চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও অবিসংবাদিত নেত্রী শেখ হাসিনা

বাঙালি জাতির নয়নের মণি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যখন ব্রিটিশরা ইচ্ছা করেই দ্বি-জাতি তত্ত্বভিত্তিক পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠন করল; তখন থেকেই শেখ মুজিব তার সব সত্তা দিয়ে বাঙালি জাতির আত্ম-উন্নয়ন ও মর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্র গঠনে তৎপর হলেন। সারা জীবন তিনি গণতন্ত্রের ধারক ও বাহক ছিলেন। ভাষা আন্দোলনের সময় জেলে থেকেও তিনি নিজেকে প্রমাণিত করেছেন একজন দক্ষ কাণ্ডারি কিভাবে দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন।

আবার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন বঙ্গবন্ধু যখন ছয় দফা পেশ করেন সেগুলো পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের একান্ত অনুসারীদের বুক রক্তাক্ত করে। কেননা তারা বুঝতে পারে যে, বঙ্গবন্ধু দক্ষ নেতৃত্বগুণে কেবল এগিয়ে চলেছেন তা নয় বরং বাঙালি জাতির ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ১১ দফা সমর্থন করে তিনি প্রমাণ করেন যে, বাঙালিদের আত্ম-উন্নয়নের বিকল্প কিছু তার কাছে নেই। আগরতলা যড়যন্ত্রের মিথ্যা মামলায় তিনি অবিচল থেকেছেন। সত্তরের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সত্ত্বেও পশ্চিমারা তাকে ভয় করতো। অথচ গণতন্ত্রের একজন উদগ্র সমর্থককে তারা কোনোমতেই প্রধানমন্ত্রীর আসন দিলেন না। অবশ্য বঙ্গবন্ধুর মূল প্রতিপাদ্য ছিল বাঙালি জাতির উন্নয়ন করা।

৭ই মার্চের ভাষণকে বলা হয় ম্যাগনাকার্টা। মোবাশ্বের আলী ‘বাংলাদেশের সন্ধানে’ গ্রন্থে মন্তব্য করেছেন যে, বঙ্গবন্ধুর দুর্দমনীয় সাহস, ন্যায়নিষ্ঠা বাঙালি জাতিকে আবার সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে−একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছে। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান। এ ব্যাপারে মোবাশ্বের আলী গ্রন্থে মন্তব্য করেছেন যে, ঘোষণাটি ইপিআর সদস্যের মাধ্যমে শোনার সৌভাগ্য হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু জেল-জুলুম কোনো কিছুতেই ভয় পাননি। ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করেও ঘৃণিত ইয়াহিয়া খান বিশ্ব জনমতের কারণে তাকে ফাঁসি দেওয়ার মতো দুঃসাহস দেখাতে পারেননি। অকুতোভয় বঙ্গবন্ধুর চিন্তা- চেতনা ও মননজুড়ে সর্বদা উচ্চারিত হয়েছে বাঙালি জাতি যেন ভালো থাকে।

বাংলাদেশ সাড়ে ৯ মাস লড়াই করে স্বাধীন হলো। পাকিস্তানি ও তাদের এ-দেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদররা এ সময়টায় গোটা দেশকে একটি শ্মশানপুরীতে রূপান্তর করেছিল। ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি ঘটিয়েও জল্লাদরা অট্টহাসিতে বিরাজমান ছিল। দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু ফিরলেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে সচেষ্ট হলেন। এখনো যখন বঙ্গবন্ধুর সাড়ে তিন বছরের কার্যক্রম নিয়ে নির্মোহ গবেষণা করি তখন দেখতে পাই, বঙ্গবন্ধু যে বিশাল কর্মযজ্ঞ বাংলার জনগণের জন্য শুরু করেছিলেন তা বাস্তবায়ন হলে অনেক আগেই বাংলাদেশের জাতীয় প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ হারে বার্ষিক ভিত্তিতে ছাড়িয়ে যেত।

