চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ব্যবহারকারীর তথ্যের সুরক্ষায় পরিবর্তন নিয়ে আসছে জুম

করোনাভাইরাস মহামারীর পর থেকে মানুষ ঘরে লকডাউনে বন্দি। এতে স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস, ব্যক্তিগত আলাপ, সামাজিক যোগাযোগসহ নিত্য কাজ সারছেন বিভিন্ন অ্যাপের সাহায্যে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে। তবে এক্ষেত্রে দেখা দিচ্ছে সুরক্ষা ও গোপনীয়তার জন্য বড় রকমের চ্যালেঞ্জও।

ভিডিও কনফারেন্স বা কলিংয়ের ক্ষেত্রে সব থেকে এগিয়ে আছে জুম। প্রতিদিন বিশ্বব্যাপী অন্তত ২০ কোটি লোক এই অ্যাপ ব্যবহার করে ভিডিও কনফারেন্স করছেন।

বিজ্ঞাপন

জুম ব্যবহার করে একটি কনফারেন্সে কলে ১০০ জন অংশ নিতে পারেন বিনামূল্যে। আর পেইড প্ল্যানে পারেন ৫০০ জন। প্রায় সব অপারেটিং সিস্টেমেই এই অ্যাপ কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু সম্প্রতি জুম নিয়ে উঠেছে বহু আপত্তি ও নিরাপত্তার অভিযোগ। অনেকে অভিযোগ করছেন, এখান থেকে সহজেই তথ্য পাচার হতে পারে এবং হ্যাক করে ব্যবহারকারীদের বিব্রত করার মতো সুযোগ পাচ্ছে অযাচিত ব্যক্তিরা।

জুম্বোম্বিং‘ নামের একধরনের অপব্যবহারের হুমকি মোকাবিলা করতে হচ্ছে জুম ব্যবহারে। যেখানে অচেনা ব্যক্তিরা একটি আমন্ত্রণ বা মিটিং নম্বরে অ্যাক্সেস পেয়ে অনেক ব্যক্তিগত কনফারেন্স ও কলে হামলে পড়ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, ভারত সহ বহু দেশের সরকার ও প্রতিষ্ঠান জুম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার মতো অবস্থানেও চলে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা রিমোট কনফারেন্সিং সেবার মাধ্যমে কোনো বৈঠকে অংশ নিলে এবং ওই বৈঠকসংশ্লিষ্ট সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হয়ে গেলে তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। মার্কিন সিনেট এ বিষয়টিকেই আমলে নিয়ে জুম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সম্প্রতি।

একইভাবে সিঙ্গাপুরের ইস্যুটি শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার। লকডাউনের মধ্যে নগররাষ্ট্রটির বিদ্যালয়গুলো বন্ধ। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের বাড়িতে রেখেই পাঠদানের উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। আর এর জন্য সহায়তা নেয়া হচ্ছিল জুম অ্যাপের। কিন্তু সম্প্রতি হ্যাকাররা পাঠদানের কয়েকটি সেশন হ্যাক করে সেখানে অশ্লীল ছবি আপলোড করে দিয়েছে। এ কারণে দেশটির সরকার দূরশিক্ষণে জুমের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে।

বিজ্ঞাপন

ভারত সরকারও সম্প্রতি জুম ব্যবহার বন্ধে কাজ করছে। তারা ইতোমধ্যে জুমের বিকল্প নতুন অ্যাপ চালুর জন্য প্রতিযোগিতারও ঘোষণা দিয়েছে।

যদিও বিশ্বে জুমের বিকল্প আরও বেশ কটি অ্যাপ চালু আছে যেমন- সিস্কো, স্কাইপে মিট নাউ, ওয়েবেক্স, মাইক্রোসফট টিমস, ডিসকর্ড, গুগল হ্যাংআউট ইত্যাদি।

এমন কঠিন মুহুর্তে করোনার সময় পরিস্থিতিতে তৈরি হওয়া সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার দশা কাটিয়ে উঠতে চায় জুম। প্রতিষ্ঠানটি নিরাপত্তা ত্রুটি দূর করার লক্ষ্যে একটি পরামর্শক পর্ষদ গঠন করেছে এবং ফেসবুকের সাবেক সিকিউরিটি চিফ অ্যালেক্স স্ট্যামোসকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

তিনি বলছেন, জুম ব্যবসায়ীক ভিত্তিক টেলিকনফারেন্সিং সরঞ্জাম থেকে গ্লোবাল ভিডিও হ্যাংআউটে রূপান্তরিত হচ্ছে। এতে করে এনক্রিপশনের অভাব কেটে যাবে, সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। এতে অপরিচিত ব্যক্তিদের ভিডিও কলিংয়ে আমন্ত্রণ জানালেও আর সমস্যা হবে না। এটা একটি বড় পরিবর্তন।

জুমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এরিক এস ইউয়ান বলেন, আপাতত জুমের নিরাপত্তা সমস্যা সমাধানে ফিচার হালনাগাদ বন্ধ রাখা হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারী ঠেকাতে বিশ্বজুড়ে অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বাসায় থেকে কাজের পরামর্শ দিয়েছে। এতে গত কয়েক সপ্তাহে বিপুলসংখ্যক নতুন জুম ব্যবহারকারী পেয়েছি আমরা। হঠাৎ তৈরি হওয়া এ চাপ সামাল দেয়া আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ আমরা অতিক্রম করতে কাজ করছি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের কাছে ব্যবহারকারীদের তথ্যের নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বুঝতে পারছি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও তথ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই হবে।এখন সবচেয়ে গুরুত্ব পাবে এটাতেই।

এরই মধ্যে জুম তার সফটওয়্যার আপডেট করেছে এবং হোস্টগুলিকে মিটিং লক করার ক্ষমতা, উপস্থিতিরা কি করতে পারে তা সীমাবদ্ধ করে এবং অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

এতো কিছুর পরও বিশ্বব্যাপী জুম ব্যবহারকারী কমতি নেই। বরং বাড়ছে। কারণ লকডাউনের এই সময় অধিক সংখ্যা কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করার জন্য জুমই এখন পযন্ত সবার শীর্ষে।