চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বিরক্ত মাহি, বললেন ‘পরিচালক তার কথা রাখেনি’

পেশাদার অভিনেত্রী হিসেবে জুড়ি নেই মাহিয়া মাহির। তার ক্যারিয়ারের বয়স আট বছর। এরমধ্যে একাধিক হিট ছবির নায়িকা তিনি। সমালোচকরা মাহিকে শীর্ষ নায়িকাদের একজন মনে করেন। ঢাকাই ছবির এ অগ্নিকন্যা’র বিরুদ্ধে কখনও শিডিউল নড়চড়ের অভিযোগ পর্যন্ত ওঠেনি! এবার স্বয়ং মাহিয়া মাহি পরিচালক অনন্য মামুনের সঙ্গে কাজ করে তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন বলে জানালেন।

বারবার শিডিউল দেয়ার পরেও পরিচালক অনন্য মামুন শিডিউল অনুযায়ী শুটিং করতে পারেননি। চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে অকপটে স্বীকার করেছেন ভালোবাসা আজকাল, রোমিও ভার্সেস জুলিয়েট খ্যাত নায়িকা মাহিয়া মাহি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘নবাব এল.এল.বি’র পরিচালক আমাকে দেয়া কমিটমেন্ট রাখেনি। একাধিকবার শিডিউল দিয়েছি। সেই অনুযায়ী শুটিং হয়নি। এমনকি শিডিউল চলে যায়, পরিচালক একবারও ফোন করে বলেও না যে শুটিং হচ্ছে না। আমি খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করলে বিভিন্ন অজুহাত পেয়েছি।

‘নবাব এল.এল.বি’ ছবির একটি দৃশ্যে শাকিব খান ও মাহিয়া মাহি

শুধু মাহি নন, শীর্ষনায়ক শাকিব খানের শিডিউল পাওয়া যেখানে পরিচালক প্রযোজকদের কাছে অনেকটা সোনার হরিণের মতো; তার মতো তারকার শিডিউলও তিনবার নষ্ট করায় পরিচালকের উপর তিনিও চরম বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। শুটিং আগে শেষ হলেও দুই গানের শুটিংয়ের জন্য শাকিব খান তার শিডিউল দিলেও সময়মতো শুটিং করতে পারেননি অনন্য মামুন।

শারদীয় উৎসব উপলক্ষে ২৩ অক্টোবর মুক্তির কথা ছিল ‘নবাব এলএল.বি’ ছবিটি। ওই মাসের ৬ তারিখ গানের শুটিংয়ে শাকিব-মাহিকে নিয়ে দুবাই যেতে চেয়েছিলেন পরিচালক। কিন্তু পারেননি। মাহি বলেন, আমার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সমস্যা হয়েছিল। পরবর্তীতে সমস্যার সমাধান করে ১৫ অক্টোবর দেশের বাইরে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু যাওয়া হয়নি। নির্দিষ্ট তারিখ চলে এলেও কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। শিডিউল চলে যায় অথচ আমাকে জানানো হয়না।

‘নবব এল এল বি’ তে শাকিব, মাহি ও শহীদুজ্জামান সেলিম

এরপর ২৩ অক্টোবর শিডিউল দিয়েছিলেন শাকিব-মাহি। কিন্তু অনন্য মামুন সেই তারিখেও শুটিং করতে পারেননি। বিরক্তি প্রকাশ করে মাহি বলেন, শিডিউল চলে যায় কিন্তু আমাকে কিছুই ইনফর্ম করা হয় না। আবার ঠিক করলো ১৭ নভেম্বর সিওর যাওয়া হবে, এই ডেটও চলে গেল। কদিন আগে আমাকে টেক্সটে জানায়, বৃহস্পতিবার অ্যাপ লঞ্চিং অনুষ্ঠান। পরদিন (শুক্রবার) মালদ্বীপ যাওয়া হবে। এটা কোনো কথা? আমার তো অন্যকাজ থাকতে পারে তাই না? আমি অন্যকাজে শিডিউল দিয়েছি। আমি তো বসে থাকতে পারিনা। বলে দিয়েছি, ডিসেম্বরের ৩-১০ তারিখ পর্যন্ত আমি ফ্রি। এছাড়া আমার শিডিউল নেই।

