চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণ মূলত খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য’

মুন্সীগঞ্জের কৃতি সন্তান মিজানুর রহমান সিনহা লৌহজং এর কলমা ইউনিয়নের ডহুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি টানা দুই দফা বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কোষাধ্যক্ষ’র দ্বায়িত্ব পালন করছেন। মিজানুর রহমান সিনহা ১৯৪৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা প্রয়াত হামিদুর রহমান সিনহা ছিলেন এদেশের ঔষধ ব্যবসায়ের অন্যতম পথিকৃৎ। তার পিতামহ আনসার উদ্দিন সিনহা ছিলেন একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী।

তিনি দেশ বন্ধু চিত্ত রঞ্জন দাশের সাথে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণেও সিনহা পরিবার অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। মিজানুর রহমান সিনহা কলকাতায় শৈশব অতিবাহিত করার পরে নারায়ণগঞ্জ তোলারাম মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে জি এস নির্বাচিত হন। একজন পরম মানব হিতৈষী হিসেবে তিনি নিজস্ব আয়ের উৎস থেকে নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরেও বহু শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে অনুদান প্রদান করে থাকেন। সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি তিনি নিজস্ব সামর্থ্য অনুসারে রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট নির্মাণেও অবদান রেখে চলেছেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তার সুযোগ্য স্ত্রী জাহানারা সিনহা তাজ, জ্যেষ্ঠ সন্তান কন্যা তাসনিম সিনহা স্নিগ্ধা, পুত্র তানভীর সিনহা সুপ্রিয়কে নিয়ে তার সুখী সুন্দর সংসার। দেশের অর্থনীতিকে মজবুত ভিতের উপর দাঁড় করাতে যারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে অন্যতম একমি শিল্প পরিবার। একই সাথে রফতানির মাধ্যমে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ড হিসেবে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে সচেষ্ট রয়েছে ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিল্পগ্রুপ তাদের অন্যতম।

মিজানুর রহমান সিনহা জানান, আমার বাবার হাত ধরে এই গ্রুপের যাত্রা শুরু। একটা ছোট ওষুধ কোম্পানির মাধ্যমে তিনি ১৯৫৪ সালে ব্যবসা শুরু করেন। সে সময় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনকার মতো ছিল না। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি একাই প্রতিষ্ঠানটি চালিয়েছেন।

তিনি বলেন, এরপর আমি যোগ দেই। তারপর আমার অন্য দুই ভাই যোগদান করেন। এর আগে আমি ১৯৬৪ সালে ব্যাংকে চাকরির মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করি। আমি সব সময় চেয়েছি প্রতিষ্ঠান বড় হোক। পরিবার, প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে আজকে এই অবস্থানে আমরা আসতে পেরেছি।

তিনি আরো জানান, আফ্রিকার জাম্বিয়া, কেনিয়া, গুয়াতেমালাসহ পৃথিবীর অনেক দেশেই আমরা পণ্য রফতানি করছি। পাকিস্তানেও আমাদের অফিস রয়েছে। নিজেদের উদ্যোগে এই সব কাজ করতে হয়েছে। ব্যবসায়ীরা দেশের হয়ে বাইরে প্রতিনিধিত্ব করে। এক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। আশা করছি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের উত্তরণ হলে ব্যবসা বাণিজ্যে আরও উন্নতি হবে।

মিজানুর রহমান সিনাহা জানিয়েছেন, আফ্রিকায় কৃষিপণ্যের রফতানির ক্ষেত্রে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা সবচেয়ে বড় সমস্যা। সব সময় জাহাজে পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হয় না। আবার পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে প্লেনে পাঠানো ছাড়া উপায় নেই। এই রকম কিছু সমস্যা রয়েছে। এই বছর আমরা ফুড আইটেম রফতানিতে মনোযোগ দিচ্ছি।

