চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নোয়াখালীর রাজনৈতিক চিত্র ও কিছু ভাবনা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমান সময়ে দ্বিপক্ষীয় বা বহুদলীয় রাজনীতি তেমনভাবে নেই। আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় ধরে বলতে গেলে এককভাবেই দেশের শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করছে। আর সেক্ষেত্রে সংসদে বিরোধী দলের সরব উপস্থিত নেই বললে চলে।

দেশের মাঠের রাজনীতিতে বিএনপির শক্তিশালী অবস্থান এখন কেবল অতীত স্বপ্ন। তাদের রাজনীতিতে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য যে নেতৃত্ব ও দলীয় শক্তি থাকার প্রয়োজন তা অনেকটাই সময় সাপেক্ষ বিষয় এখন। মোটকথায় দেশের রাজনীতি সম্পর্কে মানুষের চিন্তাতে সরকারী দল আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোন দল নেই। এ অবস্থায় দেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কোন্দল সবার দৃষ্টি আর্কষণ করে। একই সাথে দলের ভেতরের অর্ন্তদ্বন্দ্ব মানুষের কাছে সমালোচিত হবে এটাই স্বাভাবিক।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন থাকার ফলে আওয়ামী লীগের একছত্র আধিপত্য রাজনৈতিক পরিবেশে ভারসাম্য বজায় রাখতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে তা স্থানীয় নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতীয়মান। সাম্প্রতিক সময়ে নোয়াখালীর বসুরহাটের স্থানীয় নির্বাচনে মির্জা কাদের নিজ দলের সমালোচনা করে রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। একই সাথে নোয়াখালীর আওয়ামী লীগের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে নানা ধরনের সংঘাতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এমন ঘটনা আওয়ামী লীগকে কোন দিকে ধাবিত করছে তা ভেবে দেখতে হবে দলের জাতীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের।

নোয়াখালীর রাজনীতির মত একই অবস্থা কম বেশি সারাদেশে বহমান। দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে না। ক্ষমতার কাছাকাছি যারা রয়েছে তাদের অর্থবৈভব প্রতিপত্তিই তাদেরকে অতিমাত্রায় আওয়ামী লীগার বানিয়ে দিয়েছে। কেননা রাজনৈতিক ভাবনা চিন্তার চেয়ে অর্থ দিয়েই দেশের যেকোন নির্বাচনে দলের ম্যান্ডেট পায় ব্যবসায়ীসহ অন্যান্য ব্যক্তিরা। আর এ ব্যক্তিরাই রাতারাতি নেতা হয়ে এলাকায় নিজেদের ক্ষমতা জাহির করে। ফায়দা নিতে ব্যতিব্যস্ত হয় সরকারি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। জনগণের সেবা হয় গৌণ। কারণ, তারা রাজনীতিতে আসে অতিথি পাখি হয়ে।

বিজ্ঞাপন

প্রচলিত আছে দলে হাইব্রিডদের অবস্থা হলো ‘বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বড়’- এ প্রবাদের মত। জাতীয় পর্যায়ের নেতা এমনকি দেশের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে বেশি ক্ষমতাধর তারা। দল বা বঙ্গবন্ধুর আর্দশ তাদের কাছে কেবল ভাষণের বুলি। অথচ দেশের সকল আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাসে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এ দলের আর্দশকে সত্যিকারভাবে যারা ধারণ করে, তাদের কাছে বর্তমান সময়ের আওয়ামী লীগ বড় অচেনা৷ সময় ও সুযোগের ব্যবহার করতে এখন আর্দশের বাইরে আওয়ামী লীগের সদস্য, নেতা বা কর্মীর সংখ্যা অগণিত। বলা চলে, সারা দেশটাই যেন আওয়ামী লীগ। আসলে কি তাই? এ প্রশ্নের উত্তরটা কী হতে পারে তা অতীত ও বর্তমানের রাজনীতির দিকে লক্ষ্য করলেই অনুধাবন করা যায়। তারচেয়েও বড় বিষয় আওয়ামী লীগের এত নেতাকর্মী সমর্থক থাকা সত্ত্বেও কেন স্থানীয় নির্বাচনে জনগণের সরব উপস্থিত নেই তার সদুত্তর কারও কাছে নেই। কারণ সাধারণ মানুষ রাজনীতি থেকে দূরে সরে গিয়েছে। তারা ভোটের মাধ্যমে জন প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে না বলে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে ভোট প্রদান থেকে। সরকারের উন্নয়নের কার্যক্রমগুলোকে মানুষের কাছে তুলে ধরার চেয়ে জনপ্রতিনিধিরা আখের গোছাতে বেশি ব্যস্ত।

অন্য একটা বিষয় হলো প্রশাসনের অতিমাত্রায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। প্রশাসনের হাতে যখন রাজনৈতিক কার্যক্রম চলে যায়,তখন দল তার স্বাভাবিক গতিশীলতা হারিয়ে ফেলবে এটাই স্বাভাবিক। তবে রাজনৈতিক ভাবে সরকার দলের আগামী দিনের কথা ভাবনার দায়িত্ব প্রশাসন পালন করবে না; এ সত্যটা দলকে ভুলে গেলে চলবে না। আর সে কারনে শুধু নোয়াখালী নয় সারা দেশের আওয়ামী লীগকে নিজ দায়িত্বে শক্ত হাতে লাগাম ধর‍তে হবে দলকে সুসংগঠিত রাখতে। তা না হলে সরকারের সকল ভালো কাজ ম্লান হয়ে যাবে দলের ভেতরের ব্যক্তি বিরোধের জন্য।

মির্জা কাদের বা একরামুল চৌধুরী জনগণের স্বার্থে সংঘাতময় ঘটনা ঘটাচ্ছে না। বরং তারা ব্যক্তি স্বার্থে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে গিয়ে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আওয়ামী লীগ ও সরকার পরিচালিত হয় প্রধানমন্ত্রী ও দলনেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে। সেখানে কোন একটি বিশেষ এলাকা কারো পক্ষে এককভাবে পরিচালনার সুযোগ যেমন নেই তেমনিভাবে এটা বলা বা প্রত্যাশা করা ভুল। শেখ হাসিনা অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতে নারাজ তা জানা সত্ত্বেও ব্যক্তি ক্ষমতা জাহির করা জনগনের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

আওয়ামী লীগ আর শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হবার পথে হাঁটছে। সেই চলার পথে বিশেষভাবে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তা না হলে নিজেদের অর্ন্তদ্বন্দ্বের কারণে সামগ্রিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিএনপির রাজনৈতিক অধঃপতনের কারণগুলোকে কারোই ভুলে যাওয়া উচিত নয়। আওয়ামী লীগের সকল অর্জনের জন্য দলনেত্রী শেখ হাসিনার ত্যাগ ও তিতীক্ষার চিত্রটা ধারণা করতে হবে সকলকে। তা না হলে নোয়াখালীর প্রতিচ্ছবি ক্রমশ বাড়বে বাংলাদেশের রাজনীতিতে, এটাই সর্বসত্য।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)