চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘ভিউ নয়, মানুষের ভালোবাসা গুনতে গুনতে আমি ক্লান্ত’

“ভিউ গোনার সময় কই? ভালোবাসা গুনতে গুনতে আমি ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ক্লান্ত। শুধুই হিট নাটক বা ফিকশন নির্মাণ করা আমার একমাত্র লক্ষ্যও না! কিন্তু রোমান্টিক-কমেডির যুগে ফ্যামিলি ড্রামার জয় হয়তো এভাবেই হয়!”

ঈদে সম্প্রচারিত ‘মায়ের ডাক’ নাটকের অভাবনীয় সাড়ায় সোমবার বিকেলে এমন মন্তব্যই করেছেন জনপ্রিয় নির্মাতা মাবরুর রশিদ বান্নাহ।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তার বানানো এই নাটকটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ইউটিউবের হাজার ইতিবাচক মন্তব্য ও নাটকের সমালোচকরাও বান্নাহর ‘মায়ের ডাক’ দেখে প্রশংসা করছেন।

তিন ভাইয়ের মধ্যে বিভিন্ন কারণে ঝগড়া, সেই কারণে মায়ের শেষ বয়সে তিন সন্তানের সাথে দূরত্বের জেরে মাকে ফেলে বিদেশ পাড়ি জমানো- গতানুগতিক ধারার বাইরে এমন গল্প কেন্দ্র করে ঈদের নাটক বানিয়ে আলোচনায় এসেছে নাটক ‘মায়ের ডাক’। আকবর হায়দার মুন্নার গল্পে এ নাটকটি পরিচালনা করেছেন মাবরুর রশিদ বান্নাহ।

কৃতজ্ঞা প্রকাশ করে বান্নাহ বলেন, মহান আল্লাহর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। মাকে নিয়ে গড়া গল্পের জয় হচ্ছে। অগণিত মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছে, আবেগে ভাসাচ্ছে, চোখ থেকে অশ্রু গড়াচ্ছে, আনমনে মুখে হাসির ঝলক আনছে, হাজারে হাজারে অনুভূতির পসরা সাজিয়ে লেখনীতে সয়লাব হচ্ছে ফেসবুক এর দেয়াল কিংবা ইউটিউব এর মন্তব্যের বাক্স।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, দর্শকের ভালোবাসা আর ভালোবাসা পাচ্ছি। এসবের কোন মূল্য হয় না। ভিউস নামক ঠুনকো সংখ্যায় ভালোবাসা আটকানো যায় না। ভিউ যেখানে খুবই নগন্য একটি শব্দ ছাড়া কিছুই নয়। আমি এবার না হয় আওয়াজ দিয়েই বলছি, ভিউ গোনার টাইম নাই ভাই, ভালোবাসা গুনতে গুনতে আমি ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ক্লান্ত।

ইউটিউব থেকে নাটকটি দেখে আবেগ আপ্লুত হয়ে মন্তব্য করছেন হাজার হাজার দর্শক। তারা তাদের অনুভূতি লিখছেন কমেন্ট বক্সে যা চোখ এড়ায়নি।

‘মায়ের ডাক’ নাটকে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রবীন অভিনেত্রী দিলারা জামান। তিন ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাহসান খান, তৌসিফ মাহবুব, জোভান। তাদের সঙ্গে ছিলেন মম, তাসনিয়া ফারিণ এবং কেয়া পায়েল। আরেক চরিত্রে দেখা গেছে শাহেদ আলীকে।

ঈদুল আযহায় ১০টি নাটক পরিচালনা করেছেন বান্নাহ। প্রকাশ পেয়েছে সুইপারম্যান, দ্য টিচার, মায়ের ডাক, হোম পলিটিক্স। প্রত্যেকেটি কাজ প্রশংসা অর্জন করেছে।

তবে ‘মায়ের ডাক’ থেকে হাজারও মানুষের প্রশংসা পেয়ে পরিচালক বান্নাহ নিজেও আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ছেন। তিনি বলেন, মানুষের প্রশংসা নিতে নিতে আমি ক্লান্ত৷ আনন্দে আমার কয়েকবার চোখ ভিজে গেছে। অনেকে আমাকে জানাচ্ছে, ভুল বোঝাবুঝির জন্য মাকে গিয়ে সরি বলছেন। বিশেষ করে প্রবাসীরা এ নাটক দেখে মায়ের কাছে যেতে চাইছেন।

বান্নাহ বলেন, আরেকটি সুখের অভিজ্ঞতা পরিবার নিয়ে সবাই কাজটি দেখছেন। একে অন্যকে দেখতে সাজেস্ট করছেন। নাটকটি দেখার পর মানুষ স্বেচ্ছায় শেয়ার করছেন। আবেগ মিশ্রিত কথায় ক্যাপশন লিখছেন। ২৩ ঘণ্টায় মিলিয়ন ভিউস অতিক্রম করেছে। এই আনন্দের চেয়ে বড় হাজার হাজার ইমোশনাল মন্তব্য আমাকে ছুঁয়ে যাচ্ছে।