চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করে দেশের সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র উৎসব

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করে শুরু হচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ১৯তম আসর। করোনাকালীন এই সময়েও দেশের সবচেয়ে বড় এই চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হবে দেশ বিদেশের ২২৫টি সিনেমা!

উৎসবের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজকরা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল, উৎসবের চেয়ারপারসন কিশোয়ার কামাল, ম হামিদ, চলচ্চিত্র জুরি বোর্ডের সদস্য মইনুদ্দিন খালেদ, চিত্রনায়ক ফেরদৌস সহ উৎসব সংশ্লিষ্ট অনেকে।

শুরুতেই উৎসবের বিস্তারিত জানিয়ে আহমেদ মুজতবা জামাল বলেন, আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, মুজিব শতবর্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি উৎসর্গকৃত রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদ-এর উদ্যোগে ‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’ এই শ্লোগানে আগামি ১৬ থেকে ২৪ জানুয়ারি ২০২১ ঊনবিংশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বরাবরের মত এবারের উৎসবেও থাকছে এশিয়ান ফিল্ম প্রতিযোগিতা বিভাগ, রেট্রোস্পেকটিভ বিভাগ, বাংলাদেশ প্যানারোমা, সিনেমা অফ দ্য ওয়ার্ল্ড, চিল্ড্রেন ফিল্মস্, স্পিরিচুয়াল ফিল্মস, শর্ট অ্যান্ড ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম এবং উইমেন্স ফিল্ম মেকার বিভাগ। তবে উৎসবে এবারই প্রথম সংযুক্ত হচ্ছে ‘লিজেন্ডারি লিডারস হু চেঞ্জ দি ওয়ার্ল্ড’ এবং ‘ট্রিবিউট’ নামে আরো দু’টি নতুন বিভাগ, যা এবারের উৎসবকে আরও উচ্চতর মাত্রা দেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। এবারেরর উৎসবে মোট ৭৩টি দেশের ২৩৫টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।

উৎসব পরিচালক আরো বলেন, বিগত উৎসবের মত এবারও যারা বিশেষভাবে সহযোগিতা করছে তাদের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ঢাকাস্থ ভারতীয় দূতাবাস। উৎসব পার্টনার হিসেবে আছে- বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগার, নরওয়েজিয়ান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব হাগুসেন্ড, রিলিজিওন টুডে ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, ঢাকা ক্লাব লিমিডেট, বালিক আর্ট, চ্যানেল আই, দুরন্ত টিভি, একাত্তর টিভি, একসন এইড, ক্লাউড লাইভ, লাগ ভেলকি এবং সেন্স ফর ওয়েভ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামি শনিবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হোসেন এমপি এবং বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনার মি. বিক্রম কে দোরাইস্বমী। এছাড়া বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক জনাব লিয়াকত আলী লাকি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

বিজ্ঞাপন

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর সন্ধ্যা ৬টা থেকে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শীত হবে। উৎসবে উদ্বোধনী চলচ্চিত্র ‘স্প্রিং ব্লোসম’। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন সুজান্না লিনডন। একজন টিনেজ তরুণীর সঙ্গে একজন প্রবীণের জাগতিক সম্পের্কের টানাপোড়েন নিয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। ২০২০ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ‘স্প্রিং ব্লোসম’।

উৎসবে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর স্থানসমূহ- জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তন ও কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তন, শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা ও নৃত্যশালা মিলনায়তন, শিল্পকলার নন্দন থিয়েটার (মুক্তমঞ্চ), বসুন্ধরার স্টার সিনেপ্লেক্স এবং সীমান্ত স্কয়ার সিনেপ্লেক্স।

চলচ্চিত্র দেখার নিয়মাবলী:
১. জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তন: সকাল ১০টা, দুপুর ১টা ও বিকাল ৩টার প্রদর্শনী শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে দেখতে পারবেন। সেক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে। এর বাইরে, সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য টিকেটমূল্য ৫০ টাকা।

২. কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তন: এখানে সকাল ১০টা থেকে শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শীত হবে। যেখানে অভিভাবকরাও শিশুদের সঙ্গে এই চলচ্চিত্রগুলো বিনামূল্যে উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া, সকাল ১০টা, দুপুর ১টা ও বিকাল ৩টার প্রদর্শনী শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে দেখতে পারবেন। সেক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে। এর বাইরে, সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য টিকেটমূল্য ৫০ টাকা।

৩. জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তন: এই মিলনায়তনের সব প্রদর্শনী সবাই বিনামূল্যে উপভোগ করতে পারবেন। আসন সংখ্যা সীমিত থাকায় আগে আসলে দেখবেন ভিত্তিতে আসন বণ্টন করা হবে।

৪. শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা ও নৃত্যশালা: এখানের প্রদর্শনীগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত। আসন সংখ্যা সীমিত থাকায় আগে আসলে দেখবেন ভিত্তিতে আসন বণ্টন করা হবে।

৫. শিল্পকলার নন্দনমঞ্চ: এখানের প্রদর্শনীগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত।

এবারের উৎসবে মিলনায়তনের পাশাপাশি অনলাইনেও চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ রয়েছে। লাকভেলকি অনলাইন প্লাটফর্মে উৎসব চলাকালীন সময়ে নির্বাচিত চলচ্চিত্রগুলো দেখতে পারবেন।