চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নায়িকাদের বইমেলা

সামনে মানুষ। পেছনে মানুষ। ডানে-বামে মানুষ। চারদিকে হাজারও মানুষ। পায়ে পায়ে মানুষের এগিয়ে চলা। সবারই গন্তব্য একটাই; প্রাণের মেলা, অমর একুশে গ্রন্থমেলা। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাস এলেই শাহবাগ থেকে টিএসসি এবং কার্জন হল ও দোয়েল চত্বর ঘেঁষা বাংলা একাডেমি চত্বরে যেতে এমন দৃশ্যই ধরা দেয়। কবি, লেখক ও সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শোবিজের তারকারাও প্রতিবছর ঢুঁ মারেন বইমেলাতে। আসেন গ্ল্যামার দিয়ে শোবিজ মাতানো নাটক-চলচ্চিত্রের নায়িকারাও। তাদের মেলায় যাওয়ার গল্প এবং প্রিয় লেখকদের বই নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের এই বিশেষ আয়োজন।

মাহি: বছর কয়েক আগেও বই মেলায় যেতাম। বন্ধু-বান্ধব সঙ্গে নিয়ে টোটো করে সমস্ত মেলা চত্বর ঘুরে বেড়াতাম, ফুচকা খেতাম। পছন্দের লেখকদের বই কিনতাম। আমি হুমায়ূন আহমেদ স্যারের বই বেশি কিনতাম। তাছাড়া ভৌতিক কাহিনী নির্ভর বই পড়তেও ভালো লাগতো। শুটিং নিয়ে ব্যস্ততা থাকায় আজকাল আর মেলায় যাওয়া হয়না। তবে এবার ইচ্ছে আছে মাসের শেষে যেকোনো একদিন মেলায় যাবো। মেলায় হুমায়ূন স্যারের নতুন বই তো আর পাবো না, সেজন্য পড়া হয়নি তেমন কোনো বই খুঁজে বের করবো। আর ভৌতিক কিছু বইও সংগ্রহ করার কথা ভাবছি।

নওশাবা: ঢাবির চারুকলার ছাত্রী থাকাকালীন বইমেলাতেই সময় কেটে যেত ফেব্রুয়ারি মাসে। ঘুরতাম, আড্ডা দিতাম- আরও কতো কি! এখন আর সেভাবে মেলার সঙ্গে মিশে থাকতে পারি না। তবে প্রতিবছরই মেলাই যাই। আমার পছন্দের লেখক লেবাননের রাইটার কাহলিল জিবরান। তার লেখা অনেক বই আমি পড়েছি। এবারও ইচ্ছে আছে তার লেখা বাংলা অনুবাদের কিছু নতুন বই সংগ্রহে রাখবো। তাছাড়া শিশুতোষ বইগুলো আমাকে বেশি টানে। কারণ বাচ্চাদের বই পড়লে আমার নিজের কাছে একটা অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে। এছাড়া আমার মেয়ের বয়স সবে মাত্র চার বছর। সে স্কুলে ভর্তি হয়েছে। তার জন্যেও কিছু বই কিনবো।

Advertisement

জ্যোতিকা জ্যোতি: আমি তো সবখানকার বইমেলায়ই যাই। এ বছর এখনো আমাদের ঢাকার বইমেলায় যাওয়ার সময় পাইনি। তবে কলকাতা বইমেলায় গিয়েছি। শিগগির ঢাকার বই মেলায় যাব। প্রতিবছর যাই, প্রচুর বইও কিনি। আমার অনেক সাহিত্যিক বন্ধু আছে। বই কিনে তাদের উৎসাহিত করতে পছন্দ করি। আর এবার আমার এলাকায় কয়েকটি লাইব্রেরীতে কিছু বই দিব। সেগুলো বইমেলা থেকেই কিনবো। তাছাড়া বই পড়া, কেনা এবং নতুন বই ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখার মধ্যে এক অদ্ভুত আনন্দ কাজ করে। এমনিতে সারাবছর শুধু প্রয়োজনীয় বই বেশী কেনা হয়, কিন্তু বইমেলায় ঘুরতে ঘুরতে, দেখতে দেখতে নানানরকম বই চোখে পড়ে এবং কেনা হয়। ভালো লাগে।

মৌসুমি হামিদ: আমি তিনবার বইমেলায় গিয়েছি। হুমায়ূন আহমেদ স্যার বেঁচে ছিলেন তখন দুবার, আর স্যার মারা যাওয়ার পর একবার। স্যার বেঁচে থাকা অবস্থায় যখন গিয়েছিলাম তখন অনেক বই কিনেছিলাম। শুধু হুমায়ূন স্যার নয়, জাফর ইকবাল স্যার, আনিসুল হকের বইও কিনেছিলাম। আর আমার সায়েন্স ফিকশন বই অনেক পছন্দ। কিন্তু হুমায়ূন চলে যাওয়ার পর যখন গিয়েছিলাম কিছুই ভালো লাগেনি। সেজন্য ওইবার আর বই কেনা হয়নি। আমার বাসায় সংগ্রহে যা বই আছে, ম্যাক্সিমাম হুমায়ূন স্যারের বই।

এবারও বইমেলায় যাবো ভাবনার জন্য। সে আমার বান্ধবী, ওর লেখা বই প্রকাশ হয়েছে ওটা কিনবো। তাছাড়া শ্রদ্ধেয় অনিমেষ আইচ দাদার লেখা বইও এসেছে। তাদের দুজনের বই কিনবো। আমাদের নিজেদের মানুষরা যখন বই প্রকাশ করেন, অনেক ভালো লাগে। আমি কিংবা আমার মত যারা আছেন তারা যদি বই কেনেন তাহলে শোবিজের যারা বই লিখেছেন তারা আরো ভালো উৎসাহ পেয়ে আগামীতে লিখতে পারবেন।

শবনম ফারিয়া: বাবার সরকারি চাকরির কারণে আমার ছোটবেলা কেটেছে ঢাকার বাইরে। তবে প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাস আসলেই আমরা সবাই মিলে ঢাকায় চলে আসতাম শুধুমাত্র মেলার জন্য। আমি ছিলাম হুমায়ূন আহমেদের অন্ধ ভক্ত। স্যারের নতুন যে বইগুলো মেলায় আসতো প্রায় সব বই আমি কিনে নিতাম। তারপর ’১২ সালে হুমায়ুন স্যার মারা যাওয়ার পর থেকে আর মেলায় যাওয়া হয়না। মেলায় গেলে হুমায়ূন আহমেদের নতুন বই পাবনা- এই বিষয়টি কষ্ট দেয়। তাই যাই না। বাবা যান। তিনিই মেলা থেকে জাফর ইকবাল, বুদ্ধদেব, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, ইমদাদুল হক মিলনসহ আরো অনেক লেখকের বই নিয়ে আসেন। আমি বাসায় বসে সেগুলোই পড়ি। গত বছর আমার বাবা মারা গেছেন। তাই এ বছর মেলা থেকে আমার জন্য বই কিনে আনার কেউ নেই।