চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ব্রাজিলে আধ্যাত্মিক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

ব্রাজিলের প্রখ্যাত এক স্বঘোষিত আধ্যাত্মিক নিরাময়কারী বা চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনেছেন অন্তত ১২ জন নারী।

জোয়াও তেইজেইরা দি ফারিয়া বা ‘জোয়াও অব গড’ নামে পরিচিত এই ব্যক্তি ব্রাজিলের আবাদিয়ানিয়া শহরের অধিবাসী হলেও তার অনুসারী রয়েছে বিশ্বজুড়ে।

সম্প্রতি ব্রাজিলের গ্লোবো টিভি’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ডাচ আলোকচিত্রী জাহিরা লিনেকে মাউস অভিযোগ করেছেন, জোয়াও চালাকি করে তাকে দিয়ে কিছু যৌনাচারে করান এবং তারপর তাকে ধর্ষণ করেন।

কিন্তু জোয়াও’র কার্যালয়ের পক্ষ থেকে গ্লোবোকে পাঠানো এক বিবৃতিতে অভিযোগগুলো অস্বীকার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ৭৬ বছর বয়সী জোয়াও তার আধ্যাত্মিক ক্ষমতা ব্যবহার করে হাজারো মানুষকে নিরাময় করেছেন।

চিকিৎসা প্রক্রিয়া চলাকালে যে কোনো ধরনের অনুচিত আচরণ করার কথা তীব্রভাবে অস্বীকার করা হয়েছে সেখানে।

অভিযোগকারীদের মধ্যে ৯ জন ব্রাজিলীয় নারী গ্লোবো টিভিকে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানিয়েছেন, জোয়াও নিজের মধ্য থেকে তাদের মাঝে ‘পরিশোধক’ শক্তি স্থানান্তরের প্রক্রিয়ার মাঝেই তাদের নিপীড়ন করেন।

Advertisement

ওই নারীদের কয়েকজন বলেছেন, তারা যখন হতাশা থেকে মুক্তির উপায় খুঁজছিলেন, ঠিক ওই সময় তাদের হতাশার সুযোগ নিয়ে এই আধ্যাত্মিক নিরাময়কারী তাদের যৌন নিপীড়ন করেছেন।

এর কিছুদিন পর গ্লোবো টিভির পত্রিকা ‘ও গ্লোবো’ দাবি করে, আরও দু’জন নারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জোয়াওর বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ করেছেন।

জোয়াও তেইজেইরা দি ফারিয়া মেডিক্যাল চিকিৎসক নন। তিনি এমবিবিএস পড়েননি। আধ্যাত্মিক ক্ষমতা আছে – এমন দাবি করে নিজেকে আধ্যাত্মিক চিকিৎসক বলে ঘোষণা করেছেন এই ব্যক্তি।

এর আগে লাইসেন্স ছাড়া নিরাময় প্রত্যাশী একজনের দেহে অস্ত্রোপচারের দায়ে তার জেল-জরিমানাও হয়েছিল।

২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব অপেরা উইনফ্রে ওপরাহ উইনফ্রি জোয়াওর সঙ্গে দেখা করতে ব্রাজিল গিয়েছিলেন। ওই সময় ওপরাহর উপস্থিতিতে রাজধানী ব্রাজিলিয়ায় নিজস্ব ক্লিনিকে তিনি ‘আধ্যাত্মিক সার্জারি’ করে দেখিয়েছিলেন।

এবিসি নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জোয়াও দাবি করেছিলেন, ৩০ জনেরও বেশি অভিজ্ঞ চিকিৎসকের আত্মা এবং অন্যান্য শক্তিশালী স্বত্ত্বা তার দেহে প্রবেশ করতে পারে। তারা জোয়াওর দেহে ঢুকে তাকে দিয়ে মানুষের চিকিৎসা করে থাকে।