চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Partex Cable

প্রান্তিক জনগণের খাবার নিশ্চিত করতে হবে: অর্থমন্ত্রী

‘‘এই মুহূর্তে মানুষকে রক্ষাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’’

Nagod
Bkash July

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, এ মুহূর্তে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে মানুষকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষার বিষয়ে।

Reneta June

পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয় আহারের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সচিবদের সঙ্গে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব ও উত্তরণে পর্যালোচনা বৈঠকে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, আইআরডি সিনিয়র সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন প্রমুখ।

বৈঠকে আসন্ন বাজেট নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়। বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রভাবে বাজেটে যাতে আর্থিক সংকট না হয়, সেজন্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বাজেট সহায়তা প্রাপ্তির বিষয়ে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। ইতিমধ্যেই নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। গত বছর ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ হারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। চলতি বছরে আমরা ৮ দশমিক ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের দিকে এগুচ্ছিলাম। কিন্তু প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস জনস্বাস্থ্যসহ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক থাবা বসাতে যাচ্ছে, এটা এখন সর্বজনবিদিত। বাংলাদেশও এই নেতিবাচক প্রভাব হতে মুক্ত নয়।

তিনি বলেন, গত জানুয়ারির প্রথম দিকে চীনে এই ভাইরাসের উৎপত্তি হয়েছিল। যার প্রাদুর্ভাব মহামারী হিসেবে এখন প্রায় বিশ্বের প্রতিটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এ মুহূর্তে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার মানুষকে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা, পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনীয় আহারের ব্যবস্থা করা।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে মুস্তফা কামাল বলেন, মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবে বাংলাদেশকে অন্যান্য দেশের মত নানামুখী অর্থনৈতিক সমস্যার মোকাবিলা করতে হতে পারে। এখনো জানি না করোনার প্রাদুর্ভাব কতদিন পর্যন্ত থাকবে। আমাদের আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি আয়ের পরিমাণ গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কম হয়েছে এবং অর্থবছর শেষে এর পরিমাণ আরও কমতে পারে। চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ও অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা বিলম্বের কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ প্রত্যাশিতভাবে অর্জিত না ও হতে পারে।

‘‘হোটেল-রেস্টুরেন্ট, পরিবহন এবং এভিয়েশন খাতের মত সেবা খাতগুলোর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। প্রভাব পড়বে দেশের শেয়ার বাজারেও। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে এর মূল্য ৫০ শতাংশের বেশি কমে গেছে। যার বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে প্রবাসী আয়ের ওপর। তবে যেহেতু বিগত আট মাসে প্রবাসী আয়ে ২১ শতাংশের মত প্রবৃদ্ধি ছিল, সেহেতু আগামী চারমাসে প্রবাসী আয় কিছুটা কম হলেও বছর শেষে গত অর্থ বছরের তুলানায় কম হবে না বলে আশা করা যায়।’’

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অর্থনীতি করোনার প্রভাবে কিরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হবে সে প্রাক্কলন প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে কেননা এখনই সামগ্রিক প্রাক্কলন সম্ভব নয়। বাংলাদেশও এর ব্যাতিক্রম নয়। তবে এশিয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রাক্কলনে করোনার প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ৩০২ কোটি ডলার হতে পারে, যদি করোনার প্রভাব বাংলাদেশে খুব খারাপভাবে পরিলক্ষিত হয়।

‘‘দীর্ঘ ছুটি বা কার্যত লকডাউনের ফলে রপ্তানিমুখী শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং কুঠির শিল্পসহ উৎপাদনমুখী সব প্রতিষ্ঠানসমূহে বিরূপ প্রভাব এবং পরিবহন সেবা ব্যহত হওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমে যাবে এবং সরবরাহ চেইনে সমস্যা হতে পারে। রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও আমরা শঙ্কিত।’’

করোনা মোকাবেলা ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব থেকে উত্তরণের পরিকল্পনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি, আর্থিক সহায়তার প্যাকেজ প্রণয়ন, সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি ও মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক এ বিরূপ প্রভাব উত্তরণে অবিলম্বে স্বল্পমেয়াদী ও মধ্যমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থ বিভাগের অপ্রত্যাশিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা খাত থেকে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুকূল ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

‘‘নিম্ন আয়ের মানুষদের ঘরে ফেরা কর্মসূচির আওতায় নিজ নিজ গ্রামে সহায়তা প্রদান করা হবে। গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর, ৬ মাসের খাদ্য এবং নগদ অর্থ দেয়া হবে। বিনামূল্যে ভিজিডি, ভিজিএফ এবং ১০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

শিল্প উৎপাদন এবং রপ্তানি বাণিজ্যের আঘাত মোকাবিলায় কিছু আপদকালীন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রপ্তানীমুখী শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং কুটির শিল্পসমুহের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় আরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে ব্যবসা বান্ধব বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’’

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী জুন পর্যন্ত কোনো গ্রাহক যদি কিস্তি পরিশোধে অপরাগও হয় তথাপিও তাকে ঋণ খেলাপি না করার ঘোষণা দিয়েছে। এনজিওগুলোর ঋণের কিস্তি পরিশোধেও জুন পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধে অপরাগ হলেও ঋণ খেলাপি করা হবে না। রপ্তানি আয় আদায়ের সময়সীমা ২ মাস থেকে বাড়িয়ে ৬ মাস করা হয়েছে। একইভাবে আমদানি ব্যয় মেটানোর সময়সীমা ৪ মাস থেকে বাড়িয়ে ৬ মাস করা হয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে আর্থিক লেনদেনের সীমা বাড়ানো হয়েছে

BSH
Bellow Post-Green View