চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভারতের সাথে যোগাযোগ বন্ধ সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত

করোনাভাইরাসের নতুন রূপ ট্রিপল-মিউট্যান্ট স্ট্রেইনের আক্রমণে বিধ্বস্ত বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল দেশ ভারত। কিছুদিন ধরে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই গত বুধবার (২১ এপ্রিল) প্রথমবারের মতো দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত ৩ লাখ ১৫ হাজার ৮০২ জনে পৌঁছায়। যা আগে কোনো দেশেই ঘটেনি। তবে গত বছরের ৮ জানুয়ারি সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৭ হাজার ৫৮১ জন শনাক্ত হয়ে ছিল যুক্তরাষ্ট্রে।

ভারতে এটাই ঘটনার শেষ নয়, বলা চলে শুরু। কেননা সেই ২১ এপ্রিলের পর থেকে গতকাল ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিনই আগের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে ২২ এপ্রিল ৩ লাখ ৩২ হাজার ৫০৩ জন, ২৩ এপ্রিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ১৪৭ জন এবং ২৪ এপ্রিল ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৩ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে মাত্র ৪ দিনে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ লাখ ৪২ হাজার ৭৬৫ জন!

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

হয়তো আগামী কয়েকদিন এভাবেই ভারতে করোনাভাইরাসের রেকর্ড ভাঙা আর নতুন রেকর্ড গড়া দেখবে বিশ্ব। কিন্তু এই নতুন নতুন রেকর্ড তাতে একদিকে যেমন মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়ছে। অন্যদিকে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য অক্সিজেন, আইসিইউ, হাসপাতাল থেকে শুরু করে শ্মশানে-কবরস্থানে ভয়াবহ সঙ্কট তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেশী দেশ ভারতে যখন এমন ভয়ঙ্কর অবস্থা, তখন বাংলাদেশে যাতে করোনাভাইরাসের ট্রিপল-মিউট্যান্ট স্ট্রেইন ছড়িয়ে না পড়ে- সেজন্য উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আকাশ ও নৌপথ বন্ধের পর স্থলে পথে পণ্য পরিবহন ছাড়া আর সব ধরনের যোগাযোগ আগামীকাল সোমবার থেকে ১৪ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আমরা মনে করি, এটা এক সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। যদিও বিশেষজ্ঞরা আগেই সতর্ক করে এমন পরমর্শই দিয়েছিলেন। আর এছাড়া বিকল্প কোনো পথও নেই আমাদের সামনে। কেননা ট্রিপল-মিউট্যান্টের স্ট্রেইনের যে ভয়ঙ্কর রূপ, তা এদেশে ছড়িয়ে পড়লে নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের মতো দেশের পক্ষে সম্ভব না। ভারতের অভিজ্ঞায় তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

করোনাভাইরাসের ট্রিপল-মিউট্যান্ট স্ট্রেইন আসার আগে আমরা যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল এবং সাউথ আফ্রিকায় নতুন ধরনের প্রজাতির দেখা পেয়েছিলাম। ভাইরাস বিশেষেজ্ঞরা তখন বলেছিলেন, সেটা করোনার ডাবল মিউট্যান্টের স্ট্রেইন। সিঙ্গেল মিউট্যান্টের স্ট্রেইনের তুলনায় তা আরও দ্রুত সংক্রমণ ঘটায় মানুষের শরীরে। যেটা ব্রাজিলে ভয়াবহ রূপে দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম ঢেউ কোনো রকমে সামাল দেওয়া গিয়েছিল। দ্বিতীয় ঢেউ এরই মধ্যে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এরই মধ্যে শতাধিক মৃত্যু দেখেছে কয়েকবার। আক্রান্ত ছাড়িয়ে গেছে চিন্তার বাইরে। ভারতের মতো সমস্যা না হলেও চিকিৎসাসেবা এখন আমাদের সহজলভ্য নয়। এরই মধ্যে আইসিইউ সঙ্কট দেখা দিয়েছে। হাসপাতালে আছে বেড সমস্যাও।

আমরা মনে করি, আজকের এই সিদ্ধান্ত করোনাভাইরাসের ভয়ঙ্কর রূপ ত্রিপল-মিউট্যান্ট থেকে আমাদের রক্ষ করবে। তবে সে জন্য আমাদেরও সতর্ক থাকতে হবে।