চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নাসিরনগরে হামলা: মন্ত্রী ছায়েদুল হকের পক্ষে মিছিল, প্রতিবাদ সভা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মৎস্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মিছিল ও প্রতিবাদ সভা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে ‘সর্বস্তরের জনগণ’ লেখা ব্যানারসহ এ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি নাসিরনগরে হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা-ভাংচুরের ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে মন্ত্রী ছায়েদুল হকের সম্পৃক্ততার কথা অাসে। পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়কে কটূক্তির অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় এ সাংসদ বলেন, তার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উসকানির অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে তিনি মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেবেন।

প্রতিবাদ সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা: রাফি উদ্দিন আহমেদ এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান এটিএম মনিরুজ্জামান সরকার, পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি কাজল জ্যোতি দত্তসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বৃন্দ সহ সভায় সকাল থেকে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন থেকে বিপুল সংখ্যক লোক মিছিল নিয়ে সমাবেশে অংশ নেয়।

বিজ্ঞাপন

সভায় ব্যক্তারা বলেন, ঢাকায় একটি কুচক্রি মহল মন্ত্রী ছায়েদুল হকের বিরুদ্ধে মিথ্যা, অপপ্রচার ও কুৎসা রটিয়ে তার ভাব মুর্তি ক্ষুন্ন করছে। তারা এঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

২৮ অক্টোবর নাসিরনগরের হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের রসরাজ দাস (২৭) নামে এক যুবকের ফেসবুকে পোস্টে ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তার ফেসবুক অাইডি নকল করে অন্য কেউ এই কাজ করেছে।

ওই ঘটনার একদিন পর এর প্রতিবাদে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত ও খাঁটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত নামের দুটি সংগঠন সমাবেশ করে। সেই সমাবেশ চলাকালে সদরের হিন্দুপাড়াগুলোতে ব্যাপক হামলা ও লুটপাট চালানো হয়। হামলাকারীরা বেশ কয়েকটি মন্দিরে প্রতীমাও ভাঙচুর করে।

এরপর ৪ নভেম্বর রাতে একইভাবে ৫টি ঘর ও ১টি মন্দিরে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে।

এসব ঘটনায় একটি মন্দিরের পুরোহিত বাদী হয়ে আড়াইহাজার জনকে আসামী করে দুটি মামলা করেন। পাশাপাশি পুলিশ বাদী হয়ে তিনশ ব্যক্তিকে আসামী করে আরো দুটি মামলা দায়ের করে।

এ ছাড়া ঘটনাতদন্তে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন থেকে পৃথক দুটি ও পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।

Bellow Post-Green View