চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহতকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

যারা দেশের শান্তি ও অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে করে বঙ্গবন্ধুর নীতি আদর্শ ও চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে গড়ে উঠতে পারে সে জন্য সকলকে উদ্যোগী হতেও আহ্বান জানান তিনি।

সোমবার জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে মুজিববর্ষ উপলক্ষে দেয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

ভাষণে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘মুজিববর্ষ’ পালনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

করোনাভাইরাস বিশ্বমহামারী পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার এবং সরকার প্রধান শেখ হাসিনার প্রশংসা করে আবদুল হামিদ বলেন: বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস মানবসভ্যতাকে ইতিহাসের এক চরম বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়েছে। একবিংশ শতাব্দীর অপার সম্ভাবনাময় বিশ্বকে ঠেলে দিয়েছে মারাত্মক হুমকির মুখে। করোনার প্রভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে গোটা বিশ্বের অর্থনীতি, কর্মহীন হয়ে পড়েছে কোটি কোটি মানুষ। উন্নত বিশ্ব হিমশিম খাচ্ছে করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায়। বাংলাদেশও এর ব্যাতিক্রম নয়। ইতোমধ্যে করোনায় আমরা অনেককে হারিয়েছি, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন বরেণ্য রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, শিল্পী-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিৎসক, নার্সসহ নানা পেশা ও বয়সের মানুষ। করোনার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আমাদের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পসহ অর্থনীতির সকল সেক্টরে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন: ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে কোটি কোটি মানুষ। জীবনযাত্রায় নেমে আসে অচলাবস্থা। এ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩১ দফা নির্দেশনা প্রদান এবং প্রতিনিয়ত ভার্চুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন ও দিক-নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তাঁর এই সময়োচিত সাহসী সিদ্ধান্ত এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে বাংলাদেশ করোনা পরিস্থিতি সাফল্যের সাথে মোকাবেলা করে যাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তার সাহসিকতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের জন্য আমি আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

বৈশ্বিক মহামারী করোনায় প্রাণ হারানোদের স্মরণ করে সরকারের নেয়া উদ্যোগের প্রসংশা করেন তিনি। বলেন: কোভিড-১৯ এর থাবায় গোটা বিশ্ব আজ বিপর্যস্ত। ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা বারো লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আক্রান্তের সংখ্যাও প্রায় ৫ কোটি। এখনও মৃত্যু ও আক্রান্তের মিছিলে প্রতিদিনই যোগ হচ্ছে শত শত মানুষের নাম। বাংলাদেশেও করোনায় কেড়ে নিয়েছে ৬ হাজারের অধিক অমূল্য প্রাণ। আমি দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে স্মরণ করছি বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীকে, যিনি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে অপরিসীম অবদান রেখেছেন এবং আমৃত্যু বাংলাদেশের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসাবে ভূমিকা পালন করেছেন। করোনাকালে আমরা আরো হারিয়েছি সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম ও বেগম সাহারা খাতুন, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যসহ অনেক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে। এছাড়া হারিয়েছি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অবঃ) সি আর দত্ত, লেফটেনেন্ট কর্ণেল (অবঃ) আবু ওসমান চৌধুরী, বিশিষ্ট আইনজীবী ও এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং প্রখ্যাত আইনজীবী ও সাবেক এটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রফিক-উল-হকসহ শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের অনেক ব্যক্তিত্বকে। আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করছি।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাষ্ট্রপতি বলেন: ১৬ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত এদেশে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শুধু মানবিক বিবেচনায় পার্শ্ববর্তী দেশ মায়ানমার থেকে আগত প্রায় ১০ লক্ষ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এসব শরণার্থীদের নিজ দেশে সসম্মানে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ জাতিসংঘসহ বিশ্বফোরামে বারবার বিষয়টি উত্থাপন করেছে। ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর পাশবিক নির্যাতন, গণহত্যার বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতে উত্থাপিত হয়েছে এবং আদালত মিয়ানমার সরকারের প্রতি প্রাথমিক কিছু নির্দেশনা জারি করেছে। আমরা চাই বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শরণার্থীরা সসম্মানে নিজ দেশে ফিরে যাক।

এসময় বর্তমান দেশে চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তিনি বলেন:স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণ এখন সমাপ্তির পথে। মেট্রোরেলের কাজ চলছে, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে বহুলেন টানেল নির্মাণের প্রথম টানেল সমাপ্ত হয়েছে। সমগ্র বাংলাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করা হবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পর এবার ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে মাওয়া হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানের এক্সপ্রেস হাইওয়ের যুগে পা রাখল বাংলাদেশ। গত ১২ই মার্চ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে এটি উদ্বোধন করেছেন-যা জাতির জন্য মুজিবর্ষের এক অনন্য উপহার। এছাড়া দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে সূচারু ও সহজলভ্য করতে ঢাকা-চট্টগ্রাম নৌ-রুটকে কার্যকর করে তোলার জন্য বৃহৎ একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।

মৌলিক চাহিদা পূরণে দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের পাশে দাড়ালে রাজনীতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে, যা হবে মুজিবর্ষের বড় অর্জন বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ।