চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ

১ হাজার ৩৫ কোটি টাকার ৬টি প্রকল্পের অনুমোদন

দফায় দফায় মেয়াদ বাড়িয়েও সড়ক উন্নয়নের দুই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করে কাজের গতি বাড়াতেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার ওই দুই প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হয়েছিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে। সেসময় প্রধানমন্ত্রী এমন প্রতিক্রিয়া জানান।

বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, খুলনা শিপইয়ার্ডের সড়ক প্রশস্ত ও উন্নয়ন করার প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছিল ২০১৩ সালে। এর বাস্তবায়নে মেয়াদকাল ধরা হয়েছিল ২ বছর। কিন্তু ৭ বছর পর এসে প্রকল্পটির অগ্রগতি মাত্র ৩০ শতাংশ। প্রকল্পটি শেষ করতে আরও ২ বছর সময় চাওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় বেড়েছে ১০৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ। মেয়াদ ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দ থেকে মিনারবাড়ী পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে দেড় বছর মেয়াদে হাতে নেয়া হয়েছিল। প্রায় সাড়ে ৩ বছর প্রকল্পের মেয়াদ আরও আড়াই বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ব্যয়ও বেড়েছে ১১৪ দশমিক ২০ শতাংশ।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, নারায়ণগঞ্জের প্রকল্পটিতে মূল কাজের বাইরে বাংলো বা টুরিস্টদের জন্য হোটেল নির্মাণের পরিকল্পনা যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মূল কাজটাই করুন। অর্থাৎ রাস্তা প্রশস্ত করুন, ঘাটলা নির্মাণ করুন। চায়ের দোকান বা অন্য দোকান বসানোর প্রয়োজন হলে বেসরকারিভাবে ব্যবসায়ীরাই সেটা করবেন।

এছাড়া খুলনা শিপইয়ার্ডের সড়ক প্রশস্ত করা প্রকল্প নিয়েও ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্পটি রিভিউ করতে নির্দেশ দিয়েছেন পরিকল্পনা কমিশনকে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, অনেক সময় প্রকল্প চলাকালীন ‘আইডিয়াওয়ালা’রা এসে নতুন নতুন আইডিয়া যোগ করেন প্রকল্পে। এটা আর করা যাবে না।

বৈঠকে এই দুই প্রকল্পের সংশোধনিসহ মোট ৬টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১ হাজার ১৩৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে ১ হাজার ২৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে আসবে ১০৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

অন্য প্রকল্পগুলো হলো- কুমিল্লা জেলার তিতাস ও হামনা উপজেলায় তিতাস নদীর (লোয়ার ইতিহাস) পুনঃখনন। গাইবান্ধা জেলার সদর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার গোঘাট ও খানাবাড়ীসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা যমুনা নদীর ডানতীরের ভাঙন থেকে রক্ষা। চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রোজেক্ট-ব্রিজিং (অতিরিক্ত অর্থায়ন) (বাপাউবো অংশ) এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প।