‘‘এরই মধ্যে মালয়েশিয়ায় দুই কন্টেনার মাল পাঠিয়েছি। এ ছাড়া আফ্রিকার বাজারে প্রবেশ করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কৃষিপণ্য উৎপাদনে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের বিস্ময়কর উন্নতি হয়েছে। আইয়ুব খান আমেরিকা থেকে আমাদের চাল এনে খাইয়েছেন। অথচ এখন আমরা চাল রফতানি করি। বাংলাদেশের উন্নতি হবে, হতেই হবে। নিজেদের প্রয়োজনেই হতে হবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রাজনৈতিক সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান হওয়া প্রয়োজন। যারাই পরবর্তীতে ক্ষমতায় থাকেন না কেন, তাদের কাছে তিনি স্বাভাবিক পরিবেশ চান। যেখানে একজন ব্যবসায়ী নিরাপদে ব্যবসা করবে, একজন ছাত্র তার শিক্ষাজীবনের নিরাপত্তা পাবে। সাধারণ মানুষের স্বার্থের পূর্ণ নিরাপত্তা দিবে।’’

তিনি বলেন, আমার কাজ যেন নির্বিঘ্নে করতে পারি-এটাই সরকারের প্রতি আমার প্রত্যাশা। আমার কাজ আমাকে করতে দেন। সাধারণ মানুষের স্বার্থের সংরক্ষণ চাই। শেয়ারবাজারে আসার পরে আমাদের মতো সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররাও একমির মালিক হয়েছে। আমাদের মতো সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোম্পানির পারফরমেন্স অনুযায়ী লভ্যাংশও তাদের প্রদান করা হচ্ছে। কোম্পানির গ্রোথ দেখলেই বিনিয়োগকারীদের আমাদের বিষয়ে ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হবে। আমরা শেয়ারবাজার থেকে টাকা উত্তোলন করে ২০১৭-১৮ সালের মধ্যে পূর্ণ ব্যবহার সম্পূর্ণ করতে পারব বলে আশা করি। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে ব্যবসায়। তাই এক্ষেত্রে বলতে পারি একমির শেয়ার কিনে বিনিয়োগকারীরা লোকসানে পড়বে না। একমির উপরে সবাই আস্থা রাখতে পারে। নতুন উদ্যোক্তাদের ফেয়ারনেস স্বচ্ছতা থাকতে হবে। রাতারাতি কেউ স্কয়ারের মতো প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারবে না।

‘‘এই জন্য ফেয়ারনেস থাকতে হবে। একটা সময় হয়ত অসদুপায়ে ধনী হওয়া যেত। এখন সেটি সম্ভব নয়। এখন ফেয়ারনেস ছাড়া সম্ভব নয়। প্রতিদিনের আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাঁধা টপকিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি যথাযথভাবে তিনি তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। সামাজিক উন্নয়নে সামর্থ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয় সহযোগিতার জন্য। এক্ষেত্রে অনেক সময় সামর্থ্যের বেশি ভূমিকা রাখতে হয়। বিশেষত মসজিদ, স্কুল, মাদ্রাসা ইত্যাদি নির্মাণে সহযোগিতা করে আসছি দীর্ঘদিন থেকে।

এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অনুদানের মাধ্যমে সমাজের উন্নয়নে আমার এবং আমার কোম্পানীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীকে কোম্পানির উন্নতির জন্য একসাথে কাজ করতে হবে। কোম্পানি একজনের না, এটার মালিকানা সকলের। যদি সবাইকে বুঝানো যায় তাহলে সকলের সহযোগিতা পাওয়া যায়। সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ থাকলে একটা প্রতিষ্ঠান অবশ্যই উন্নতি করবে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের হয়ে। তাই আসন্ন নির্বাচন নিয়ে একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি তুলে ধরেন নানা ভাবনার কথা।

প্রশ্ন: কোন স্পিরিট নিয়ে ১০ তারিখ থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনের মাঠে যাবেন আপনারা?
মিজানুর রহমান সিনহা: আমাদের একটা স্পিরিটের কথা বলবো- আমি যেখানে যাই সেখানেই এই স্পিরিটের কথা বলি। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ মূলত আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্যে। আমি ব্যক্তিগতভাবে বলবো যে, নেত্রীর এই বন্দী হয়ে থাকাটা আমরা কোনোভাবেই অপরাধমূলক শাস্তি হিসেবে ধরে নিতে পারি না।

বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন: নেত্রীর মুক্তির দাবি নিয়েই কি আপনারা জনগণের কাছে ভোট চাইবেন?
মিজানুর রহমান সিনহা: আমরা জনগণের কাছে ভোট চাইবো। নেত্রীকে আমরা মা বলি। আমার মায়ের মুক্তি চাই। আমার মা তো কোন অপরাধ করে নাই যে, তাকে বন্দী করে রাখবে এত দিনের জন্যে।অপরাধ করে নাই বললে আবার আদালত অবমাননা হয়ে যাবে। তারপরেও বলবো প্রতিটি জিনিসই কি পলিটিক্যাল হয়ে যায় এই দেশে? এর থেকে কি আমরা বেরিয়ে আসতে পারি না? সবকিছুর ভেতরেই রাজনীতি? আমি আপনার সাথে প্রতিযোগিতা করবো মাঠে সেই প্রতিযোগিতাও কি আমি রাজনীতি দিয়ে করবো?

প্রশ্ন: ৩০ তারিখের মাঠের প্রতিযোগিতার জন্যে নিশ্চয়ই আপনারা পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েছেন? আর সে জন্যে দলের টিকিটও হাতে পেয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন খবরে দেখেছি প্রায় ২ বছর ধরে প্রার্থীর উপরে বিচার বিশ্লেষণ করে তারা মনোনয়ন দিয়েছে। এই ক্ষেত্রে আপনি কতদিন ধরে চেষ্টা করেছেন মনোনয়ন পেতে?
মিজানুর রহমান সিনহা: বাইরে থেকে যে কথাগুলো শোনেন তার সবই কি সত্যি? ২ বছর ধরে বিচার বিশ্লেষণ করে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে? ইনসাইড দ্যা ষ্টোরি আমাদের কিন্তু তা মনে হয় না।

প্রশ্ন: আপনার নিজের জন্যে কত দিন লেগেছে?
মিজানুর রহমান সিনহা: হঠাৎ আমার রাজনীতিতে আসা। ১৯৯০ সালে ইচ্ছা হয় আমি রাজনীতি করবো। আমি তখন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করি এবং তাকে ইচ্ছা প্রকাশ করে বলি- আপনি যেদি আপনার দলে আমাকে নেন তাহলে আপনার সাথে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করছি।

প্রশ্ন: আমরা দেখেছি আওয়ামী লীগের একেকটি আসনের বিপরীতে দশের অধিকও প্রার্থী ছিলেন। বিএনপি এই রকম কতো জন করে ছিলেন? আপনি তো মুন্সীগঞ্জ-২ সেখানে কতোজন প্রার্থী ছিলেন?
মিজানুর রহমান সিনহা: আমার বিরুদ্ধে সাধারণত খুব বেশি প্রার্থী কখনো আসে না। এই বছর আমরা দু’জন আছি। গত বছর ছিল তিনজন।

প্রশ্ন: মুন্সীগঞ্জ-২ এ আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কে? কোন বিষয়গুলো সামনে নিয়ে আপনি তাকে পরাজিত করার কৌশল নিয়েছেন?
মিজানুর রহমান সিনহা: তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো সেটা আমার রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ ১৫টি বছর তারা ক্ষমতায় ২০০৮ সাল থেকে আরম্ভ করে তার আগে এবং পরেও। তারা দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় থেকে দেশের যথেষ্ট উন্নয়ন করার সুযোগ পেয়েছেন। আমার রাজনৈতিক জীবনে দুই টার্ম বিরোধী দলে ছিলাম আর একবার সরকারে ছিলাম। আমার উন্নয়নের সাথে তাদের উন্নয়নের তুলনা করলেই বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

প্রশ্ন: আপনার এলাকার পাশেই পদ্মা সেতু হচ্ছে। এটি দেশের বড় স্বপ্ন। আপনি কি মনে করেন উন্নয়ন হয়েছে?
মিজানুর রহমান সিনহা: উন্নয়ন অবশ্যই হয়েছে। তবে আমি আগেই বলেছি অনেক প্রশ্নের উত্তর আমি দেব না। সরকারের বিরুদ্ধে গিয়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে চাই না।

