চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বাঙালির বৈঠকখানায় ছিলেন নিমাই ভট্টাচার্য

দীর্ঘদিন তিনি ছিলেন অজ্ঞাত বাসে! তাঁকে মানুষ হারিয়েই ফেলেছেন, বহুকাল আগে। তবুও তাঁর শাসন জারি ছিল দীর্ঘদিন বাঙালির বিয়ে বাড়ির ভিতরে। উপহারে উৎসবে নিমাই বাবুকে পেয়েছে মানুষ, রঙিন কাগজে মোড়কে!

বাংলা সাহিত্যে তিনি মারা গেছেন বহু আগে! তবুও এবার তিনি রক্ত মাংসে প্রয়াত হলেন। তিনি বিশিষ্ট সাহিত্যিক নিমাই ভট্টাচার্য।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার সকালে টালিগঞ্জের বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান এই সাংবাদিক ও কথা সাহিত্যিক। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। দীর্ঘদিন তিনি কলেজ জীবনকে শাসন করেছেন বাংলা সাহিত্যের চটকদার গল্প দিয়ে। বেশ কয়েক বছর ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন সাহিত্যিক নিমাই ভট্টাচার্য ।

বিজ্ঞাপন

কথা সাহিত্যিক নিমাই ভট্টাচার্যের জন্ম ১৯৩১ সালের ১০ এপ্রিল। বাংলাদেশের যশোরের গ্রামে জন্ম হয় তাঁর। মাত্র তিন বছর বয়সে মা-কে হারান এই প্রিয় সাহিত্যিক। একা লড়াই করে বাবা সুরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যই তাঁকে মানুষ করেন। তিনি ১৯৪৮ সালে ম্যাট্রিক পাশ করেন এবং সে বছর কলকাতার রিপন কলেজে ভর্তি হন। কলেজে পড়তেই পড়তেই সাংবাদিকতা শুরু করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তাঁর সাহিত্যগুলোর আড়ালে ঢাকা পড়ে গিয়েছে দীর্ঘ ব্যক্তি ও সাংবাদিক জীবন। ‘মেমসাহেব’ তাঁর অন্যতম সৃষ্টি। এছাড়াও পিয়াসা, ম্যারেজ রেজিস্ট্রার, অষ্টাদশী, ডিপ্লোম্যাট, নাচনী, ইমন কল্যাণ, ব্যাচেলারের মতো অসংখ্য উপন্যাস লিখেছিলেন তিনি। তাঁর উপন্যাস এক সময় বাঙালির বৈঠকখানা দখল করে ছিল।

১৯৫০ সালে ‘লোকসেবক’ পত্রিকা দিয়ে সাংবাদিকতা জীবনের শুরু তাঁর। প্রয়াত সাহিত্যিক নিমাই ভট্টাচার্য ১৯৫০ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত ৩০ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের বড় সময়টা কাটিয়েছেন দিল্লিতে গিয়ে বেশ কয়েকটি সংবাদ পত্রের পাতায় সংসদ, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সাংবাদিক হিসেবে।

কাজ করেছেন পাঁচটি জনপ্রিয় কাগজে দীর্ঘদিন। অধিকাংশই সর্বভারতীয় কাগজ। ফলে তাঁর ব্যাপ্তি ছিল ভারতবর্ষ জুড়ে।

দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে নিমাই ভট্টাচার্য জওহরলাল নেহরু, লাল বাহাদুর শাস্ত্রী, ভি কে কৃষ্ণমেনন, মোরারজী দেশাই, ইন্দিরা গান্ধী-সহ বহু বিশিষ্ট জনের স্নেহভাজন ছিলেন। জোট নিরপেক্ষ শীর্ষ সম্মেলন, কমনওয়েলথ সম্মেলন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী-সহ বিখ্যাত নেতৃবৃন্দের সফর সঙ্গী হিসেবে ছিল তাঁর কাজ করার অভিজ্ঞতা।

সাংবাদিকতা ছেড়ে দেওয়ার পর অবসর জীবনে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কাগজে তিনি লিখতেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সাংবাদিকতা করে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন নিমাই ভট্টাচার্য। তাঁর লেখায় মাখোমাখো প্রেমের চরম উদ্দীপনা বার বার প্রতি ফলিত হয়েছে!