চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘ধন্যবাদ তৌকীর আহমেদ, জয় হোক বাংলা চলচ্চিত্রের’

‘ফাগুন হাওয়ায়’ সকলের দেখা উচিত: জিনাত হাকিম

দেশজুড়ে ৫২টি প্রেক্ষাগৃহে চলছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত ভাষা আন্দোলন নিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য এই ছবি ‘ফাগুন হাওয়ায়’

Nagod
Bkash July

শুক্রবার দেশজুড়ে মুক্তি পেয়েছে তৌকীর আহমেদের পরিচালিত বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘ফাগুন হাওয়ায়’।  মুক্তির পর থেকেই প্রশংসায় ভাসছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত ভাষা আন্দোলন নিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য এই চলচ্চিত্রটি।

Reneta June

ছবিটি নিয়ে দর্শকরা যেমন নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন, তেমনি তারকারাও ছবিটি দেখে এসে প্রশংসা করছেন নির্মাতা তৌকীর আহমেদের। সম্প্রতি ‘ফাগুন হাওয়ায়’ দেখে নিজের অনুভূতির কথা জানিয়েছেন অভিনেত্রী জিনাত হাকিম। চ্যানেল আই অনলাইন পাঠকদের জন্য ‘ফাগুন হাওয়ায়’ নিয়ে জিনাত হাকিমের অনুভূতি হুবুহু তুলে ধরা হলো:

‘ফাগুন হাওয়ায়’ একটি চলচ্চিত্র শুধু নয়, ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অসাধারণ উপস্থাপনা। তৌকির আহমেদের পরিচালনা এর আগেও প্রমাণিত। তার পরিচালিত ৬ষ্ঠ চলচ্চিত্র ‘ফাগুন হাওয়ায়’। কঠিন প্রসঙ্গের সাবলীল পরিবেশনা এই ছবিটি। গল্পের শুরুটা দেখলেই কেউ মনোযোগ ফেরাতে পারবে না। শেষ না দেখে কেউ উঠবেও না। জটিল বিষয়ের সরল নিবেদন।

সংলাপ, চিত্রায়ন-দৃশ্যায়ন, ঘটনা বিবৃতি, বিধৃতি আর বিস্তার এর অপূর্ব সমন্বয়। শিল্পীদের দিয়ে দক্ষতার সাথে অভিনয় করিয়ে নেয়ার যে কাজ একজন পরিচালকের তাতে পরিচালক শতভাগ সফল।

যশপাল শর্মা, সিয়াম, তিশা- ছবির প্রাণ। কেন্দ্রীয় চরিত্র যদিও কিন্তু পাশাপাশি ছোট – বড় সবগুলো চরিত্র গুরুত্ব সহকারে উপস্থাপন বিশেষ মাত্রা এনে দিয়েছে গল্প বিন্যাসে। আবহ সংগীতের আবহও এক অদ্ভুত সুন্দর মূর্ছনা এনে দিয়েছে।

সময়কে ধারণ করতে ও ছবির গল্পের মেজাজ ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ‘সেট লোকেশন’। পুরো ছবিতে যা ছিল এক কথায় চমৎকার! যেখানে যেমন প্রয়োজন সেখানে ঠিক তেমন। গল্পটাকে ভীষণভাবে বিশ্বাস যোগ্য করেছে সেট নির্বাচন। মুগ্ধ হয়ে যাবার মত লোকেশন আর অনুষঙ্গ যাকে আমরা বলে থাকি ‘প্রপস’। প্রতিটি ধাপে উল্লেখ করার মত বিষয় দৃশ্যমান।

বেদনার আর সংগ্রামের গল্প হলেও ‘ফাগুণ হাওয়ায়’ যেন সাধারণ কিছু মানুষের সাধারণ জীবনের প্রেম আর যুদ্ধের গল্প যা একটি বিন্দুতে মিলে কোটি মানুষের হৃদয়ের অভিন্ন একটি চাওয়াকে প্রতনিধিত্ব করেছে।

একদিকে একটি থানায় আগত পাকিস্তানী অফিসার ইন চার্জ এর ক্ষমতা- দাম্ভিকতা- রুঢ়তা আর অন্যদিকে একটি ময়না পাখী’র কণ্ঠে বজ্র কঠিণ উচ্চারণে বাংলায় কথা বলা ‘বউ কথা কও’ প্রতি মুহূর্তে শরীরে শিহরণ খেলে যাবার মত!

টিটু রহমান এর ‘বউ কথা কও’ গল্পের নির্যাস থেকে গুণী ও অভিজ্ঞ পরিচালক তৌকীর আহমেদ এর হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া সংলাপ, চিত্রনাট্য রচনা ও নির্মাণে চলচ্চিত্র ‘ফাগুন হাওয়ায়’ দেখবার পর আমার মত অনেকেরই অনুভূতি- হলে যেয়ে সকলের দেখা উচিত ছবিটি।

নিঃসন্দেহে অনেক বেশী পরিশ্রমের একটি নির্মাণ এই ছবি। আমাদের চলচ্চিত্র সঠিক মানুষটির মেধা আর প্রজ্ঞায় কী রুপ পেতে পারে তা দেখে অনুধাবন করতে দেখুন ‘ফাগুন হাওয়ায়’।

ধন্যবাদ পরিচালক তৌকির আহমেদ। তোমার মত মেধাবীর হাত ধরে বাংলা চলচ্চিত্র আবারও তার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনবে এটাই প্রত্যাশা। ধন্যবাদ ইমপ্রেস টেলিফিল্মকে ভাষা আন্দোলনের মত একটি সিনেমা ভাষার মাসে আমাদের দর্শকদের উপহার দেয়ার জন্য। জয় হোক বাংলা চলচ্চিত্রের।

BSH
Bellow Post-Green View