সাড়ে তিন বছর শাসনকালকে অভিহিত করা যায় বাংলাদেশের উন্নয়নের ভিত্তিভূমি স্থাপন। একদিকে বিদেশ থেকে যারা আমাদের দেশের অবিরাম শত্রুতা করে চলেছে আর সে ধর্ম ব্যবসায়ী ও যুদ্ধাপরাধী যারা বাঙালি হয়েও বাঙালি জাতির অগ্রগতিকে বারবার পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করছে। আমাদের বঙ্গবন্ধু ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাইকে অর্থনৈতিক মুক্তির রূপরেখা কেবল দেননি বরং তা যাতে বাস্তবায়িত হয় সে জন্য কৌশলগত ব্যবস্থাপনাকে বাস্তবায়নে সচেষ্ট ছিলেন। তিনি সমুদ্রসম্পদ নিয়ে প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করেন। দরিদ্রদের জন্য কো-অপারেটিভের ব্যবস্থা করেন। ব্যাংকিং-শিল্প-কল-কারখানায় জাতীয়করণের কোনো বিকল্প ছিল না। দেশের অগ্রগতি ঘটুক, মানুষ স্বাবলম্বী হোক, দারিদ্র্য ও বৈষম্যমুক্ত সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠুক। সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আর তার স্থানীয় দোসররা নানা ধরনের অপকর্ম ঘটাতে থাকে। ১৯৭৫ সালের কালরাতে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নৃশংসভাবে নিহত হন। বিশ্বশান্তি কাউন্সিল তাকে শান্তির জন্য জুলি ও কুরি পদক প্রদান করে।

পঁচাত্তরের পর দীর্ঘকাল বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার আইন করে বন্ধ ঘোষণা করেছিল। এ সময়ে বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করেছি অনেক শৃঙ্খলিত পরিবেশে। পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে যে প্রজন্ম তৈরি হচ্ছিল তা ’৯৬-এর আগ পর্যন্ত অনেকখানি দিগ্বদিক শূন্য ছিল। জিয়ার নষ্টামি, এরশাদের কলুষিত রাজনীতিকে বিবেকশূন্য করে তোলে। সমাজে যে শৃঙ্খলা ছিল, বঙ্গবন্ধুর যে মহান আদর্শসমূহ ছিল তা ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করতে শাসকগোষ্ঠী থেকে শুরু করে নানামুখী অসৎ পরিকল্পনা, খুনি জিয়াউর রহমান ‘মানি ইজ নো প্রবলেম’ বলে দেশে এক অস্থিতিশীল ও লুটেরা গোষ্ঠীর উৎপাদন করেন। কথায় আছে, পাপ বাপকেও ছাড়ে না। আর তাই তো জিয়ার দুই পুত্রই আজ মহামূর্খের আসনে বসে আছে, যদিও একজন মারা গেছে। এই লুটেরা গোষ্ঠীটি দেশের খোলনলচে পরিবর্তন করে দিতে চান কিছু অসাধু ব্যক্তির ছত্রচ্ছায়া আর ’৭১-এর মানবাধিকার হরণকারী, পরাজিত শক্তি ও ধর্ষণকারীদের সম্মিলিত সহযোগিতায়। ফলে ভোগব্যবস্থায় এক অসম প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন। বৈধভাবে সে পদ থেকে তিনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। আর তাই প্রধানমন্ত্রীর অধীন ব্যবস্থায় সরকার জাতীয় সংসদের মাধ্যমে প্রবর্তন করেন। তিনি শত্রুদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করতেন। কখনো তিনি কারোর বিরুদ্ধে কঠোরতা প্রদর্শন করেননি। তিনি শুধু বাংলাদেশের নেতা নন বরং একজন আন্তর্জাতিক ধী-সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ভাবতে কষ্ট লাগে বঙ্গবন্ধুর মতো শান্তিপ্রিয় ব্যক্তিত্বকে নোবেল প্রাইজ দেওয়া হয়নি।

