চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘নতুন কিছুর শুরুতে কেউই সেটা ভালোভাবে নেয় না’

মিডিয়ার সব জায়গাতেই একটু ঘুরে ঘুরে দেখেছি: ডিজে সনিকা

‘ডিস্ক জকি’কে সংক্ষেপে বলা হয় ডিজে। মিউজিকের নানা ফর্মের মধ্যে ‘ডিজি’ বিষয়টি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে বাংলাদেশে ‘ডিজে’র বিষয়টি খুব বেশি পুরনো না হলেও খুব অল্প দিনেই ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে। মিউজিকের এই ফর্মে কাজ করে এরইমধ্যে জনপ্রিয়তাও পেয়েছেন বেশ কয়েকজন তারকা মুখ। এরমধ্যে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রথম নারী ডিজে হিসেবে পরিচিত যিনি, তিনি হলেন ডিজে সনিকা।

গান, উপস্থাপনা, অভিনয় আর ডিজে। সব মাধ্যমেই সনিকার উপস্থিতি সরব! আর এই ডিজে শনিবার এসেছিলেন চ্যানেল আইয়ে। অংশ নিয়েছেন রাজু আলীমের প্রযোজনায় ‘ইগলু তারকা কথন’ অনুষ্ঠানে। দিলরুবা সাথীর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে নিজের সম্পর্কে বেশ খোলামেলা আলোচনাই করেন ডিজে সনিকা।

ডিজে হিসেবে পরিচিত থাকলেও মিডিয়ার সব শাখা প্রশাখায় তার বিচরণ, এমনটা জানিয়ে ডিজে সনিকা বলেন, প্রতিটা কাজই শখের বসে করা। বেসিক্যালি আমি তো ডিজে, মিউজিক এরিনা থেকে আমার মিডিয়াতে আসা। তো ডিজে করতে করতে একটা সময় ভাবলাম যে আমার ভক্তরা আমাকে আরো অন্যভাবেও দেখতে চায়। তখন চিন্তা করলাম একটু হোস্ট করে দেখি। তখন দেখলাম যে সেটাও আমার ফ্যানরা একসেপ্ট করল। তারপর ভাবলাম একটু গান গেয়ে দেখি, দেখলাম সেটাও তারা একসেপ্ট করে নিল। এরপর ভাবলাম এর থেকে বড় কোন স্টেপ নেওয়া যায় কিনা, তো বড় স্টেপ বলতে ভাবলাম অভিনয় করলে কেমন হয়! তো কিছু নাটকও করলাম। সো ফাইনালি এভাবেই মিডিয়া সব জায়গাগুলোই একটু ঘুরে ঘুরে দেখা হল।

বিজ্ঞাপন

মিডিয়ার সকল শাখা প্রশাখায় বিচরণ। কিন্তু এরমধ্যে সবচেয়ে উপভোগ্য কোনটা? এমন প্রশ্নে সনিকা বলেন, আমি প্রত্যেকটি জায়গাতেই নিজেকে ডিজে সনিকা হিসেবে প্রেজেন্ট করি। সেটা হোস্ট হিসেবে হলেও ডিজে সনিকা ইজ হোস্টিং, আবার অ্যাকটিংয়ে হলেও ডিজে সনিকা ইজ অ্যাকটিং! এরকম বিষয়গুলো আরকি।

ডিজে হওয়ার ভূতটা মাথায় চেপে বসেছিলো কীভাবে? এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করতেই সনিকার সাফ সাফ উত্তর, মিউজিকের প্রতি ভালবাসা তো আসলে ছোটকাল থেকেই ছিল। সেইসাথে ছোটকালে গান শিখেছি। মা গান করতো, মায়ের কাছ থেকে প্রথম হারমোনিয়ামে গান শেখা। কিন্ত কখনো শিল্পী হবো সেটা ভাবিনি। তো মিউজিকের সাথে থাকতে থাকতে যখন একটা চান্স পেলাম বাংলাদেশে মেয়ে ডিজে হওয়ার মত তখন মূলত সেই চান্সটাকে পুরোপুরি ভাবে ভাগিয়ে নিলাম। কারণ, বাংলাদেশে তখন কোন মেয়ে ডিজে ছিল না, সো আই নিউ ইট। আমি ঠিক করে ফেলেছিলাম আমি এটাই করতে চাই।

বাংলাদেশের একজন প্রথম মেয়ে ‘ডিজে’ হিসেবে কাজ করতে যেয়ে যেমন ভালো একটা ইন্সপেরেশন আছে ঠিক তেমনি নানা চ্যালেঞ্জও ছিলো জানিয়ে ডিজে সনিকা বলেন, প্রত্যেকটা কাজের সেক্টরেই নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকেই। যখন নতুন নতুন কেউ কিছু করতে চায় সেটা কেউই ভালভাবে এক্সেপ্ট করতে পারে না। কিন্তু পরবর্তীতে ধীরে ধীরে সেটাই সবাই এক্সেপ্ট করে।

ছবি: ওবায়দুল হক তুহিন

বিজ্ঞাপন