চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘পাঁচ এ ৫’ চ্যানেল আই অনলাইন

‘পাঁচ এ ৫’ শ্লোগানে কর্মমূখর আরেকটি বছরে পা রেখেছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গণমাধ্যম চ্যানেল আই অনলাইন। নানা কর্মসূচিতে শনিবার রাজধানীর তেজগাঁতে চ্যানেল আই ভবনে পঞ্চম বর্ষে পদার্পণের দিনটি উদযাপিত হয়েছে।

চ্যানেল আই অনলাইন ও চ্যানেল আইয়ের বার্তা বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ এবং চ্যানেল আই অনলাইন সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকলে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বার্তা প্রেরণ করেছেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চ্যানেল আইয়ের বার্তা সম্পাদক মীর মাসরুরজামান।

বিজ্ঞাপন

দেশের পত্রিকা, রেডিও এবং টিভি সাংবাদিকতার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির নির্ভর যে অনলাইন মিডিয়া বিকশিত হয়েছে, তা জনকল্যাণমূলক অবদান রাখছে বলে অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচনায় মন্তব্য করেন লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ।

আবুল মকসুদ বলেন, আড়াইশ বছরের বেশি সময় ধরে পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে আমাদের এই অঞ্চলে। তারপর আসলো রেডিও। আমরা রেডিও শোনার জন্য সাগ্রহে থাকতাম। ষাটের দশকে প্রথম টেলিভিশন আসল। বর্তমানে টেলিভিশনের অগ্রযাত্রায় চ্যালেঞ্জ হিসেবে এসেছে অনলাইন গণমাধ্যম। এই গণমাধ্যম অন্যান্য গণমাধ্যমের পথে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে অনলাইন গণমাধ্যম।

তিনি আরও বলেন, জনমানুষের জন্য অনলাইন গণমাধ্যম প্রশাসন, রাষ্ট্র ও শাসকগোষ্ঠী সহ নানা দিকের কাছে জবাবদিহিতামূলক পরিবেশ তৈরি করেছে। জনমানুষের কী প্রয়োজন তা সরকারের কাছে তুলে ধরছে। তবে সব অনলাইন গণমাধ্যম এক প্রকার নয়। অনেক সময় কিছু গণমাধ্যম বিভ্রান্তি ছড়ায়। যা অনেক সময় সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। এর পরও অনলাইন গণমাধ্যমের ওপর গণমানুষের নির্ভরতা বাড়ছে। এই মাধ্যমও অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীর সহিংসতার বিরুদ্ধে, শিশু নিযাতনের বিরুদ্ধে এবং দেশের যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলছে।

আবুল মকসুদ বলেন, চ্যানেল আই অনলাইনের এমন একটি আয়োজনে আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ জানাই। আপনারা অভিনন্দনযোগ্য, গঠনমূলক, সমাজকল্যাণমূলক অবদান রাখছেন। অনলাইন গণমাধ্যম আরো বেশি গণমানুষের পাশে দাঁড়াবে সেই প্রত্যাশা করছি।

চ্যানেল আইয়ের পরিচালক, বার্তা প্রধান ও অনলাইনের প্রকাশক শাইখ সিরাজ বলেন, অন্যান্য গণমাধ্যম কর্মীদের তুলনায় অনলাইনে সাংবাদিককের অনেক বেশি দায়িত্বশীল হতে হয়। অনলাইন একটি প্রচণ্ড রকমের প্রতিযোগিতার গণমাধ্যম। যাচাই-বাছাই ছাড়া কে কতো আগে সংবাদ দেবে, সে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে অনেক ভুল হয়ে যায়। যা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরও বলেন, মানুষ এখন অনেক ব্যস্ত। অনেক ছুটোছুটি করে। এতো ব্যস্ততার মাঝে মানুষ অনলাইনমুখী হয়। দ্রুত সংবাদ চায়। অবস্থায় অনলাইন গণমাধ্যমকর্মীদের ওয়ানম্যান অপারেশন্স করতে হয়। নিউজম্যান হতে হয়। নিউজম্যান সে, যে নিজে ছবি তুলছে, ভিডিও করছে, এডিট করছে, স্ক্রিপ্ট তৈরি করছে, নিউজ পাঠ করছে। এটি প্রযুক্তির ফলে হয়েছে। প্রযুক্তি তাকে অনেক কিছু সহজ করে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দেশের এই গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আরো বলেন, সময়ের প্রয়োজনে আগামীতে চ্যানেল আই নিউজ ও অনলাইন একসঙ্গে যুক্ত হবে। কেউ বলুক বা না বলুক তা হয়ে যাবে। একই সাংবাদিক একই সাথে অনেককিছু করবে।

চ্যানেল আই অনলাইনের সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান অনলাইন পরিবারের সবাইকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বলা হচ্ছে দেশের মিডিয়া একটা সঙ্কটকাল পার করছে। সত্যিই তাই। এর এক কারণ দিনকে দিন ডিজিটালনির্ভর হচ্ছে পাঠক/দর্শক। অন্য একটি কারণ কি এরকম যে, বর্তমান গণমাধ্যমের উপর গণমানুষের এক ধরনের আস্থার সংকট তেরি হয়েছে? আমাদের সেই আত্মঅনুসন্ধান করতে হবে।

অনলাইন মাধ্যমের বিভিন্ন অগ্রগতি ও এইখাতের বাণিজ্যিক বিভিন্ন তথ্য জানিয়ে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানান জাহিদ নেওয়াজ খান।

গত বছর চ্যানেল আই অনলাইনের ফেসবুক পেজে লাইক সংখ্যা ছিল ২১ লাখ, এই বছর হয়েছে ৩৩ লাখ। গত সাত দিনের ফেসবুক অ্যাঙ্গেজমেন্টে দেশের শীর্ষ স্থানীয় বিভিন্ন অনলাইনের মধ্যে চ্যানেল আই অনলাইন দ্বিতীয় স্থানে ছিল। চ্যানেল আই অনলাইন নিউজের ইউটিউবে ফলোয়ার এক বছর আগে ছিল ৪৭ হাজার, বর্তমানে তা সাড়ে ৫ লাখ। গত বছরের তুলনায় এই বছর ইউনিক পাঠক বেড়েছে ২৪%। ফেসবুকভিউ বেড়েছে ৭৪% বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

পঞ্চমবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে চ্যানেল আই অনলাইন তার ‘সেরা কর্মী ২০১৮’ নির্বাচিত করেছে ৭ সংবাদকর্মীকে। সেরাকর্মী হিসেবে শর্মিলা সিনড্রেলা ৫ম স্থান, নুসরাত শারমিন ও রেজাউল করিম যৌথভাবে ৪র্থ স্থান, সাজ্জাদ খান ৩য় স্থান, আরেফিন তানজীব ২য় স্থান এবং যৌথভাবে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন তানজীমা এলহাম বৃষ্টি ও মেহেরাব হোসেন রবিন।‘পাঁচ এ ৫’ চ্যানেল আই অনলাইন

২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে চ্যানেল আই অনলাইন। পঞ্চম বর্ষে পদার্পণকে দেশের শীর্ষ এ অনলাইন মাধ্যমটি উদযাপন করছে ‘পাঁচ-এ ৫’ স্লোগানে। এর মাধ্যমে একদিকে এর সাফল্য যেমন প্রকাশিত, অন্যদিকে ছিল নীতি-নিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রতি অঙ্গীকার। 

বিশেষ এদিনে চ্যানেল আই এবং চ্যানেল আই অনলাইনের দর্শক, পাঠক, শুভানুধ্যায়ী, বিজ্ঞাপনদাতা ও ক্যাবল অপারেটরসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

আরও দেখুন ভিডিও রিপোর্টে:

ছবি: সাকিব উল ইসলাম ও জাকির সবুজ

Bellow Post-Green View