চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘বিশেষ শিশুদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ মানসম্পদে পরিণত করতে হবে’

বিশেষ (অটিজম) শিশুদের বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ মানসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সন নাছিমা বেগম।

শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডারস বিভাগের উদ্যোগে ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস’ এর অনুষ্ঠানের বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।  করোনা মহামারির বিবেচনায় বিকল্প অনলাইন ওয়েবিনার এর মাধ্যমে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

নাছিমা বেগম বলেন, অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের অনেক মা-বাবাই তাদের সন্তানের অবস্থাটি লুকিয়ে রাখেন। তারা ভাবেন, তাদের কোনো কৃতকর্মের ফল তাদের সন্তান ভোগ করছে। কিন্তু বিষয়টি কখনই এমন নয়।

নিজের অটিজমে আক্রান্ত সন্তানের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের সমাজের এসব গোড়ামি ভেঙে অটিজম সংক্রান্ত সঠিক তথ্য সব জায়গায় ছড়িয়ে দিতে হবে। বিশেষ শিশুদের ভেতরকার সুপ্ত প্রতিভাকে জাগিয়ে তুলে তাদেরকে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে। তাদের সক্ষমতাগুলোকে কাজে লাগিয়ে তাদেরকে বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডারস বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সমাজের ভাষিক যোগাযোগে পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, উন্নত দেশের তুলনায় দক্ষিণ-এশিয়ার দেশগুলোতে প্রতিবন্ধীদের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানের সুযোগ কম। অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন এসকল মানুষদের হেয় প্রতিপন্ন না করে রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের দায়িত্ব হলো তাদের মানবিক সেবা প্রদান সুনিশ্চিত করা।

কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডারস বিভাগের চেয়ারপার্সন তাওহিদা জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন নিউরোডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোঃ আনোয়ার উল্লাহ্, এফসিএমএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডারস বিভাগের অধ্যাপক ড. হাকিম আরিফ, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ হেলাল উদ্দিন আহমেদ, তরী ফাউন্ডেশন ও এসসিজির পরিচালক ড. মারুফা হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডারস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সোনিয়া ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডারস বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

২০০৭ সাল থেকে অটিজম সচেতনতা দিবস পালন শুরু হলে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক  ২ এপ্রিলকে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। ২০১২ সাল থেকে প্রতিবছর জাতিসংঘ কর্তৃক দিবসটির জন্য একটি প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে, “Inclusion in the Workplace: Challenges and Opportunities in a Post-Pandemic World” অর্থাৎ, কর্মক্ষেত্রে একীভূতকরণ: মহামারী পরবর্তী বিশ্বের বাধা ও সুযোগসমূহ।