প্রশ্ন: দশ বছরে এই সরকারের সময়ে দেশের অর্থনীতি কতোটা এগিয়েছে?
মিজানুর রহমান সিনহা: অনেকখানি এগিয়েছে। সেই সাথে অর্থের সাথে যে অনেক মিল সেটার মূল্যও তো অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রশ্ন: বিনিয়োগের কোন কোন ক্ষেত্রে দেশ এগিয়েছে বলে মনে করেন, যেহেতু আপনি একজন শিল্পপতি?
মিজানুর রহমান সিনহা: মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে বিনিয়োগ করা প্রোডাক্টগুলো আমরা মার্কেটে ছাড়ি তার মূল্যও তো অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ইটস ডাজ নট মিন যে, শুধু প্রোডাক্টের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়াতেই দেশে উন্নতি হয়েছে- তা কিন্তু নয়। আমি বলবো প্রডাক্টের মূল্য বৃদ্ধির সাথে সাথে যে প্রোডাক্ট আমরা উৎপাদন করেছি তারও মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ইলেক্ট্রিসিটির কথা বলেন- আমরা শুনি যে ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত এখন দেশে উৎপাদন হয়। কিন্তু গ্রামে গেলে এখনো লোড শেডিং আমরা দেখি।

প্রশ্ন: আপনারা ক্ষমতায় গেলে এর চেয়ে বেশি আর কী করবেন? উন্নয়নের কোন দিক নিয়ে আপনি ভাবছেন?
মিজানুর রহমান সিনহা: বিশ্বের সাথে তুলনা করলে আমরা এখনো অনেক পিছিয়ে আছি।

প্রশ্ন: তবে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার অবস্থায় বাংলাদেশ আছে- এটা তো স্বীকার করবেন?
মিজানুর রহমান সিনহা: অবশ্যই আছে। সিঙ্গাপুরও তো আমাদের মত দরিদ্র ছিল এক সময়। ভিয়েতনামের অবস্থাও আমাদের মত ছিল। তারা কি এগিয়ে যায়নি?

প্রশ্ন: আমরা কতখানি এগিয়েছি?
মিজানুর রহমান সিনহা: আমরা অনেকখানি এগিয়েছি। সেই সাথে আমাদের মূল্যও দিতে হয়েছে অনেক।

প্রশ্ন: আপনারা ক্ষমতায় এলে কী করবেন?
মিজানুর রহমান সিনহা: দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন যে কোনো সরকারের জন্যে প্রধান দায়িত্ব হয়ে গেছে। গ্রাম বাংলায় আমরা এখনো সহজভাবে ভ্রমণ করতে পারি না। গাড়ি নিয়ে এমন কি কোথাও কোথাও পায়ে হেঁটে যাওয়াও কষ্টকর হয়ে যায়। এইটাই কি উন্নয়ন?

প্রশ্ন: অনেকে বিএনপির খাম্বা দুর্নীতির বিষয়ে বলেন। সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশ কি অনেকখানি এগিয়ে যায়নি?
মিজানুর রহমান সিনহা: এই একটা বিষয়কে দিয়েই কি সব কিছু বিচার করা ঠিক? শুধু খাম্বা দিয়ে কি দেশের সব দুর্নীতি ম্লান হয়ে যায়? সেই খাম্বাতো আমরা এখনো ব্যবহার করি, করি না? ওই ইলেকট্রিক পোলগুলো আমরা এখনো ব্যবহার করি।

প্রশ্ন: কিন্তু জনগণ বলে ওই সময়ের দুর্নীতি অন্য কোন সময়কে ছাপিয়ে যেতে পারেনি?
মিজানুর রহমান সিনহা: এটি বিচার সাপেক্ষ। পাবলিকলি একটি পলিটিক্যাল পার্টির মেম্বার হয়ে আমি এই বিষয়ে আপনার সাথে তর্কে জড়াতে চাই না। আপনি টেবিল টকে আমার সাথে অন্যভাবে আসেন বা রাউন্ড টেবিলে আসেন। সেখানে আমি এই ব্যাপারে আপনার সাথে কথা বলবো।