চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বারুদ সমুদ্রে ভেসে উঠা শিরোনামহীন

নতুন গান নিয়ে ফের আলোচনায়

দেশের প্রতিষ্ঠিত ও তুমুল জনপ্রিয় ব্যান্ড শিরোনামহীন। টানা দুই দশক ধরেই তারুণ্যের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছে দলটি। ঘোর লাগা মিউজিক ও অসাধারণ লিরিকে অনন্য এই দলটি মাঝখানে কিছুটা ছন্দপতনের ভেতর দিয়ে গেলেও ‘জাদুকর’ হয়ে ঘুরে দাঁড়ায়। এরপর ফের বহিমিয়ান। আর এবার তাদের ভেসে উঠা বারুদ সমুদ্রে!

সেই পুরনো চেহারায়। জাদুকর, বহিমিয়ান এবং সর্বশেষ বারুদ সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়ছে অগণিত ভক্ত, অনুরাগী আর শুভাকাঙ্ক্ষী। মুগ্ধ সকলেই। ভিউ হিসেবে করলেও তুলনাহীন শিরোনামহীন। প্রায় দশ লাখবার দেখা হয়েছে জাদুকর। আর ছয় লাখ বার ‘বহিমিয়ান’। এগুলো শুধু শিরোনামহীনের অফিশিয়াল পেইজের হিসাব। এছাড়াও বিভিন্ন বেনামি ইউটিউব চ্যানেলেও চোখে পড়বে শিরোনামহীনের নতুন গানগুলো। সেখানেও লাখ লাখ ভিউ দেখা যায়। ক’দিন আগেও যারা শিরোনামহীনের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, তাদের জন্য হয়তো এগুলো একটা শক্ত জবাব। তাই কি?

বিজ্ঞাপন

এমন প্রশ্নই রাখা হয় শিরোনামহীনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও বেইজ গিটারিস্ট জিয়াউর রহমান জিয়ার কাছে। তার মতে, মাঝখানে আমাদের কিছুটা দুঃসময় গেছে। আমাদের ব্যক্তিগত কিছু ঝুটঝামেলাও ছিলো। তবে সবকিছু কাটিয়ে কথা মতোই আমরা ‘বারুদ সমুদ্রে’ শ্রোতা দর্শকদের সামনে নিয়ে আসতে পেরেছি তাতে খুব আনন্দিত। আর শিরোনামহীনের বর্তমান অবস্থা কী, এমন প্রশ্ন যদি কেউ এখন আমাদের করেন তাহলে তাকে আমাদের শেষ দুইটা গানের ভিউ দেখতে বলি। জানি, ভিউ-ই সব কিছু না। কিন্তু এটা জাস্ট রিভিউংয়ের জন্য বলা। শিরোনামহীন একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যান্ড। আর ব্যান্ড মানে ব্যক্তি নয়। ব্যান্ড মানে সমষ্টি। প্রতিটি সদস্য ব্যান্ডটাকে ধারণ না করলে ব্যান্ড টিকবে না। আমরা ব্যান্ডের এই কালচারটাকে ওউন করি।

১০ মার্চ শনিবার শিরোনামহীনের ইউটিউব চ্যানেলে রিলিজ দেয়ার কথা ছিলো ‘বারুদ সমুদ্র’। কিন্তু পূর্ব নির্ধারিত তারিখের একদিন আগেই ইউটিউবে। এতে কিছুটা বিব্রত শিরোনামহীন। কেনো একদিন আগেই গানটি ইউটিউবে চলে এলো?-এমন প্রশ্নে জিয়া বলেন, ১০ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে গানটি রিলিজ করার কথা ছিলো। সে হিসেবেই আমরা প্রমোশনও করেছি। সবই ঠিক ছিলো। কিন্তু ইউটিউব চ্যানেলে যিনি অপারেট করেন আমাদের, তার সাথে কিছুটা মিসকমিউনিকেশন হয়েছে। যিনি ইউটিউবে আপলোড করেন, তিনি ভেবেছেন আমরা ৮ তারিখে গানটি রিলিজ দিবো। ভুল বোঝাবুঝির কারণেই দুই দিন আগেই গানটি ইউটিউবে রিলিজ হয়।

গানের ভিডিও নিয়েও উচ্ছ্বসিত জিয়া। ভিডিওটি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব আশরাফ শিশির ভাইয়ের। শিরোনামহীনের টানা তিনটি ভিডিও তিনি নির্মাণ করেছেন। সিনেমার জন্য হলিউডে যে ক্যামেরা ব্যবহার হয়, সেই ক্যামেরায় ‘বারুদ সমুদ্র’ গানটির দৃশ্যায়ন করা। সীমিত সাধ্যের মধ্যে থেকেও বিগ অ্যারেঞ্জমেন্ট করার কাজটা শিশির ভাই খুব ভালো করেন। আর এই গান নিয়ে আমাদের তৃৃপ্তির কথা বলতে গেলে বলা যায়, এটাতে আমাদের ডিটেইল খুব চমৎকারভাবে এসেছে। আর এই গানটা অর্কেস্টা প্রধানও। জাদুকর, বহিমিয়ান এবং বারুদ সমুদ্রের মধ্যে এই গানটা শিরোনামহীনের সবার প্রিয় একটি গান।

গানের পাশাপাশি চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে জিয়া কথা বললেন নতুনভাবে শিরোনামীহন পরিচালনা নিয়েও। বললেন, ব্যান্ড মানেই আত্মা ঢেলে কাজ করা। এখানে প্রতিটি সদস্যকে তা ওউন করতে হয়। ওয়ান ম্যান শো দিয়ে ব্যান্ড হয় না। ওয়ান ম্যান শো’র দিকে যেনো না যায়, সেদিকে এবার আমাদের লক্ষ্য থাকবে। ভোকাল সর্বস্ব হলে ব্যান্ড কালচারটাই আর থাকবে না। বরং সলোতে ওয়ান ম্যান শো হয়। সেখানে ভোকালের সাথে যারা মিউজিশিয়ান তারা পেইড। তাদেরকে ওউন করতে হয় না। এখানেই ব্যান্ডের সাথে সলোর পার্থক্য। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের সাধারণ শ্রোতারাও ভোকালকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। অথচ ব্যান্ডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছেন ক্রিয়েটর।

শিরোনামহীনের বারুদ সমুদ্র: