চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নেত্রীর আদেশ শিরোধার্য: রাব্বানী

ছাত্রলীগের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তকে শিরোধার্য বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

গত ৭ সেপ্টেম্বর গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এক বৈঠকে ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি নিয়ে আলোচনার পর ‘ছাত্রলীগের কমিটি ভাঙার নির্দেশ’ শিরোনামে যে সংবাদ প্রকাশ পায়, সেই বিষয়টিকে সেসময় সম্পূর্ণ গুজব এবং পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমন মন্তব্য করলেন গোলাম রাব্বানী।

বিজ্ঞাপন

শনিবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির একটি বৈঠক আছে; সেখানে ছাত্রলীগ ইস্যুুতে প্রধানমন্ত্রী একটা সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। এ বিষয়ে গোলাম রাব্বানী চ্যানেল আই অনলাইন-কে বলেন: নেত্রীর যে কোনো সিদ্ধান্ত শিরোধার্য। আর আপা যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে বলবো যে নেত্রীর মনে কষ্ট দিয়ে আমরা ছাত্রলীগ করতে চাই না।

তিনি বলেন: নেত্রী যদি সুযোগ দেন তাহলে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবো। তিনি যদি মনে করেন এই কমিটি ভেঙে দিলে ভালো হবে, তাহলে সেটা শিরোধার্য। আপা বলুক, যেভাবে বলবেন, যা বলবেন সেটাই ছাত্রলীগের জন্য শেষ কথা।

বিজ্ঞাপন

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন কথা হচ্ছে, এ বিষয়গুলো আপনি কীভাবে দেখছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে গোলাম রাব্বানী বলেন: যে বিষয়গুলো আসছে, তা অতিরঞ্জিত এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। এখানে পরিকল্পনা করে আমাদের মমতাময়ী নেত্রীর কান ভারী করা হয়েছে।

তিনি বলেন: এই কমিটি আপা নিজে দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের একটা বলয় ছিলো; তারা কখনোই এটা চাইত না। পরবর্তীতে দায়িত্ব নেয়ার পর তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাইনি। অনেক বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে এক ধরনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আমাদের পথ চলতে হয়েছে। সেক্ষেত্রে আমরা কোনো ব্যাখ্যায় যাবো না। আমরা আমাদের কাছে পরিষ্কার যে, নৈতিক স্খলনজনিত কোনো কাজ আমরা করিনি; যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে। তবুও এত বড় সংগঠন চালাতে গিয়ে কিছু না কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়। তারপরও যদি সুযোগ পাই, শুধরে নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে নেত্রী যে আস্থা রেখেছেন তার মূল্য দেয়ার চেষ্টা করবো।

এসব কর্মকাণ্ড যারা করছে তারা কি পরিকল্পিতভাবেই করছে? এমন প্রশ্নের জবাবে রাব্বানী বলেন: অবশ্যই। মিডিয়ায় বা পত্রপত্রিকায় যেভাবে আসছে, আমি মনে করি এটার অবশ্যই ভিন্ন মোটিভ আছে। আর যে অভিযোগগুলোর কথা আসছে আমরা সেই অভিযোগগুলোর প্রত্যেকটির সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছি। আর সেই অভিযোগগুলোর কোনোটারই প্রত্যক্ষ প্রমাণ তারা হাজির করতে পারেনি যে আমরা এই অপরাধগুলো করেছি।

গত ৭ সেপ্টেম্বর গণভবনে শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বৈঠকের একাধিক সূত্র জানায়, রংপুর-৩ এর উপ-নির্বাচন এবং কয়েকটি উপজেলার প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে আয়োজিত এ বৈঠকে ছাত্রলীগের প্রসঙ্গ উঠে আসে। ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে তাদের সময়নিষ্ঠা ও বেশ কিছু ইউনিটের কমিটি গঠন নিয়ে ব্যর্থতা ও অনিয়মের বিষয়টি আলোচনায় আসে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যের কথা উল্লেখ করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তখন বেশ কয়েকজন নেতাও বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেন।

Bellow Post-Green View