রাজধানীর পুরান ঢাকার বংশালে হোটেল আরাফাত এন্ড রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার আনোয়ার হোসেনকে (৩৫) মাসিক বেতনের সম্পূর্ণ টাকা না পেয়ে আক্রোশের বশে তাকে হত্যা করে একই হোটেলের কর্মচারী মোশারফ।
শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের কোতয়ালী জোনাল টিম আরাফাত হোটেলের ম্যানেজার হত্যা মামলার প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করে।
রোববার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মোঃ আবদুল বাতেন ।
গ্রেফতারকৃতের নাম-মোঃ মোশারফ হোসেন ওরফে মোশারফ করিম। এ সময় তার কাছ থেকে ভিকটিমের ব্যবহৃত ২টি মোবাইল ও ৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
আবদুল বাতেন বলেন, শনিবার ভোলার লালমোহন থানার লর্ড হার্ডিঞ্জ গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত জানায় যে, তার মাসিক বেতনের সম্পূর্ণ টাকা ম্যানেজারের কাছ থেকে না পেয়ে আক্রোশে তাকে হত্যা করে মোবাইল ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
আব্দুল বাতেন বলেন, ঈদের ১৫/২০ দিন আগে রাজধানীর বংশাল এলাকায় হোটেল আরাফাত অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে কাজ শুরু করেন মোশাররফ। কিন্তু ঈদের আগেই বেতন পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া শুরু করেন তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে পুরো টাকা না দিলেও তাকে দুই হাজার টাকা দেয় হোটেল কর্তৃপক্ষ। গত ২৫ আগস্ট ঘটনার রাতে হোটেলের নিচের কক্ষে ম্যানেজার ঘুমাচ্ছিলেন এবং দ্বিতীয় তলায় ছিলেন ৪/৫ জন কর্মচারি। এদের মধ্যে একজন রাত ২/৩টার দিকে এসে লোহা দিয়ে ম্যানেজারের মাথায় আঘাত করে। পরবর্তীতে সবজি কাটার ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে।
ঘটনার পর অন্য কর্মচারীরা হোটেলে অবস্থান করলেও মোশাররফকে পাওয়া যাচ্ছিল না। তার ঠিকানাও হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে ছিল না। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জে মোশাররফের আগের কর্মস্থলে খোঁজ নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার পাশের বাড়ির একজনকে পাওয়া যায়। তার মাধ্যমে পরবর্তীতে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
২৫ আগস্ট দিবাগত রাতে রাজধানীর বংশালে হোটেল আরাফাত এন্ড রেস্টুরেন্ট এর ম্যানেজার আনোয়ার হোসেনকে আসামী মাথায় আঘাত করে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। আসামী হোটেল আরাফাত এন্ড রেস্টুরেন্টের একজন কর্মচারী ছিল।








