চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভেনেজুয়েলার রাজপথে মুখোমুখি বিক্ষোভে দুই প্রেসিডেন্টের সমর্থকরা

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের রাজপথে নেমেছে হাজারো বিক্ষোভকারী। তবে তাদের একদল প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর পক্ষে, আর অন্য দল সমর্থন দিচ্ছে স্বঘোষিত অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুইদোকে।

বিরোধী দলীয় নেতা গুইদো বলেছেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এই আন্দোলন মাদুরো সরে না দাঁড়ানো পর্যন্ত রাজপথে চলবেই। অন্যদিকে মাদুরো তার সমর্থকদের কাছে দাবি করছেন তিনিই ভেনেজুয়েলার একমাত্র প্রেসিডেন্ট।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার গুইদোর বাড়িতে হানাও দিয়েছিল প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিশেষ পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় তার পরিবারের সদস্যাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এতদিন মাদুরো সেনাবাহিনীসহ সরকারি বাহিনীগুলোকে নিয়েই বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছিলেন। এবার তার পক্ষে রাস্তায় নামল বিশাল সমর্থক বাহিনী, যার ফলে দুই প্রেসিডেন্টের সমর্থকদের মাঝে এই মুখোমুখি অবস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।

ভেনেজুয়েলায় জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর থেকেই ব্যাপকভাবে চলছে সরকারবিরোধী আন্দোলন। একদিকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট শপথ নিয়ে নিজেকে বৈধ দাবি করছেন, অন্যদিকে বিরোধী দলীয় নেতা তাকে অবৈধ উল্লেখ করে নিজেকেই অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে বসে আছেন।

বিজ্ঞাপন

আর এ ইস্যুতেই যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশি পক্ষগুলোর সরাসরি হস্তক্ষেপ যেন আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে। বিরোধী দলের নেতা হুয়ান গুইদোকে সমর্থন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশগুলো।

তবে রাশিয়া, চীনসহ আরও কয়েকটি দেশ নিকোলাস মাদুরোর প্রতি নিজেদের সমর্থন জানিয়ে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপের নিন্দা করেছে।

জানুয়ারির নির্বাচনে জিতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মাদুরো শপথ নিলেও নির্বাচনকে প্রথম থেকেই অবৈধ দাবি করছে বিরোধী দলগুলো। কারণ বেশিরভাগ বিরোধী দলীয় নেতা ওই সময় হয় কারাগারে থাকার কারণে বা নির্বাচন বয়কটের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি।ভেনেজুয়েলার-বিক্ষোভ

নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মুখেও এরই মধ্যে মাদুরো নতুন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা বাতিল করে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি দাবি করেছেন গত নির্বাচনে তার বিজয় একেবারেই বৈধ ছিল।

তবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর গত সপ্তাহে বিরোধী দলীয় নেতা হুয়ান গুইদো নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। যার ফলে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নিয়ে টানাপোড়েন চরম পর্যায়ে চলে যায়।

এ বিষয়ে রুশ সংবাদ সংস্থা ‘রিয়া’কে এক সাক্ষাৎকারে গত সপ্তাহে মাদুরো জানান বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় বসতেও প্রস্তুত তিনি। ‘আমি ভেনেজুয়েলার মঙ্গলের জন্য বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি,’ বলেন নিকোলাস মাদুরো।