১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। শেখ হাসিনাকে বলা যায় আদর্শ পিতার আদর্শ সন্তান। পাশাপাশি তিনি বঙ্গমাতার মতোই দূরদর্শীসম্পন্ন। এরপরই শুরু হয় তার সংগ্রামমুখর পথচলা। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি যুক্ত হন। বারবার তাকে গৃহবন্দিত্ব বরণ করতে হয়েছে। ১৯৯১ সালে সূক্ষ্ম কারচুপি হলে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। মাগুরা ইলেকশনের ক্ষেত্রে তিনি কঠোর অবস্থান করেন। এ সময় তিনি রাজনৈতিক বিজ্ঞতায় বিএনপির দুর্নীতি, একগুঁয়েমি ও নষ্টামির চিত্র জাতির সামনে তুলে ধরেন।

pm-4বঙ্গবন্ধু-পরবর্তী ১৯৯৬-২০০১ সালকে বলা যায় আবার মুক্তিকামী ও গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার পর্ব। এ সময় শেখ হাসিনা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। মুক্তিযুদ্ধের যে মূল উদ্দেশ্য মানুষের আর্থিক মুক্তি সেটিকে তিনি পুনরায় বাস্তবায়ন করেন। আবার অশান্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশেষ উদ্যোগ নেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তিনি সামাজিক ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দেন।

২০০১ সালে নির্বাচনে বিএনপি আঁতাত করে ক্ষমতায় আসে। স্থানে স্থানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সূচনা করে। দ্রব্যমূল্যের দাম অসহনীয় হয়ে ওঠে। এ ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেশ ও জাতিকে বিভ্রান্ত করে। তারা বিএনপির শাসনকালকে দুঃশাসন বলে অভিহিত করে। জেএমবির উত্থান ঘটতে থাকে। বিদেশ থেকে অস্ত্র এনে পরিবহনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দুজন যুদ্ধাপরাধী মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হন। সবচেয়ে বড়কথা, এই মহতি নারীকে হত্যার জন্য তস্কর তারেক আর তার দোসররা ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলা করে। এটি একটি দুর্ভাগ্যজনক ও কলঙ্কজনক ঘটনা। তবে আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি বেঁচে যান। এ সময় জঙ্গিদের উত্থান ঘটে। মাঝখানে যখন কেয়ারটেকার সরকার ছিল তারা শেখ হাসিনাকে কারারুদ্ধ করে। জনতার চাপে তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

পরবর্তী সময়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট নিয়ে শেখ হাসিনা নির্বাচিত হয়ে আসেন। আবার শুরু করেন জনকল্যাণে রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনা করা। তিনি মানুষের কল্যাণের কথা ভাবেন, আর্থসামাজিক উন্নয়নের কথা ভাবেন, ভাবেন দেশের অগ্রযাত্রার কথা। এ সময় জননেত্রীর নেতৃত্ব গুণে দেশ এগিয়ে যায়। ২০১৩-১৪ সালে বিএনপি-জামায়াত কেবল নির্বাচন বয়কট করেনি বরং মানুষ হত্যা, বোমাবাজি ও বোবা প্রাণী হত্যাসহ নানা রকম দুষ্কর্মে জড়িয়ে পড়ে। বিএনপি-জামায়াতের অপতৎপরতার নেত্রী দেশ ও জাতির কল্যাণ চান না বলে ২০১৪ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনুরোধ সত্ত্বেও আসেননি। তৃতীয়বারের মতো ইলেকশনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন। তিনি দেশে-বিদেশে বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন বাই ওমেন; এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড বাই গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফোরাম; ফোর্বস তালিকায় ১০০ জন ক্ষমতাশালী নারীর মধ্যে ৫৯ স্থান অধিকার করেন। বোস্টন ইউনিভার্সিটি, ওয়াসেদা ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব এবারটি ডান্ডিসহ নানা বিশ্ববিদ্যালয় দেশ-অন্ত:প্রাণ এই মহীয়সী নারীকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দেন। এই মহীয়সী নারী এখন কেবল বাংলাদেশের নয়, বিশ্বায়নের যুগে নিজ কর্মগুণে স্টেটম্যান হিসেবে পরিগণিত হচ্ছেন।

