চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দায়িত্বটা এখন বোলারদের

ভারতকে ১৫৪ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশের

ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টিতে রাজকোটে বাংলাদেশের সংগ্রহটা মাঝারি। ব্যাটিং স্বর্গে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে মাহমুদউল্লাহেদের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১৫৩ রান।

ইনিংস শেষে নিজেদের রানের দিকে তাকালে হয়তো আফসোসই হবে ব্যাটসম্যানদের। যেরকম উইকেট ছিল রাজকোটে, আরও ২০টা রান বেশি না হওয়াটা আফসোসেরই। তার উপর নিজেদের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যের বাইরে গিয়ে একের পর এক হাস্যকর ভুল করেছেন ভারতীয় ফিল্ডাররা। টাইগাররা সেটার সুযোগ নিতে পারলেন কই? বরং মেতে উঠলেন উইকেট বিলিয়ে দেয়ার উৎসবে!

বিজ্ঞাপন

ব্যাটসম্যানরা পছন্দ মতো রান তুলতে না পারায় বাকি দায়িত্বটা সারতে হবে বোলারদের। বৃহস্পতিবারই সিরিজ জয়ের জন্য আফিফ, আমিনুল, আলামিনদের দিকে তাকিয়ে থাকবে দল।

অথচ কী দারুণ শুরুই না ছিল ব্যাটিংয়ে। দুই অধিনায়কের চাহিদা ছিল টস জিতলে আগে বোলিং করার। সেখানে জয়টা হল রোহিতের, মাহমুদউল্লাহ বাধ্য হলেন দলকে ব্যাটিং করাতে।

দীপক চাহারের করা উদ্বোধনী ওভারে আসে ছয় রান, শেষ বলে বাউন্ডারি তুলে নেন লিটন দাস। খলিল আহমেদের করা দ্বিতীয় ওভারের শুরু থেকে সপাটে পিটিয়েছেন নাঈম শেখ, প্রথম তিন বলে হাঁকিয়েছেন চার।

ওই ওভারে ১৪ রান তুলে পাওয়ার প্লেতে বড় রান সংগ্রহের ইঙ্গিত বাংলাদেশের। চাহার তার নিজের দ্বিতীয় ওভারে চার রান দিয়ে খানিকটা চাপ কমান ভারতীয় বোলারদের।

খলিল আহমেদের করা পঞ্চম ওভারে ৯ রান তুলেন লিটন-নাঈম জুটি। সেই ওভারের শেষ বলে পায়ের আঙ্গুলে ব্যথা পান লিটন।

বিজ্ঞাপন

পরপরই যুজবেন্দ্র চাহালকে উইকেট দিয়ে বসেছিলেন লিটন। ষষ্ঠ ওভারের তৃতীয় বলে বেড়িয়ে আসতে গিয়ে হন স্টাম্পড। কিন্তু টিভি রিপ্লেতে তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে সিদ্ধান্ত যেতেই ঘটে সর্বনাশ। রিপ্লেতে দেখা যায় স্টাম্প পার হওয়ার আগেই বল ধরে স্টাম্পিং করেছেন উইকেটরক্ষক রিশভ পান্ট। পরে আউটের সিদ্ধান্ত পাল্টে উল্টো নো বল ডাকেন আম্পায়ার। ফ্রি-হিটসহ টানা দুই বলে চার মেরে জবাব দেন লিটন।

ওয়াশিংটন সুন্দরের করা পরের ওভারে আবারও জীবন পান লিটন। সপ্তম ওভারের তৃতীয় বলে সুইপ করতে গিয়ে বল তুলে দেন লেগে। ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা গিয়েছিলেন, কিন্তু বল তার পিচ্ছিল হাত গলে পড়ে যায় মাটিতে।

দুবার জীবন পেয়েও অবশ্য কাজে লাগাতে পারেননি লিটন, নিজেরই ভুলে ছুঁড়ে আসেন উইকেট। চাহালের বল আঘাত হেনেছিল প্যাডে, লিটন তা দেখতে পাননি। না দেখে রান নিতে গিয়েই করেন ভুল, বল পেয়ে এবার তাকে পার পেতে দেননি রিশভ। উইকেট ভেঙে করেন রানআউট। ৪ চারে ২১ বলে ২৯ করে যান লিটন। ভাঙে ৬০ রানের উদ্বোধনী জুটি।

একাদশ ওভারে ফিরে যান লিটনের সঙ্গী নাঈম শেখও। ওয়াশিংটন সুন্দরকে স্লগ সুইপে ওভার মিডউইকেট দিয়ে বল মাঠের বাইরে পাঠাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ধরা পড়েন শ্রেয়াস আয়ারের হাতে। ৫ চারে ৩১ বলে ৩৬ করলেও বাংলাদেশ ইনিংসকে শক্ত অবস্থানে রেখে যেতে তার অবদান কম নয়।

নাঈম ফেরার পর ইনিংসে ছন্দপতন। এক ওভারে মুশফিক ও সৌম্যকে ফিরিয়ে জোড়া আঘাতে রানের গতি থামিয়ে দেন চাহাল। ১৩তম ওভারের প্রথম বলে নিজের প্রিয় স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ক্রুনাল পান্ডিয়ার হাতে ক্যাচ দিয়ে ৪ রানে ফেরেন মুশফিক।

প্রথম ম্যাচে এই ক্রুনাল পান্ডিয়াই ছেড়েছিলেন মুশির ক্যাচ, সেটাও আবার চাহালের বলেই। সেই ওভারের শেষ বলে অহেতুক উইকেট থেকে বেরিয়ে খেলতে এসে স্টাম্পড হন উইকেটে জমে যাওয়া সৌম্য, ফেরার আগে ২০ বলে করন ৩০ রান।

সৌম্য ফেরার পর একটু সাবধানী হতে চেয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ ও আফিফ হোসেন। পরের ২১ বলে আসে ২৫ রান। ১৭তম ওভারে এসে আফিফ ফিরতেই রানের গতি একদম কমে যায়। আর ১৯তম ওভারে মাহমুদউল্লাহ আউট হলে রান বাড়ানোর সম্ভাবনা মিইয়ে আসে। শেষ পাঁচ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে রান উঠেছে ৪১।

চার ওভারে ২৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন চাহাল। একটি করে উইকেটে নিয়েছেন চাহার, খলিল ও ওয়াশিংটন।

Bellow Post-Green View