চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধুর খুনি ফ্রিডম পার্টির নেতারা কেন আওয়ামী লীগে?

বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিচার হবে আর খুনীদের সহকারীদের দলে টেনে পদ দেয়া হবে এমনটি কি ঠিক? আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকার সময় বঙ্গবন্ধুর খুনীরা সংগঠিত হয়ে ফ্রিডম পার্টি গড়ে তোলে৷ তারা তখন অস্ত্রশক্তিতে বলিয়ান হয়ে পুলিশের সাথে গোলাগুলিও করেছে৷

সেই ফ্রিডম পার্টির নেতারা এখন কে কোথায়? খন্দকার মোশতাক আওয়ামী লীগের নেতা সেজেই আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে চেয়েছে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে৷ গত ১৮ আগস্ট দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রিডম পার্টির নেতা ওমর ফারুক চৌধুরী এখন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাজশাহী-১ আসনে আওয়ামী লীগের এমপি৷ আওয়ামী লীগের দুর্দিনে ফ্রিডম পার্টির মিছিলে নেতৃত্ব দিয়ে সুদিনে হয়ে গেলেন আওয়ামী লীগ নেতা! কেন আওয়ামী লীগে কী নেতার অভাব ছিল? প্রথমে ফ্রিডম পার্টি ও পরে ছাত্রদলের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে (রাকসু) ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন ওমর ফারুক চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

এরপর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। কারণ তখন আওয়ামী লীগের সুদিন ছিল৷ এই যোগদান কি সুদিনকে রুখতে না পেরে নতুন দুর্দিন সৃষ্টির কৌশল হতে পারে না? বঙ্গবন্ধুর সাথে থেকে আওয়ামী লীগ নেতা সেজে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার নেতৃত্ব দিয়েছিল খন্দকার মোশতাক৷ বঙ্গবন্ধুর বিশ্বাস অর্জনের জন্য বঙ্গবন্ধুর বাবা মার মরদেহ কবরে নেয়ার সময় মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে কান্নার অভিনয়ও করেছিল সে। মোশতাক বঙ্গবন্ধুর পুত্র শেখ কামালের বিয়ের উকিল বাপের অভিনয়ও করেছিল। এমন তেলবাজরা কি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে ঘিরে এখনও সক্রিয় নয়?

সবাই সোনার নৌকা উপহার দিলেও বঙ্গবন্ধুকে সোনার বটগাছ উপহার দিয়েছিল খন্দকার মোশতাক। কারণ অন্তরে বিষ রেখে সে মধুমাখা কণ্ঠে বলতো বঙ্গবন্ধু তার কাছে বটবৃক্ষের মতো৷ বটবৃক্ষের পাশে থেকেই বটবৃক্ষটি ধ্বংস করতে চেয়েছে সে৷ ১৯৭৫ সালের ১৪ই আগস্ট দুপুরেও বাসা থেকে তরকারি রান্না করে এনে বঙ্গবন্ধুকে খাইয়েছে। মোশতাক তাকে হত্যা করতে পারে বঙ্গবন্ধু কখনো এমন ভাবনা ভাবেননি৷

৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয় বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দল ফ্রিডম পার্টি। সেই নির্বাচনের সরকার টিকলে কি ওমর ফারুক চৌধুরী আওয়ামী লীগে আসতেন? তখন সরকারী দল হিসেবে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আসন নেয় বিএনপি ও প্রধান বিরোধী দল হিসেবে খুনী ফারুকের নেতৃত্বে ফ্রিডম পার্টি। রাজনীতিতে দুর্দিনের বন্ধুরা কেন হারিয়ে যায় আর নেতৃত্বের আসনে বসে দুর্দিনের শত্রুরা? কেন মূল্যায়িত হয় না দুর্দিনের বন্ধুরা?

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন কর্ণেল জামিল৷ এই বীরের ভাগ্যে জোটেনি এক টুকরো কাফনের কাপড় কিংবা দাফনের আগে জানাজাও।  সেনা প্রহরায় রক্তাক্ত বিছানার চাদর মুড়িয়ে সমাহিত করা হয় তাকে। ক্ষমতাহারা দুর্দিন পেরিয়ে বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগ চারবার রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলেও কর্নেল জামিলের এই আত্মত্যাগ মূল্যায়িত হলো না৷ রাজধানীর সোবহানবাগে যে স্থানে জামিলকে গুলি করে হত্যা করা হয় সেখানেও নির্মিত হলোনা কোনো স্মৃতিস্তম্ভ।

