চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

পোশাক শিল্পের প্রণোদনা ঋণ পরিশোধের সময় বাড়ল

করোনা মহামারি সংকটে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতে সরকারের প্রণোদনা তহবিল থেকে স্বল্প সুদে যে ঋণ দেয়া হয়েছে পোশাক কারখানাসহ রপ্তানিমুখী শিল্প মালিকদের, তা পরিশোধে আরও সময় দেয়া হচ্ছে।

ওই ঋণ পরিশোধের জন্য গ্রেস পিরিয়ডের সময় ৬ মাস থেকে বাড়িয়ে এক বছর করতে সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি পাঠিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির নেতৃত্বে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এবং সাবেক সহসভাপতি এম এ মান্নান কচিসহ একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদনে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

এ বিষয়ে বিকেএমইএর সহ সভাপতি ও ফতুল্লা অ্যাপারেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে শামীম এহসান বলেন, এটা সরকারের তরফ থেকে আমাদের জন্য খুবই ভাল পদক্ষেপ। কারণ করোনার কারণে আমাদের ব্যবসা আগের অবস্থানে ফিরে আসেনি। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের বর্তমান মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে রপ্তানি পরিস্থিতি খারাপ থাকায় শিল্প মালিকদের পক্ষে এখনই এই ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছিল না।

বাড়তি এই সময় দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, পোশাক খাতের জন্য সময়েপযোগী সিদ্ধান্ত নেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। তবে বিশেষ করে মহিউদ্দিন ভাইয়ের (বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন) আপ্রাণ প্রচেষ্টায় এই উদ্যোগটা সফল হয়েছে। সেজন্য তাকে ধন্যবাদ।

বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো অর্থমন্ত্রণালয়ের ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, রপ্তানি বাণিজ্যের ওপর করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলার লক্ষ্যে রপ্তানিমুখী এবং সচল শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন ভাতা দিতে আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় দেয়া ঋণ পরিশোধের সময়সীমা পুনঃনির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঋণ গ্রহিতা শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ১ মার্চ ২০২১ সাল থেকে আরও ৬ মাস গ্রেস পিরিয়ড দেয়া যেতে পারে।

মোট ১২ মাস গ্রেস পিরিয়ড ছাড়া ১৮টি মাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধের শর্ত বহাল থাকবে। এই ঋণের অন্যান্য শর্তও অপরিবর্তিত থাকবে।

এসব বিষয় যুক্ত করে বিদ্যমান নীতিমালা সংশোধনের ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করা হয়েছে ওই চিঠিতে।

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর রপ্তানিতে ধস নেমে আসে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় পোশাক খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের ৬ মাসের (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য স্বল্প সুদে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ দেয় সরকার।

গত জানুয়ারি মাস থেকে ওই ঋণ পরিশোধে ২৪ মাসের কিস্তি শুরু হওয়ার কথা ছিল। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রজ্ঞাপনে জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ঋণ পরিশোধ শুরু করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এরপর থেকে পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা এই ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন।

এই সময়সীমা বাড়ানোর জন্য গত জানুয়ারি মাসে বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হকও একটি খোলা চিঠি লিখেছিলেন।