তিনি দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন, অসাম্প্রদায়িক নীতির সার্থক রূপায়ণ ঘটিয়েছেন, বাংলাদেশে যে জঙ্গিবাদের ঘাঁটি ছিল তা সমূলে উৎখাতে সচেষ্ট হয়েছেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখিয়েছেন। যারা জঙ্গিবাদকে আজ মদদ দিচ্ছে তাদের একটি বড় অংশই বিএনপি-জামায়াত সমর্থক। এদের কেউ কেউ আবার গিরগিটির মতো ভোল পাল্টাচ্ছে। এ অংশটির সঙ্গে খোন্দকার মুশতাকের প্রেতাত্মার একটি মিল রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। তলে তলে এরা যেন একাত্ম হয়ে আছে। নিউ জেএমবি আজ তৈরি হচ্ছে দেশিদের মাঝে যারা বিদেশিদের পঞ্চম স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। পুলিশ ও র‌্যাব অত্যন্ত প্রশংসনীয়ভাবে নিউ জেএমবিদের অপতৎপরতা নস্যাৎ করতে সচেষ্ট রয়েছে।

আসলে জঙ্গিদের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধ। কেবল ঐক্যবদ্ধ নয় বিএনপি-জামায়াত ঘরানার ব্যক্তিরা। তাদের সঙ্গে সুশীল সমাজের একটি অংশ যারা অবৈধভাবে বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন, দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সেমিনার-সিম্পোজিয়ামের নাম করে, তারা অনেকটা বেকুবের মতো প্রশ্ন করেন। এ দলটি এতই সংকীর্ণমনা যে, তারা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। যে বিপুল অর্থ পাওয়া যাচ্ছে তার পেছনে কোনো কোনো ব্যবসায়ীর মদদ আছে, সেটি নিশ্চয়ই গোয়েন্দারা খুঁজে বের করবেন। কেননা পত্রিকান্তরে প্রকাশিত রিপোর্টে দেখা যায়, এক শ্রেণির ব্যবসায়ী তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবসা করেন আর উগ্রতাকে প্রশ্রয় দেন। যেসব জঙ্গি ধরা পড়ছে তার মধ্যে রয়েছে যেমন শিক্ষিত তেমনি অশিক্ষিত। যত দূর মনে পড়ে পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে বলছি প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ, তারপর বাণিজ্য অনুষদে হিযবুত তাহরীরের উত্থান।

এদিকে বুয়েটের উপাচার্য যখন জঙ্গিদের সম্পর্কে কথা তুলল তখন দেখলাম সব সরকারের আমলে ঘনিষ্ঠ এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তার বিরুদ্ধে বুয়েটে আন্দোলনে তলে তলে চালিয়ে গেলেন, যেহেতু উপাচার্য অ্যালামনাইদের জন্য জমি দেননি।

বিজ্ঞাপন

pm-3পত্রিকার রিপোর্টগুলো ভালো করে বিশ্লেষণ করলেই অনেক অজানা তথ্য সামনে চলে আসে, কারা পুরনো জেএমবি তৈরি করেছে, আবার নিউ জেএমবি কারা করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে। কিন্তু সামাজিক, আর্থিক প্রতিরোধও একঘরে করা দরকার। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র-শিক্ষক ছাড়াও কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জঙ্গিবাদে জড়িত বলে রিপোর্ট বেরিয়েছে। ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব চট্টগ্রামের বিরুদ্ধে একটি রিপোর্ট চ্যানেল ৭১-এ দেখানো হলো। গোয়েন্দারা যদি একটু কষ্ট করে সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যেমন প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসমূহ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন, ভালো হয়। ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ই বলুন আর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান রেজিস্ট্রার সম্পর্কে যেসব অন্তর্ঘাতমূলক বক্তব্য প্রকাশিত হচ্ছে, তা রহস্য নয়। নিশ্চয়ই নর্থসাউথ, মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আরো বেশি করে গোয়েন্দারা সময়মতো অপরাধীদের ধরবেন। নচেৎ তারা যেভাবে শিক্ষাঙ্গনে গেড়ে বসেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।