১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের স্মৃতিচারণা করে কর্নেল জামিলের দ্বিতীয় কন্যা আফরোজা জামিল কঙ্কার একটি বক্তব্য সংবাদপত্রে এল৷ তিনি বলেন,বাবা রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব হিসেবে গণভবন কম্পাউন্ডেই বাসভবন পেয়েছিলেন। সেই বাসার মা-বাবার শয়নকক্ষের পাশেই ছিল আমাদের কক্ষ। ১৫ আগস্ট ভোরের দিকে বাবা ও মায়ের উচ্চস্বরের কথাবার্তায় আমার এবং বড় বোনের ঘুম ভেঙে যায়। আমার বয়স তখন ১২ আর বোনের বয়স ১৫। আমরা এগিয়ে গিয়ে দেখলাম মা-বাবা উদ্বিগ্ন। বাবা বিভিন্ন জায়গায় ফোন করছেন। শুনলাম বঙ্গবন্ধু ফোন করেছিলেন। বাসার লাল ফোনটা বেজে উঠতেই মা (আনজুমান আরা) এগিয়ে গিয়ে ফোনটা ধরেছিলেন। ওপাশ থেকে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘জামিল কই? জামিলকে দে।’ মা দ্রুত বাবাকে ডেকে দেন। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ শেষে বাবা জানান, ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধুর বাসায় হামলা হয়েছে। বাবা সেনাপ্রধানসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন।  সেনাপ্রধান কে এম সফিউল্লাহ ধানমণ্ডিতে ফোর্স পাঠাবেন বলে বাবাকে আশ্বস্ত করেন।

আফরোজা জামিল কঙ্কা বলেন, সময় নষ্ট না করে বাবা ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসার দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি তার গাড়ির চালক আইনউদ্দিন মোল্লাকে ডেকে গণভবনে অবস্থানরত পিজিআর সদস্যদের ৩২ নম্বরের দিকে এগোনোর খবর দিতে বলেন। এরপর বাবা সিভিল ড্রেসেই বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের দিকে রওনা হন। মা একটু ইতস্তত করছিলেন। বাবা বললেন, বঙ্গবন্ধুর বিপদ, আমাকে যেতেই হবে। তখন মা বললেন, ফেরার সময় শ্বেতাকে (কর্নেল জামিলের তৃতীয় কন্যা ফাহমিদা আহমেদ শ্বেতা সেদিন মোহাম্মদপুরে খালার বাসায় অবস্থান করছিলেন) নিয়ে এসো। বাবার সঙ্গে এটাই ছিল মার শেষ কথা।

কর্নেল জামিল ১৫ আগস্ট সকালে গণভবনে পিজিআরের ফোর্সকে হাতিয়ার-গুলিসহ পাঁচ মিনিটের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে তার ব্যক্তিগত গাড়িতে রওনা হন। পথে গণভবন থেকে আসা ফোর্সদের দেখেন। সোবহানবাগ মসজিদের কাছে পৌঁছলে অসংখ্য গুলি আসতে থাকে। তখন তার গাড়িচালক আইনউদ্দিন ফোর্স অ্যাটাক করানোর কথা বললে কর্নেল জামিল বলেন, এটা ওয়ার ফিল্ড নয়, ফোর্স অ্যাটাক করালে সিভিলিয়ানদের ক্ষতি হতে পারে। আইনউদ্দিনকে প্রতিপক্ষের অবস্থান জেনে আসতে নির্দেশ দিয়ে কর্নেল জামিল গাড়িতেই বসে থাকেন। আইনউদ্দিন যখন দেয়াল ঘেঁষে ৩২ নম্বরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন পাঁচ-ছয়জন সেনা সদস্য দৌড়ে জামিলের গাড়ির দিকে ছুটে যায়।  আইনউদ্দিন হাতে ইশারা করে কর্নেল জামিলকে সরে যেতে। স্যার, স্যার বলে আওয়াজও করেন কয়েকবার। কিন্তু কর্নেল জামিল তার দিকে তাকাননি।

ওই সময় অস্ত্রধারী সেনারা জামিলকে গুলি করে হত্যা করে৷ বঙ্গবন্ধুর ভাগ্যেও যেমন জুটেনি কাফনের কাপড় তার জীবন রক্ষার জন্য ছুটে আসা জামিলেরও তাই৷ এই বীরের ভাগ্যে জোটেনি এক টুকরো কাফনের কাপড় কিংবা দাফনের আগে জানাজাও। সেনা প্রহরায় রক্তাক্ত বিছানার চাদর মুড়িয়ে সমাহিত করা হয় তাকে। আওয়ামী লীগ চারবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এলেও কর্নেল জামিলের এই আত্মদান মূল্যায়িত হলো না৷ দেশে কত স্থাপনা হলো৷ কেউ তো জামিলের নামে নামকরণের প্রস্তাব দিলো না? ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমণ্ডিতে রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসায় এই হামলার খবরে যখন সেনাপ্রধানসহ প্রভাবশালী অনেক কর্মকর্তাই চুপসে যান তখন বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে ছুটে যান রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব কর্নেল জামিল আহমেদ।

