চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নাইটহুড পেলেন বয়কট-স্ট্রস

নাইটহুড উপাধিতে ভূষিত হলেন ইংল্যান্ডের সাবেক দুই অধিনায়ক জিওফ্রে বয়কট ও অ্যান্ডু স্ট্রস। ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে’র পদত্যাগকালীন সম্মাননা তালিকায় মাত্র দু’জন ক্রিকেটেরারেই নাম রয়েছে। এই তালিকায় অধিকাংশই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। মে বরাবরই ক্রিকেটের ভক্ত, বিশেষ করে বয়কটের গুণগ্রাহী তিনি।

ব্রিটেনের প্রত্যেক বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীই বিদায়কালীন সম্মাননা তালিকা প্রদান করতে পারেন। তারপর ক্যাবিনেট ক্নেট থেকে তা অনুমোদন করা হয়। মে ৫৭ জনের তালিকা দিয়েছেন। তাতে আছেন বয়কট ও স্ট্রস। ক্রিকেটে অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য বয়কট ও স্ট্রসকে নাইটহুড দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

৭৮ বছরের বয়কট ১০৮টি টেস্ট খেলে ৮১১৪ রান করেছেন। তিনিই প্রথম ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার হিসাবে টেস্টে ৮০০০ রান পূরণ করেন। লাল বলের ক্রিকেটে ২২টি শতরান রয়েছে তার। ইংল্যান্ডের হয়ে ৩৬টি একদিনের ম্যাচে ১০৮২ রান করেন স্যার জিওফ্রি বয়কট। একটি শতরানও রয়েছে ইংল্যান্ড লেজেন্ডের। ১৯৬৪-১৯৮২ পর্যন্ত দেশের জার্সিতে খেলেছেন বয়কট। চারবার দলের অধিনায়কত্ব করেছেন। ক্রিকেট ছাড়ার পর ধারাভাষ্যকার হিসাবে নিজেকে অন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তবে বয়কটকে নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। ২০১৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার ভিভ রিচার্ডস, গ্যারি সোবার্স, কার্টলে আমব্রোসের নাইটহুড পাওয়া নিয়ে মজার ছলে বর্ণবৈষম্যমূলক মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। যার জন্য তাকে ক্ষমাও চাইতে হয়েছিল। ১৯৯৮ সালে সাবেক প্রেমিকাকে হেনস্থা করার অভিযোগে বয়কটের তিন মাসের সাসপেন্ডেড জেল হয়। যদিও বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

অন্যদিকে স্ট্রসও ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসে উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার অধিনায়কত্বের সময়ই ইংল্যান্ড দু’বার অ্যাশেজ জিতেছে। তার সৌজন্যে ইংল্যান্ডে টেস্টের একনম্বর দলও হয়। তার অধীনেই দীর্ঘ সময় পর ২০১০-১১ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজ জেতে ইংলিশরা।

৪২ বছরের স্ট্রস ১০০টি টেস্টে ৪০.৯১ গড়ে ২১টি সেঞ্চুরিসহ ৭০৩৭ রান করেছেন। ১২৭টি ওয়ানডে ম্যাচে ৬টি সেঞ্চুরিসহ ৪২০৫ করেছেন স্যার অ্যান্ড্রু স্ট্রস। ২০০৯ (ইংল্যান্ড) ও ২০১০-১১ (অস্ট্রেলিয়া) মৌসুমের অ্যাশেজ সাউথ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত স্ট্রসের নেতৃত্বেই জিতেছিল ইংল্যান্ড। লেজেন্ড মাইক গ্যাটিংয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এই নজির গড়ে দেখিয়েছিলেন স্যার স্ট্রস।

খেলা ছাড়ার তিন বছরের মধ্যে স্ট্রস ইংলিশ ক্রিকেটের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রশাসক হয়ে ওঠেন ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসাবে। গত জুলাইতে ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ জয়ের নেপথ্যের নায়ক ছিলেন তিনি। অদৃশ্য প্রশাসনিক স্থপতি ছিলেন বাঁহাতি সাবেক এই ওপেনার।