দেশ-জাতি-সমাজ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শেখ হাসিনা নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। ক্ষুদ্র সঞ্চয় ব্যবস্থাপনার ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন পেটে-ভাতের রাজনীতির অর্থনীতি। তার নেতৃত্ব গুণে বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ শক্তিশালী। সার্ক একটি অকার্যকর সংস্থা। শেখ হাসিনাই কেবল পারেন বিমসটেককে শক্তিশালী করতে। আর এ বিমসটেকে তিনি যেন শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি রিজিওনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক দেন সেদিকে লক্ষ রাখা উচিত। তার মহৎ উদ্যোগে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিদেশে ট্রেনিং নিতে গিয়ে দেখেছি যে, আমরা অত্যন্ত দ্রুত সবকিছু আয়ত্তে আনতে পারি। এখন অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলটি বাস্তবায়ন করা দরকার। বর্ণচোররা যাতে এখানে ঢুকতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শিক্ষাবিদরা তাদের নিষ্ঠা দিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন করবেন। আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্সের কাজ করতে গিয়ে দেখেছি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে অনেক সুযোগ আছে।

বর্তমান ইউজিসির চেয়ারম্যান অত্যন্ত প্রাজ্ঞ একজন পণ্ডিত ব্যক্তি। হেকেপের ড. গৌরাঙ্গ চন্দ্র মোহান্ত অত্যন্ত সুযোগ্য আমলা ও দক্ষ প্রশাসক। অন্যদিকে কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলে প্রফেসর ড. মেসবাহ উদ্দীন আহমেদ, প্রফেসর সঞ্জয় কুমার অধিকারী দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছেন।

এদিকে বাংলাদেশ যাতে ব্রিকসের সদস্য হতে পারে, সে জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করা উচিত। এশিয়ান ইনফাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকেরও সদস্য হওয়া উচিত।

pm-5জননেত্রী শেখ হাসিনার কূটনৈতিক তাৎপর্য হচ্ছে সবার সঙ্গে সমতার ভিত্তিতে বন্ধুত্বকরণ। তিনি লুকিং অ্যাট দি ইস্ট নীতিতে বিশ্বাসী। ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশানে তার কর্মকাণ্ড হচ্ছে দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। এ ব্যাপারে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জামান অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছেন। তিনি পরিবেশবিজ্ঞানী হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন ড. আতিউর রহমানের প্রস্থানের পর আমলানির্ভর হয়ে পড়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশানের ব্যাপারে সরকারি উদ্যোগ অনেকটা স্থবির। যদিও সরকার বিভিন্নভাবে উদ্যোগ নিচ্ছে।

আমি গবেষণা করতে গিয়ে দেখেছি বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও জননেত্রী চিন্তাধারা বাস্তবায়ন উদয়াস্ত পরিশ্রম করছে। আশা করবো জননেত্রী এ সরকারি প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত তহবিলের পরিমাণ দ্বিগুণ করে দেবেন। উন্নয়নভোগীরা মূলত গবেষণায় যে উত্তরটি দিয়েছেন সেটি তাৎপর্যমণ্ডিত। শেখ হাসিনা সরকার বিএনএফের মাধ্যমে ক্ষুদ্র সাহায্য দিয়েছেন। নেত্রীর জন্য গর্বে আমার বুক ভরে গেছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যোগ্যতা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন।

তিনি তার কর্মপদ্ধতি অনুসারে সহযোগীদের বিভিন্নভাবে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছেন। দেশের উন্নয়নে জননেত্রীর দুই ছেলেমেয়ে স্বীয় যোগ্যতা ও মেধা প্রদর্শন করে চলেছেন। ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ডিজিটাল বাংলাদেশ করছেন। আর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল সুন্দরভাবে অটিস্টিকদের জন্য মানব উন্নয়নে কাজ করেছেন। এ ব্যাপারে ভারতের এমটিসি গ্লোবালে ‘হায়ার এডুকেশন ইন অটিস্টিক’ একটি প্রবন্ধ স্কাইপের মাধ্যমে উপস্থাপন করি। প্রবন্ধটির ব্যাপক সাড়া আসলে আমার নয়, বর্তমান সরকারের কৃতিত্ব। সুযোগ পেলে শিক্ষকরা কিভাবে উচ্চশিক্ষার জন্য অটিস্টিকের সাহায্য করবেন এ ব্যাপারে একটি দিনব্যাপী কর্মশালা করব। জননেত্রী দেশে এন্টারপ্রেনারশিপ তৈরির জন্য ব্যাপক প্রয়াস নিয়েছেন।

