চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাবার অনুপ্রেরণায় আজকের সাদমান

Nagod
Bkash July

সাদমান ইসলাম অনিকের নানা মারা গেছেন কদিন আগেই। শুক্রবার গোপীবাগের বাসায় ছিল মরহুমের জন্য দোয়া মাহফিল। এমন দিনে মিরপুরে টেস্ট ক্যাপ মাথায় তুললেন সাদমান। অভিষেকেই খেললেন ১৯৯ বলে ৭৬ রানের আত্মবিশ্বাসী এক ইনিংস। এ বাঁহাতি ওপেনারের ব্যাটিংয়ের ধরণ-ধৈর্য ছড়িয়েছে মুগ্ধতা। অথচ যার প্রেরণায় ক্রিকেটার হয়েছেন সাদমান, সেই ব্যক্তিটিই মাঠে এসে দেখতে পারেননি ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ২২ গজে তার ছুটে চলা।

Reneta June

শ্বশুরের জন্য বাসায় দোয়া মাহফিল নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন সাদমানের বাবা শহিদুল ইসলাম। যিনি বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক। তার অফিস কক্ষ থেকেই দেখা যায় শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের ২২ গজ। অথচ ছেলের অভিষেক দেখার সৌভাগ্য হয়নি তার।

ক্রিকেটসংশ্লিষ্ট অনেকেই জানেন, সাদমানের বাবা ক্রিকেটার তুলে আনা ও তাদের পরিচর্যার সঙ্গে জড়িত দীর্ঘসময় ধরে। দিনের খেলা শেষে সাদমান যখন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন, উঠে এল বাবার প্রসঙ্গও। বাবার ভূমিকা আর প্রেরণা নিয়ে সাদমান বলে গেলেন অনুপ্রেরণার গল্প।

প্রথমবার টেস্ট ক্যাপ মাথায় চড়ানো সাদমানকে সতীর্থদের অভিনন্দন

‘আব্বু সবসময় আমাকে উৎসাহ যুগিয়েছে। যখন অনেক ছোট, অনূর্ধ্ব-১৫/১৭ ক্যাম্পে আমাকে নিয়ে যেতেন। তখন থেকেই ইচ্ছা ছিল খেলোয়াড় হবো। যেভাবে আব্বু খেলার জন্য বলছে, একাডেমি কিংবা স্কুল ক্রিকেট থেকে ওভাবেই তৈরি হয়েছি। অনেক সাপোর্ট করেছে খেলার জন্য। কীভাবে খেলতে হয়, কীভাবে লাইফ সেট করতে হয় ক্রিকেটারদের, ওগুলো এখনও বলে। নিজেকে চেষ্টা করি ওভাবে রাখার।’

শহিদুল ইসলাম বিসিবির সঙ্গে সম্পৃক্ত ১৯৯৮ সাল থেকে। ২০০৪ থেকে গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগে কর্মরত তিনি। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট পরিচালনা, ক্রিকেটার তুলে আনা এবং তাদের পরিচর্যা করে জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুত করা তার কাজের অংশ। যে প্রক্রিয়ার অধীনে সাদমানও ছিলেন দীর্ঘ সময়।

অবাক করা ব্যাপার হল, ক্রিকেট বোর্ডেরই অনেকেই জানতেন না ক্রিকেটার সাদমান শহিদুলের সন্তান। মাশরাফী-সাকিবরাও জেনেছেন অনেক পরে। বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় জেগেছে তাদের মনেও।

চার বছরেরও বেশি সময় বাবার বিভাগের ছাত্র ছিলেন সাদমান। অথচ মাঠে বাবা-ছেলে দূরত্ব রাখার চেষ্টা করে গেছেন শুরু থেকেই। কদিন আগে চ্যানেল আই অনলাইনকে দেয়া সাক্ষাতকারে সাদমানের বাবা জানিয়েছেন দূরত্ব রাখার কারণ সম্পর্কে।

‘আমি বিসিবিতে কাজ করি বিধায় অন্য ক্রিকেটাররা ভাবতে পারে সাদমান বেশি সুবিধা পাবে বা বাবা হিসেবে আমি বাড়তি সুবিধা দেবো। কখনো বিন্দুমাত্র সে চেষ্টা করিনি। সাদমানকে একটা কথাই বলেছি, নিজ যোগ্যতায় দলে আসতে পারলে আসবা। ক্রিকেটীয় দক্ষতায় যদি অন্য কেউ ১৯ হয়, তোমার ২০ হতে হবে। এক ধাপ এগিয়ে থাকতে হবে। কোনো ক্রিকেটার যেন ভুল ভেবে আশাহত না হয় সেজন্য দূরত্ব রেখেছি। ঘরে আমরা বন্ধুর মতো। কিন্তু অন দ্য ফিল্ড আমাদের মাঝে অনেক দূরত্ব।’

‘২০১৪ সালে বাংলাদেশ যখন যুব বিশ্বকাপ খেলে এল, তখনও কেউ জানত না সাদমান আমার সন্তান। আমার বিভাগের কেউ কেউ জানত, কিন্তু বিসিবির অন্য বিভাগের তেমন কেউই জানত না। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যাতে প্রভাব না পড়ে সেটি চেয়েছি সবসময়।’ যোগ করেন সাদমানের বাবা।

সাকিব ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন সাদমানের ব্যাটিং টেস্টের সঙ্গে খুব মানানসই। সেটির প্রদর্শনী ২৩ বছর বয়সী এ বাঁহাতি দেখালেন প্রথম সুযোগেই। তার তিন অঙ্ক ছুঁতে না পারা হয়ত কিছুটা আক্ষেপ জন্ম দেবে। তবে বৃহৎ ক্যানভাসে টেস্ট আদলের একজন ওপেনার পাওয়াও যে অনেক বড় প্রাপ্তির, সেঞ্চুরির আক্ষেপ সেটির কাছে নগণ্য!

সাদমানেরও আক্ষেপ নেই ততটা। দলের প্রয়োজন মেটাতে পেরেই খুশি এ তরুণ, ‘ভালো লাগছে। সবারই স্বপ্ন থাকে জাতীয় দলে খেলার। ডেব্যু টেস্ট। চেষ্টা করেছি দলের জন্য সেরাটা দেয়ার। হয়তো পুরোপুরি করতে পারিনি। যতটুকু হয়েছে, আশা করি পরবর্তীতেও দলের জন্য যেন কিছু করতে পারি।’

অন দ্য ফিল্ড বাবা-ছেলের দূরত্ব কাটল না আন্তর্জাতিক অভিষেকের শুরুতেও। সাদমান যেভাবে খেলেছেন তাতে যোগ্যতার প্রমাণ দেয়া হয়ে গেছে বেশ ভালভাবেই। তিনি যে বিসিবি কর্মকর্তার সন্তান এখন সেটি পুরো দেশ জানলেও হয়তো সমস্যা হবে না!

সাদমান বাংলাদেশের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলছেন ২০১৪ সালে। নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সেই আসরে হন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তখন সাদমানকে নিয়ে বেশ হৈচৈ হয়েছিল। সম্ভাবনাময় এ বাঁহাতি ওপেনার একদিন বাংলাদেশ দলে খেলবেন সেটা অনুমেয়ই ছিল। জাতীয় দলের ঠিকানা খুঁজে পেতে একটু সময় হয়ত লাগল, পথচলা দীর্ঘায়িত হলে এই দেরিটাও মধুরই। কারণ সময়টাতেই পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েছেন সাদমান।

BSH
Bellow Post-Green View