চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দ্রুত কার্যকর হোক এই প্রত্যাশিত রায়

দেশব্যাপী মুক্তচিন্তার ধারক বাহকদের গুপ্ত হত্যার শিকার হতে হয়েছিল গত চার পাঁচবছর আগে। একে একে শাহবাগ আন্দোলনের ব্লগার, লেখক, এক্টিভিস্টদের চাপাতি দিয়ে খুন করা হয়েছে। বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায়কে বাংলা একাডেমির বইমেলা চত্বরে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এর আগে বাংলাদেশের অন্যতম বুদ্ধিজীবী লেখক হুমায়ুন আজাদকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। পরে তিনিও মৃত্যুবরণ করেন।

অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় তার প্রকাশক দীপনকেও নৃশংসভাবে খুন করা হয়। খুন করা হয় সিলেটের অনন্ত বিজয় রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, নাজিমউদ্দিন বাবুসহ আরও কয়েকজন মুক্ত চিন্তার লেখককে। এই ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর কেউ কেউ ধরা পড়েছে। অনেকে ধরা পড়েনি। কারো হত্যার বিচার এখনও হয়নি।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর আজিজ সুপার মার্কেটে নিজ প্রতিষ্ঠান জাগৃতি প্রকাশনীর কার্যালয়ে দীপনকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের ছেলে।

বিজ্ঞাপন

প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হকসহ ৮ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন। জিয়া ছাড়াও মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্যরা হলেন; মইনুল হাসান শামীম ওরফে সামির, আবদুর সবুর সামাদ ওরফে সুজন, খাইরুল ইসলাম ওরফে জামিল, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন, শেখ আব্দুল্লাহ ওরফে জুবায়ের এবং আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব।

আমরা আশা করবো দ্রুত এই রায় কার্যকর করে জনগনের আশা আকাঙ্খা পূরণ করা হবে। দেশের মানুষের ভেতর যে বিচারহীনহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে এক ধরণের হতাশা কাজ করছে তা কাটিয়ে তুলতে এই রায় কার্যকর এখন সময়ের দাবি। আমরা আরও আশা করি অন্য লেখকদের হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচারিক কার্যক্রম যেন দ্রুত শেষ হয় এবং এইসব ধর্মান্ধ মৌলবাদি গোষ্ঠীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়। রায় কার্যকরের মাধ্যমেই একমাত্র কঠিন বার্তা যেতে পারে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠির কাছে। নইলে তাদের বাড়বাড়ন্ত বন্ধ হবে না।

একটি গণতান্ত্রিক সুশৃঙ্খল দেশের উদাহরণ আইনের শাসনের প্রতিষ্ঠা। সমাজের সর্বস্তরে নৈরাজ্য খুন সন্ত্রাস দুর্নীতি মৌলবাদি চক্রের আস্ফালন বন্ধে এই ধরণের বিচার আরও জরুরি। এখন রায় কার্যকর করে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শান্তির অপেক্ষায় গোটা জাতি।