বিজ্ঞাপন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-তারুণ্যস্বাধীনতার পরাজিত শক্তি স্বাধীনতার মহানায়ককে হত্যা করেছিল পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে৷ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে তারা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে৷ বঙ্গবন্ধু কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা গানকে জাতীয় সংগীত করেন৷ তারা এই জাতীয় সংগীতেরও বিরোধিতা করে৷ সাম্প্রদায়িক চিন্তায় বাংলা বর্ণেও তারা হিন্দুত্ব মুসলমানিত্ব খুঁজতে থাকে৷ জামাত নেতা মতিউর রহমান নিজামী জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের প্রস্তাব করে। জামাতের আরেক নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী সংসদ অধিবেশনে প্রস্তাব দিয়েছিল রাধাচুড়া, কৃষ্ণচূড়ার নাম পরিবর্তন করতে। কারণ এই দুইটা হিন্দুয়ানী নাম। তারা আরও বলে জয়দেবপুর হিন্দুয়ানী শব্দ তাই এটা বলা যাবেনা। ব্রাহ্মনবাড়ীয়াকে বলতে লাগল বি-বাড়ীয়া ও ময়মনসিংহকে মোমেনশাহী। এই সাম্প্রদায়িক চক্রটি এখনও তৎপর৷ তাদের উদ্দেশ্য এক কিন্তু কৌশল ভিন্ন৷ এবার তারা বঙ্গবন্ধু ভক্ত সেজে সাম্প্রদায়িকতার চর্চা করছে৷ গোপাল হিন্দু দেবতার নাম তাই তারা গোপালগঞ্জের নাম মুজিবগঞ্জ করার প্রস্তাব দিচ্ছে৷

আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি এই গানটিকে জাতীয় সংগীত করেছিলেন বঙ্গবন্ধু, এবার বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার করেই জাতীয় সংগীত বদলের প্রস্তাব করছে৷ এতে কি প্রমাণ হয় না আওয়ামী লীগে সাম্প্রদায়িক ও মোশতাক পন্থীরা সংগঠিত হচ্ছে?

বঙ্গবন্ধুর খুনীর সহযোগী ও সাম্প্রদায়িক শক্তিকে দলে না ভিড়ালে কি দল অচল হয়ে যেতো? দুর্দিনে যারা শত্রুতা করেছে তারা সুদিনের মিত্র হয় কিভাবে? মোশতাকের ডেমোক্রেটিক লীগ নেই৷ কিন্তু দলটি কি মোশতাক একা করতো? দলটির অন্য নেতারা সব কোথায়? ফ্রিডম পার্টির চেয়ারম্যান লেঃ কর্নেল ফারুক রহমান নেই ঠিক আছে৷ তবে অন্যরা সব কোথায়? নাকি তারাও ওমর ফারুক চৌধুরীর মতো আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করেছে? কী ঘটতে চলেছে আওয়ামী লীগে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে অচল হয়েছে সাম্প্রদায়িক ও স্বাধীনতাবিরোধী সঙ্গের কারণে৷

তবে কি এবার সেই সঙ্গটা আওয়ামী লীগের ঘাড়ে সওয়ার হচ্ছে আওয়ামী লীগের ঘাড় ভাঙ্গতে? ক্ষমতান্ধ হয়ে কি তবে আত্মঘাতী হয়ে উঠছেনা কেউ কেউ? ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ায় জনগণের ক্ষোভ, ভোটদানের অনাগ্রহ সৃষ্টি ও আওয়ামী লীগের আস্থা হারানো এগুলো কি অশুভের লক্ষণ নয়? মন্ত্রীদের অবান্তর ও অতিকথন, নিজেদের অক্ষমতা ঢাকতে বিএনপি জামাতের ঘাড়ে দায় চাপানোর চেষ্টা৷

যেমন চামড়া শিল্পের বিপর্যয় ঢাকতে একজন বলছে, বিএনপি জামাতের লোকেরা চামড়া কিনে রাস্তায় ফেলে দিয়েছে৷ আরেকজন বলছে দেশ উন্নত হয়েছে তাই এডিস মশা এসেছে৷ উন্নত দেশেই এডিস মশা আসে৷ এমন অবান্তর কথার পরিণতি কী? ক্ষোভ সংগঠিত হচ্ছে শরীক দলেও৷ দুঃসময়ে গড়ে উঠেছিল ১৪ দলীয় জোট৷ এখন সুসময়ে তাদেরকে বিরোধী দল হতে বলা হচ্ছে৷ মন্ত্রীসভায় শরীক দলের প্রতিনিধিত্বও কেড়ে নেয়া হয়েছে৷ এসব কীসের ঈঙ্গিত?

বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে এসে জীবন দিলেন কর্ণেল জামিল৷ মূল্যায়িত হচ্ছে না তার এই আত্মদান৷ বঙ্গবন্ধু হত্যার যারা প্রতিবাদ করেছিল৷ তাদের মধ্যে রয়েছে কেউ মৃত্যুবরণকারী ও কেউ জীবিত৷ তাদেরও মূল্যায়ন নেই৷ তাদের মধ্যেও বিরাজ করছে ক্ষুব্ধতা৷ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারীরা অবমূল্যায়নের বিরুদ্ধে সংগঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় প্রেসক্লাবে৷ ক্ষুব্ধতা বিরাজ করছে খোদ আওয়ামী লীগেও৷ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক উপকমিটির সদস্য মুফতি মাসুম বিল্লাহ নাফিয়ী সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকারের ১১ বছর চলছে। বসন্তের কোকিল,হাইব্রিড,কাউয়া ও লুটবাজরা অনুপ্রবেশ করেছে। মূলত কারো অনুপ্রবেশ ঘটেনি ঘটানো হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এমপি ও মন্ত্রীরা দলীয় ত্যাগী কর্মীদেরকে কোন সুযোগ-সুবিধা না দিয়ে স্বীয়স্বার্থে জামাত-বিএনপি ও বখাটে নয়ন বন্ডদের মতো ক্যাডারদেরকে সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে এবং এখনো দিচ্ছে।

সুতরাং মাননীয় নেতৃবৃন্দ, যারা দল ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে চেতনা ও দলবিরোধী এসমস্ত অপকর্ম করেছে বা এখনো করে যাচ্ছে তাদেরকে চিহৃিত করুন এবং প্রতিকারের দ্রুত ব্যবস্থা নিন।  তাহলে কর্মীরা বুঝবে নেতারা শুধু সান্ত্বনার বুলিই দিচ্ছে না বাস্তবমূখী উদ্যোগও গ্রহণ করেছে। শুধু এই মুফতি মাসুম বিল্লাহ নয় দেশময় ছড়িয়ে পড়ছে এমন আশংকা৷ কে আওয়ামী লীগ করছে আর কে আওয়ামী লীগের অভিনয় করছে তা বুঝাই কঠিন হয়ে উঠছে৷ যেমন মোশতাকের অভিনয় বুঝেননি স্বয়ং বঙ্গবন্ধু৷

বিএনপি জামাত, ডেমোক্রেটিক লীগ ও ফ্রিডম পার্টির নেতাদের কেউ কি দুর্দিনে এসেছে? ২০১০ সালের পর যারা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন তারা কি আওয়ামী লীগ করছে না আওয়ামী লীগের অভিনয় করছে? ২০১২-১৩-১৪-১৫ তে ব্যাপক অনুপ্রবেশ ঘটেছে এসব অভিনেতাদের। এই সমস্ত নেতারা নানারকম কলাকৌশলে অনেক জায়গায় তৃণমূলের নেতৃত্ব কর্তৃত্বও গ্রহণ করে চলেছে৷ ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দুর্নীতি দুর্বৃত্তায়ন ও ক্ষমতাবাজদের অপকর্মে অতিষ্ট হয়ে আওয়ামী লীগকে ভেঙ্গে দিতে চেয়েছিলেন৷ তিনি ক্ষুব্ধ কন্ঠ বলেছিলেন,পাকিস্তানীরা সব লুট করে নিয়ে গেছে৷ কাগজ ছাড়া আমার কাছে কিছু রেখে যায় নাই৷ বিদেশ থেকে ভিক্ষা করে আমাকে আনতে হয়৷ আর চোরের দল দুখী মানুষের সম্পদ লুট করে খায়৷ অসহ্য সীমা ছাড়িয়ে গেছে৷

তিনি আরও বলেছিলেন, দীর্ঘ তিন বৎসর যাবত তাদেরকে অনেক সতর্ক করেছি হুমকি দিয়েছি৷ কিন্তু চোরা না শুনে ধর্মের কাহিনী৷ বঙ্গবন্ধুর এই বক্তব্যের সময় চোরা মুশতাক তার পাশে দাঁড়িয়ে থেকেছিল৷ মুশতাক কি অবলীলায় আওয়ামী লীগের অভিনয় করে মন্ত্রিসভায় চলে গেল? অতঃপর সব অভিনেতা মিলে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করল৷ এসব অভিনেতাদের রুখতেই হয়তো বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগ ভেঙ্গে দিতে চেয়েছিলেন৷ বাকশাল পরিস্থিতির বাস্তবতা ছিলো৷ অভিনেতারা কত নির্মম ও নিষ্ঠুর হয় ১৫ আগস্ট তা দেখিয়ে গেছে৷ এ থেকে সকলের শিক্ষা নেয়া উচিত নয় কি?

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

Bellow Post-Green View