মাহিয়া মাহি বলেন, গানের জন্য আমি সেই কবে থেকে ডায়েট করে যাচ্ছি। একেক বার ডেট দিচ্ছি কিন্তু শুটিং হচ্ছে না। কেউ মারা যায়নি, দুর্ঘটনা ঘটেনি তাহলে কেন বার বার কথা দিয়েও আমাদের যাওয়া হচ্ছে না? বারবার কেন একজন আর্টিস্টের শিডিউল নষ্ট করা হচ্ছে? সবচেয়ে অবাক করা বিষয়, কিছুই আগে থেকে জানা যায়না। পুরো প্রজেক্ট কেমন জানি অগোছালো। করোনার মধ্যেও আমরা সবাই চেষ্টা করেছি ভালোভাবে কাজটা করার। কিন্তু পরিচালকের এসব খামখেয়ালিপনার কারণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি। আমি নিজেও কমিটমেন্ট রাখার চেষ্টা করি। যারা রাখেনা তাদের পছন্দ করিনা। পরিচালক কয়েকবার কমিটমেন্ট দিয়েও রাখেনি।

‘নবাব এল.এল.বি’র নির্মাতা অনন্য মামুনের সঙ্গে মাহিয়া মাহি

মাহির এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরিচালক অনন্য মামুন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘কবে গানের শুটিংয়ে যাবো এটা সংবাদ মাধ্যমে জানাতে চাই না। দেখা গেল তারিখ উল্লেখ করে মালদ্বীপ গেলাম, সংবাদ মাধ্যম থেকে সেটা জেনে প্রবাসী বাঙালিরা ভিড় করলেন! তখন? এই করোনাকালে এটা চাইছি না বলেই সংবাদ মাধ্যমে জানাতে চাই না।’

‘নবাব এল.এল.বি’র মুক্তির তারিখ বারবার পেছানোতে দর্শক বিরক্ত হচ্ছে না? এমন প্রশ্নে নির্মাতা বলেন, এখন করার কিছু নাই। কারণ এখন নরমাল টাইম না। করোনার কারণে আমরা শুটিংয়ের ডেটও কয়েকবার ডিলে করেছি। একটা প্যান্ডামিক চলছে, কোনো কিছুই এখন কারো হাতে নাই। সবার বুঝতে হবে!

তাহলে আগে থেকে মুক্তির তারিখ বলে দেয়ার কী দরকার? পাল্টা প্রশ্নে নির্মাতা বলেন, ‘আমাকে তো প্ল্যানিং করতে হবে, প্রমোশন করতে হবে। তাই না?’ অনন্য মামুন বলেন, আজকে অ্যাপ লঞ্চিংয়ের মধ্য দিয়ে ‘নবাব এল.এল.বি’র মুক্তির চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা দিব।

এদিকে ঢালিউডের অন্দরমহলের খবর, নবাব এলএল.বি ছবির একটি অংশ মুক্তি দেয়া হচ্ছে অ্যাপে। আকর্ষণ রেখেটা বাকী অংশ মুক্তি দেওয়া হবে প্রেক্ষাগৃহে। এজন্য নাকি ডিসেম্বরের হল বুকিংয়েও তোড়জোড় চলাচ্ছেন পরিচালক। ৯৯ টাকার বিনিময়ে ছবিটি দেখা যাবে বলে অর্ধেক অংশ দেখানোর বিষয়টিকে দর্শকদের সঙ্গে রীতিমত প্রতারণা করা মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।

যদিও এ গুঞ্জন কৌশলে এড়িয়ে গেছেন পরিচালক অনন্য মামুন। তবে ছবি সঙ্গে সংশিষ্ট একটি দায়িত্বশীল সূত্র এমন কিছু হতে যাওয়ার আভাস দিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেছেন, অ্যাপ এবং সিনেমা হল দুই মাধ্যমেই ‘নবাব এলএল.বি’ মুক্তির তোড়জোড় চলছে।