চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রাইভেট কারের চাপায় পথচারীর মৃত্যু: দুই বছর পর চালক গ্রেপ্তার

প্রাইভেট কারের চাপায় পথচারী বৃদ্ধ গোয়ালা হরিদাস গোপ (৮৫) নিহত হবার দুই বছর পর পলাতক মো. নুরুল আমিন (৫৯) নামের চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা মেট্টো (উত্তর)।

সোমবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের জহুরি মহল্লা থেকে পিবিআই ঢাকা উত্তরের একটি বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করে ঘাতক নুরুল আমিনকে গ্রেপ্তার করে।

বিজ্ঞাপন

বিষয়টি নিশ্চিত করে পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: ভিকটিম হরিদাস গোপ নিজের বাড়ি কালিয়াকৈরে ঘি তৈরী করে ঢাকা শহরের পল্টন ও পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতেন। তিনি তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। হরিদাস গোপকে চাপা দেয়া ঘাতক প্রাইভেট কারের চালক নুরুল আমিন প্রাইভেট কারটি ফেলে রেখে কৌশলে পালিয়ে যায় এবং ঘটনার পরেই সে তার মোবাইল সিম ও ফোনটি ফেলে দিয়ে আত্মগোপন করে। প্রাইভেট কারটির মালিক মো. শাহআলম।

‘পিবিআইয়ের তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদকালে শাহআলম শুধুমাত্র চালকের একটি জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়, যার নম্বরগুলো অস্পষ্ট ছিল। এছাড়া তার কাছে চালক সম্পর্কিত আর কোন তথ্য ছিল না। পরে শাহআলমের পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে আসামি নুরুল আমিনের আগের কর্মস্থল থেকে একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি পাওয়া যায়। যার সূত্র ধরে পিবিআই ঘাতক চালক নুরুল আমিনকে গ্রেপ্তার করে’।

বিজ্ঞাপন

২০১৭ সালের ১৩ আগস্ট সকাল আনুমানিক সোয়া ৯টার দিকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের সোনালী ব্যাংকের সামনে হরিদাস গোপকে রাস্তা পার হওয়ার সময় মো. নুরুল আমিন বেপরোয়া গতিতে প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো গ-৩৯-২৮০১) চালিয়ে চাপা দিলে হরিদাস গোপের পায়ের হাঁটুর নীচে ভেঙ্গে যায় এবং মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে চালক নুরুল আমিন গাড়ী ফেলে রেখে কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা পুলিশের মাধ্যমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রাইভেট কারের চাপায় নিহত বৃদ্ধ গোয়ালা হরিদাস গোপ

পরে ওইদিনই হরিদাস গোপের ছেলে প্রাইভেট কার চালক মো. নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে বেপরোয়া গতিতে গাড়ী চালিয়ে মৃত্যু ঘটানোর অপরাধে পল্টন মডেল থানার মামলা (নং-২৬) করেন।

মামলার এজাহারে তিনি জানান, তার বাবা হরিদাস গোপ (৮৫) ২০১৭ সালের ১৩ আগস্ট ভোরে তার বড় বোন সন্ধা রানী গোপের কেরানীগঞ্জের বাসায় যাওয়ার উদ্দেশে গ্রামের বাড়ী কালিয়াকৈর থেকে রওনা হন। সকাল ১০টায় পল্টন মডেল থানা পুলিশ তাকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানায় তার বাবা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। এই খবর শুনে তিনি তাৎক্ষনিকভাবে কালিয়াকৈর থেকে ঢাকা মেডিকেলের দিকে রওনা করে দুপুরে হাসপাতালে পৌঁছালে আত্মীয় স্বজনদের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, তার বাবা হরিদাস গোপ মারা গেছেন।

মামলাটি পল্টন মডেল থানা পুলিশ তদন্ত করে ঘাতক প্রাইভেট কারটি আটক করলেও চালক আসামি মো. নুরুল আমিনকে গ্রেপ্তার করতে সম্ভব না হওয়ায় আদালত ঘাতক চালককে গ্রেপ্তার করতে পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

Bellow Post-Green View