৭ লাখ, ৮ কোটি ৪৮ লাখ এবং বুস্টার ডোজের ভ্যাকসিন পেয়েছেন ৩৯ লাখ মানুষ। জানা গিয়েছিল, ২৬ ফেব্রুয়ারির পরে আর প্রথম ডোজ নেয়া যাবে না, কিন্তু সরকার সেসময় আরও বাড়িয়েছে। যারা নেননি তারা রাজধানীসহ সারাদেশের সরকারি-বেসরকারি নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে নিবন্ধন কিংবা তথ্য-উপাত্ত দিয়ে টিকা নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

উপরের সংখ্যাগুলো খেয়াল করলে বোঝা যায়, এখনও বিরাট সংখ্যক ভ্যাকসিন কার্যক্রমের বাইরে। যারা এখনও করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু নয়তো মারাত্মক অসুস্থ হবার ঝুঁকিতে আছে। আর এখনও করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতদের বেশির ভাগই কোনো ভ্যাকসিন নেননি বলে জানা যাচ্ছে। ভ্যাকসিন নিয়ে একসময় নানা গুজব ও ভীতি ছিল জনমনে, এই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে অনেকটাই। আমাদের আশাবাদ, এই পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত থাকবে আর প্রায় শতভাগ ভ্যাকসিন কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশ ধীরে ধীরে পুরোপুরি করোনামুক্ত হবে।