আমরা মনে করি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আগামী নোবেল প্রাইজ দেওয়া দরকার। এ জন্য এখন থেকেই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া বাঞ্ছনীয়। জননেত্রী অহিংসতা, মঙ্গলহিতসাধনকারী, জঙ্গি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব প্রদানকারী। জননেত্রীর একাগ্রতা ও বাংলার মানুষের জন্য সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের ধারক-বাহক। তার একাগ্রতায় আজ পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি হচ্ছে। অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান একজন যোগ্য ব্যক্তি। তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন।

pm-6জননেত্রী শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশের উন্নয়নে রোল মডেল দিয়েছেন। সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল পূর্ণ করার লক্ষ্যে বহুবিধ পদক্ষেপ নিয়েছেন। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পূর্তিতে ভিশন ২০১১ (রূপরেখা-২০২১) বাস্তবায়নে তার একাগ্রতা প্রমাণ করে তিনি দেশের প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে কতো গভীরভাবে ভালোবাসেন। বর্তমানে যোগাযোগব্যবস্থা রেলের ক্ষেত্রে ব্যাপক সম্প্রসারণ হচ্ছে। তবে নৌপথের প্রসার বন্ধ হয়ে রয়েছে। ফি বছর ড্রেজিংয়ের অর্থগুলো ঠিকমতো কাজে লাগে না।

আমি একটি প্রস্তাবনা রাখতে চাইছি-যারা প্রান্তিক ও গরিব এমনকি নিম্ন আয়ের গোষ্ঠী তাদের জন্য কমিউনিটি ব্যাংকিং চালু করার ব্যবস্থা করার। কেননা ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য খাতে কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রসার করে নেত্রী গরিব ও প্রান্তিক মানুষের প্রশংসাধন্য হয়েছেন। এটি আরো বেগবান হবে বলে আশা করি।

যারা এ দেশের ও প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সাড়ে তিন হাজার বছর ধরে চলে আসা সামাজিক ব্যবসাকে নিজের বলে দাবি করে পরে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দাবি করছেন তাদের মোক্ষম জবাব হবে সামাজিক ব্যবসার উপাদানসমূহ: সামাজিক নেটওয়ার্কিং, সামাজিক পুঁজি ও সামাজিক বিনিয়োগের আওতায় আনয়ন করা। ধীরে ধীরে গ্রামীণ অর্থনীতি স্থিতিশীল হচ্ছে।

সামাজিক ব্যবসার সরকারি প্রসারে সরকারি সংস্থা বিএনএফকে সংযুক্ত করা যায়। আবার মাইক্রোক্রেডিট আসলে এদেশে চালু করেছিলেন বঙ্গবন্ধু−দেশের দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য। ড. ইউনূস বঙ্গবন্ধুর ভাবনাকে নিজের বলে চালিয়ে দিয়েছেন এবং এটি একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে ফরমাল সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করেছেন। বঙ্গবন্ধুর ঔদার্যকে কাজে লাগিয়ে অনেকে সুযোগমতো কেটে পড়েছেন। অনেকে রাগ করতে পারেন কিন্তু আমি সত্য বলছি প্রফেসর নূরুল ইসলাম প্লানিং কমিশন থেকে চলে গেলেন বিদেশে; প্রফেসর আনিসুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে আইএলওতে আর ড. ইউনূস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। আসলে এদের কারোরই দেশের প্রতি কমিটমেন্ট ছিল না।

এদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। নেতৃত্বে আছেন অবিসংবাদিত নেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আজ কেবল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নয়, সারা দেশের মানুষের নয়নের মণি। তাকে নোবেল পুরস্কার শান্তির জন্য দিলে নোবেল পুরস্কার কমিটি ধন্য হবে। জননেত্রীর হাত ধরে আওয়ামী লীগ এগিয়ে চলুক ।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

বিজ্ঞাপন