চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নির্বাচনকালে কেন বারবার হামলার শিকার সাংবাদিক?

দেশজুড়ে কয়েকদফায় চলছে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনসহ দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে সহিংসতামুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে বাস্তবে দেখা গেছে উৎকন্ঠা, সহিংসতা, হানাহানি ও হতাহতের মাত্রা নতুনভাবে যোগ হয়েছে। আর এই নির্বাচনেকালে বিভিন্ন পক্ষ-বিপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও হামলার পাশাপাশি আক্রান্ত হচ্ছেন পেশাগত দায়িত্বপালনকারী সাংবাদিক ও তাদের বহনকারী যানবাহন।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার জরিপ সূত্রে গণমাধ্যমে প্রকাশ, জানুয়ারি থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সহিংসতার ১৬৭টি ঘটনায় কমপক্ষে ঘটনায় কমবেশি ৯১ জন নিহত হয়েছেন। ১০০ জন গুলিবিদ্ধসহ গুরুতর আহত হয়েছেন এক হাজার ৮১৫ জন। আর একইসময়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংবাদিক আহত ও তাদের মোটরবাইক নয়তো গাড়ি আক্রান্ত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনী সাংবাদিকতার তিনটি পর্যায়; নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচনের পরে বিভিন্ন পক্ষের দ্বারা সাংবাদিকদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি। এসব হামলা আসলে নির্বাচনী অপকর্মকে আড়াল করা নয়তো ভয়ের সংস্কৃতি কায়েম করে সত্য প্রকাশে বাধা দেবার শামিল বলে আমরা মনে করি।

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) এর তথ্যমতে, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ২০২১ সালের চিত্র ছিল উদ্বেগজনক। এই বছর একজন নিহতসহ ১৩৬ জন সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৭৮ জন। নিপীড়ন, হয়রানি, হুমকি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অন্তত ৫৭ জন। এটি সাংবাদিকদের সারাবছরে সুরক্ষা ও কাজের পরিবেশের একটি চিত্র তুলে ধরছে, যার প্রতিফলন বিভিন্ন নির্বাচনকালেও প্রকট হয়।

নির্বাচন চলাকালে ভোটারসহ বিভিন্ন দায়িত্বরত পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনসহ স্থানীয় প্রশাসনের। তারা বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে শক্ত হাতে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থ হচ্ছে বলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে। সংবিধান ও আইনের বলে তাদের যে ক্ষমতা, তা নির্বাচনের সময়ে সাধারণ জনগণসহ কর্মরত সাংবাদিকদের সুরক্ষায় প্রয়োগ করা জরুরি।

বিজ্ঞাপন