চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নারী নির্মাতাদের ক্ষেত্রে বৈষম্য কি এবারও থাকবে অস্কারে?

অস্কার নিয়ে জল্পনার জন্য অনেক সময় বাকি। যদিও বেশ কয়েকটি ছবির নাম দর্শকদের মনে গেঁথে গেছে ইতোমধ্যেই। তার মাঝে একটি ‘দ্য পাওয়ার অব দ্য ডগ’। ছবিটি পরিচালনা করেছেন জেইন ক্যাম্পিয়ন।

২৮ বছর আগে ‘দ্য পিয়ানো’ ছবির জন্য অস্কারে মনোনয়ন পেয়েছিলেন ক্যাম্পিয়ন। প্রথম নারী নির্মাতা হিসেবে এই ছবির জন্যই পাম দ’র জিতেছিলেন তিনি। অস্কারের সেরা নির্মাতা ক্যাটাগরিতে তিনিই প্রথম নারী যিনি দুইবার মনোনয়ন পেয়েছেন।

অস্কারের ৯৩ বছরের ইতিহাসে মাত্র সাতজন নারী সেরা নির্মাতা ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পেয়েছেন, জিতেছেন মাত্র দুজন। লিনা ওয়ের্টমুলার প্রথম নারী নির্মাতা যিনি এই ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পেয়েছেন।

ক্লোয়ি ঝাওয়ের ‘নো ম্যাডল্যান্ড’ ছবির একটি দৃশ্য

১৯৭৭ সালের ‘সেভেন বিউটিজ’ ছবির জন্য মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি। এর ১৬ বছর পর মনোনয়ন পান ক্যাম্পিয়ন। ২০০৪ সালে সোফিয়া কপোলা মনোনয়ন পেয়েছেন ‘লস্ট ইন ট্রান্সলেশন’ ছবির জন্য। এরপর ২০১০ সালে ‘দ্য হার্ট লকার’ ছবির জন্য ক্যাথরিন বিগেলো মনোনয়ন পান, পুরস্কার জিতেও নেন। ২০১৭ সালে গ্রেটা গেরউইগ ‘লেডি বার্ড’ ছবির জন্য মনোনয়ন পান। ২০২০ সালে ক্লোয়ি ঝাও এবং এমেরাল ফেনেল মনোনয়ন পান ‘নোম্যাডল্যান্ড’ এবং ‘প্রমিজিং ইয়ং ওম্যান’ ছবির জন্য। ক্লোয়ি ঝাও পুরস্কার জিতে নেন।

বিজ্ঞাপন

নারীদেরকে সেরা নির্মাতা ক্যাটাগরিতে কম দেখা গেলেও, সেরা ছবির তালিকায় কিন্তু তাদের তৈরি ছবির অভাব নেই। যেমন রান্ডা হাইনেস-এর ‘চিলড্রেন অব অ্যা লেসার গড’ ছবিটি ১৯৮৭ সালের অস্কারে সেরা ছবি সহ পাঁচটি বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছিল, সেরা নির্মাতা ছাড়া। একই ভাবে বারব্রা স্ট্রেইস্যান্ডের ‘দ্য প্রিন্সেস অব টাইডস’ ছবিটি ১৯৯২ সালের অস্কারে সেরা ছবি সহ সাতটি মনোনয়ন পেয়েছে, সেরা নির্মাতা ক্যাটাগরিতে পায়নি। এরকম আরও অনেক উদাহরণ আছে।

এক অ্যাওয়ার্ড স্ট্যাটেজিস্ট বলেছেন, ‘নারীরা মনোনয়ন পান না, তাদের ছবি পায়। বহু নারীর ছবি সেরা ছবির ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পেয়েছে, কিন্তু সেরা নির্মাতার ক্যাটাগরিতে দেয়া হয়নি। এই অবস্থার তেমন কোনো উন্নতিও দেখছি না। এবছর নারী নির্মাতাদের তৈরি দুই-তিনটি ছবি সেরা ছবির মনোনয়ন পাবে, তাদের হয়তো একজন সেরা নির্মাতা ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পেতে পারেন।’

অভিনেতা, নির্মাতা, চিত্রনাট্যকার, পোশাক ডিজাইনার, এডিটর সহও ১৭টি বিভাগে পুরস্কার দেয় একাডেমি। ২০০৯ সাল থেকে সেরা ছবির ক্যাটাগরিতে ৫টির বেশি ছবিকে মনোনয়ন দেয়ার নিয়ম চালু হয়। তবে ৫ জনের বেশি নির্মাতাকে মনোনয়ন দেয়া যায় না এখনও। সেরা ছবির সাথে সেরা নির্মাতার ক্যাটাগরির এই বৈষম্য চলছেই।

এবছর সেরা নির্মাতার দৌড়ের প্রথম দিকেই আছেন ক্যাম্পিয়ন। এছাড়াও আছেন কেনেথ ব্রানাঘ (বেলফাস্ট), ডেনিস ভিলেনিউভ (ডুন) এবং আসগর ফরহাদি (অ্যা হিরো)। ‘টাইটান’ ছবির জন্য আলোচনায় আছেন জুলিয়া ডুকুরনো। এবছর পাম দ’র জিতেছে এই ছবি। ম্যাগি গাইলেনহাল (দ্য লস্ট ডটার), রেবেকা হল (পাসিং), সিয়ান হেডের (কোডা), এমা সেলিগম্যান (শিভা বেবি) এবং লাইসল টমিও (রেসপেক্ট) প্রশংসা পাচ্ছেন তাদের নির্মাণ প্রতিভার জন্য।

ক্লোয়ি ঝাও গত বছর সেরা নির্মাতার পুরস্কার জিতে নেয়ায় নারী নির্মাতা আশাবাদী এবছরেও। এবার দেখার পালা এবছরও সেরা নির্মাতার পুরস্কার কোনো নারী নির্মাতার হাতে উঠে কিনা!

বিজ্ঞাপন